উপন্যাস।। মরুঝড়।। মোহিত কামাল।। পর্ব আট

This entry is part 8 of 18 in the series মরুঝড়, মোহিত কামাল

পাঁচ

মালিকবাড়ির ওয়েটিং রুমে বসে আছে রুস্তম। নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় নয়, দুবাই-কলির ইচ্ছায় ধাপে ধাপে এগোচ্ছে সবকিছু। চিফ অফিসার নির্বাচন করেছেন ইলেকট্রিসিটির কাজে দুবাইয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রুস্তমকে। মালিককন্যার বাথরুমের লাইট জ্বলছে না। সার্কিটে গন্ডগোল হয়েছে। সমস্যা সারছে না। ঠিক করার জন্য দায়িত্ব পেয়ে খুশি হওয়ার কথা। অথচ খুশি নয় সে। উদ্বেগ যেন বেড়েই চলেছে। এই উদ্বেগের কারণ দুবাই-কলি। তাকেই কেন বাছাই করা হয়েছে, জানে সে। সার্কিটের সমস্যাটা ভুয়া। তবে সমস্যা কোথায়? কী সারাতে হবে? দুবাই-কলির বেপরোয়া কথা মনে পড়ছে—‘আমার দিকে তাকালে চিফ অফিসার আপনার বিরুদ্ধে নালিশ করবেন। আর না তাকালে আমি অপমানবোধ করব। কষ্ট পাব। আরেকটু বাড়িয়ে বাবাকে বলব, আপনি আমার সঙ্গে…করার চেষ্টা করেছেন। কিংবা বলেই বসতে পারি, জোর করে আমাকে…করেছেন। বুঝলেন?’ কথাটা মাথায় আসার সঙ্গে সঙ্গে কপালে ঘাম জমে গেছে। বুকেও চাপ অনুভব করছে। এমন লাগছে কেন? ওয়েটিং রুমে কি এয়ারকুলার চলছে না? এদিক-ওদিক তাকিয়ে বুঝল, এয়ারকুলার চলছে। তবু ঘামছে কেন?

সাইডিং ডোর ঠেলে এ সময় রুমে ঢুকল কালো আবায়ার (বোরকা) আড়ালে ঢাকা দুই মেয়ে। গাউন প্যাটার্নের লম্বা ঢিলেঢালা আবায়ার সঙ্গে ম্যাচিং করে ওরা পরেছে হিজাব। দুবাই নারীরা একঘেয়ে ফ্যাশনের এই ক্যাজুয়াল ড্রেস পরে আরামবোধ করে, স্বচ্ছন্দে কাজও করতে পারে। সাধারণত শেখ পরিবারের মেয়েরা এ ধরনের ড্রেস পরে না। ড্রেস দেখে বুঝল হাউজ গভর্নেস কিংবা নারী কেয়ারটেকাররা এসেছে তাকে ভেতরে নিয়ে যেতে। এর আগেও এমনটি ঘটেছে। অন্দরমহলে পুরুষ কেউ থাকে না। নারীস্থানের মতো নারী দ্বারা পরিচালিত অন্দরমহলের প্রতিটি করিডরে সিসি ক্যামেরা থাকে—এসব জানে রুস্তম। তবে বেডরুমে কোনো ক্যামেরা থাকে না। ওয়েটিং রুমে ক্যামেরা থাকতে পারে ভেবে আগত দুই নারীর চোখের দিকে না তাকিয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল।

একজন বলল, ‘চলুন। মাথা নিচু করে থাকতে হবে না। মাথা তুলুন। আসুন আমাদের সঙ্গে।’

লম্বা মেয়েটির কথা শুনে উঠে দাঁড়াল রুস্তম। ওয়েটিং রুম থেকে বেরিয়ে পা বাড়াল সামনে। সুড়ঙ্গের মতো একটা পথের দিকে এগিয়ে গেল ওরা। আলো-ঝলমলে পথের দেয়ালজুড়ে রয়েছে লুকিং গ্লাস। সেন্ট্রাল এয়ারকুলার চলছে। ঝকঝকে ফ্লোরের ওপর দিয়ে পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের মেয়েদুটি। আবায়ার আড়ালে ঢাকা ওদের দেহের গড়ন বোঝা যাচ্ছে না। তবে একজন লম্বা, একজন বেঁটে। লম্বাজনই কথা বলছে বেশি। নিজেকে এখন আর দরিদ্র মনে হচ্ছে না। বাংলাদেশের মিসকিন মনে হচ্ছে না। মহাবীর রুস্তমের মতোই মনে হচ্ছে। দৃপ্তপায়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় দুপাশে তাকিয়ে দেখল, গ্লাসের ভেতর দিয়েও এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিফলিত দুই রুস্তম। এরই মধ্যে সৌদি কাপড়ের জৌলুসে নিজের পোশাকের দীনতা কমেছে। শার্ট-প্যান্ট পরা থাকলেও নিজের স্বাতন্ত্র্য ক্ষমতা টের পাচ্ছে। লম্বা মেয়েটি হাঁটার গতি কমিয়ে রুস্তমের পাশাপাশি এসে বলল, ‘এখানে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ মনিটরিং হচ্ছে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে। তবে কথা শোনা যাবে না বাইরে। অন্দরমহলের করিডরে থাকলেও ভেতরে সিসি ক্যামেরা নেই। বুঝেছেন?’

‘জি। বুঝেছি। এ বাড়িতে আগেও এসেছি। তবে অন্দরমহলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। এবারই প্রথম যাচ্ছি।’

‘মূল মহলে ঢুকতে হলে আপনাকে ড্রেস চেঞ্জ করতে হবে। বাইরের ড্রেস পরে ভেতরে যাওয়া নিষেধ।’

‘কেন, নিষেধ কেন?’ জানতে চাইল রুস্তম।

‘খোলা মাঠেময়দানে কাজ করেন। ঘুরে বেড়ান আপনারা। বাইরের পোশাকে লেগে থাকা ধূলিকণা, রোগজীবাণু ঢুকে যেতে পারে অন্দরমহলে। সাবধানতার জন্যই এ ব্যবস্থা।’

‘পুরুষমানুষ কি অন্দরমহলে প্রবেশ করে না? সব পুরুষের জন্য কি একই ব্যবস্থা?’

‘পুরুষ প্রবেশ না করলে নারীদের চলে?’ বলেই খিলখিল করে হেসে উঠল মেয়েটি।

বেঁটে মেয়েটি লম্বা মেয়েটির হাতে চিমটি দিয়ে বলল, ‘হেসো না। পরপুরুষের সঙ্গে তোমার হাসির ভঙ্গিমা মনিটরিং সেলের পর্দায় ফুটে উঠবে।’

সাবধানবাণী শুনে ঘাবড়ে গেল রুস্তম। পালটা প্রশ্ন করার ইচ্ছাটাও থেমে গেল। লম্বা মেয়েটিও গম্ভীর হয়ে বলল, ‘ওঃ! ভুলেই গিয়েছিলাম। অনেক দিন পর একজন পুরুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে অন্দরমহলের আইন-নিষেধাজ্ঞার কথা চাপা পড়ে গিয়েছিল মগজে।’

আইনের সামান্য বিচ্যুতিতে এ দেশে ঘটতে পারে ভয়াবহ দণ্ড—কথাটা মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝলমল করা রুস্তমের মুখে মলিন ছায়া ভেসে উঠল।

সুড়ঙ্গপথের দেয়ালে প্রতিফলিত প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে দৃশ্যটি টের পেল বেঁটে মেয়েটি। ইলেকট্রিসিটি সমস্যা সমাধানের জন্য টেকনিশিয়ান হিসেবে ঢুকলেও আগত পুরুষমানুষটি অন্দরমহলে একজন মেহমান। এ ধরনের মূল্যবোধই কাজ করে আভিজাত্যে ভরা অন্দরমহলের নারী সার্ভেন্টস কিংবা কেয়ারটেকারদের মধ্যে। নিজেদের আবেগ-অনুভূতি বলে কিছু থাকতে নেই─ এই বোধ নিয়ে আইনকানুন মেনে চলতে হয়। অন্দরমহলের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হয়। মালিকপক্ষের স্ত্রী-কন্যার সুখ-সুবিধার দিকে নজর রাখতে হয়। রোবটের মতো জীবনযাপনে এখানে এর বাইরে কোনো চাহিদা নেই তাদের। তবু রুস্তমের মলিনমুখ দেখে রোবট মনের ভেতর থেকে ঠেলে বেরিয়ে এলো নরম মন। ‘পুরুষমানুষ কি অন্দরমহলে প্রবেশ করে না? সব পুরুষের জন্য কি একই ব্যবস্থা?’—এ প্রশ্নের সঠিক জবাব না পেলে মেহমান অপমানবোধ করতে পারেন। যত ছোটো কর্মচারী হোক না কেন, কাউকে অপমান করার অধিকার তাদের নেই ভেবে বেঁটে মেয়েটি বলল, ‘আপনার প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, সম্পর্কে অনুমোদন আছে, এমন পুরুষরা অন্দরমহলে ঢুকতে পারেন। তবে বাইরে থেকে এলে তাদেরও পোশাক বদলে নিতে হয়। বাড়ির ক্যাম্পাসে থাকলে বদলানোর প্রয়োজন হয় না। ঘরোয়া পোশাক পরে অন্দরমহলে যাওয়া-আসা করেন তারা।’

রুস্তম ভাবল, ওঃ! তাহলে তো নিজেকে তুচ্ছ ভাবার কিছু নেই। পোশাক পরিবর্তনের জন্য অপমানবোধ করারও সুযোগ নেই।

‘আগে এ বাড়িতে এলেও, অন্দরমহলে ঢোকার সুযোগ এবারই প্রথম পেলাম। তাই এসব তথ্য আমার জানা দরকার ছিল।’ বলল রুস্তম।

বেঁটে মেয়েটি আবার বলল, ‘আপনি সৌভাগ্যবান!’

‘সৌভাগ্যবান বলছেন কেন?’

‘যে রুমে কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন, কিংবা যার কাজ করার সম্মান অর্জন করেছেন, সে ঘরে থাকেন এ বাড়ির ছোটো মেয়ে। সে সবার আদরের। ফুলের চেয়েও সুন্দর ফুল, ফুলকুঁড়ি কিংবা কলি। আমাদের কলি। আমরা দুজনে তার সেবায় নিয়োজিত থাকি। তার ইচ্ছায় আপনাকে বাছাই করা হয়েছে। এই দুর্লভ সম্মান অর্জন করেছেন আপনি। কীভাবে করলেন?’

‘ওঃ!’ এটুকু শব্দ উচ্চারণ করে থেমে গেল রুস্তম। কীভাবে অর্জন করল, তা এড়িয়ে গিয়ে ভাবল, দুবাই-কলি তাহলে মিথ্যা বলেনি! কিশোরীটির কথা ভেবে মন নরম হলেও, মনের পর্দায় ভেসে উঠল স্ত্রীর মুখ। তার স্ত্রী কলি কি মিথ্যা বলতে পারে? শৌর্যের সঙ্গে কি ওর কোনো হৃদ্যতা গড়ে ওঠেনি? সম্ভব? মাথা ঝাঁকিয়ে উড়িয়ে দিতে চাইল ভাবনাটি। পারল না। আরও জোরে গেড়ে বসল ভাবনার শিকড়। শিকড়ের টানে থেমে যেতে চাইলেও সামনে এগোনো পায়ের গতি থামল না। মনের শুদ্ধতর ঐশ্বর্য নিয়ে নির্ভরতার হাত দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইল মলিন ভাবনার জঞ্জাল। বুকে বুনে নিল জ্বলে ওঠার বজ্র-বীজ। সামনে এসে দাঁড়ানো পাহাড়সমান সম্ভাবনার উঁচু মিনার দেখতে পেল রুস্তম। ওই মিনারে দাঁড়িয়ে ধুয়ে নেবে নিজস্ব দীনতা। এসব ভেবে এগোতে থাকল দৃপ্তপায়ে। বধূ কলির জন্য হাহাকার জেগে উঠলেও এ মুহূর্তে পুরো সত্তা দখল করে নিল দুবাই-কলি। আলো-ঝলমলে সুড়ঙ্গপথ পেরিয়ে ঢুকে গেল অন্দরমহলের করিডরে। লম্বা করিডরের দুপাশে খোলা প্রাঙ্গণ। ময়দানের মতো বিরাট প্রাঙ্গণের চারপাশজুড়ে রয়েছে খেজুরগাছের সারি। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে হলদে রঙের খেজুরের ঝাড়। মাটি থেকে কাণ্ডের উচ্চতা তিন-চার ফুট হবে। খেজুরের মাথার ঝাঁকড়া পাতা চারপাশে বাহু বিস্তার করেছে সাগরপাড়ে বিশ্রামের জন্য বসানো খোলা ছাতার মতো। গাছে গাছে পানি সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও ময়দানের সেন্টারে রয়েছে ঝরনাধারা। পানিপ্রবাহ আকাশের দিকে অন্তত পঞ্চাশ ফুট উপরে উঠে খোলা ছাতার মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে চারপাশে। জলের ছাট এসে লাগছে করিডরেও। এত বিস্তীর্ণ হতে পারে কোনো অন্দরমহলের খোলা স্পেস! ধারণার বাইরে ছিল। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। মরুর মেয়েরা অন্দরমহলে অন্তরিন থাকলেও অবরুদ্ধ বলা যায় না তাদের। ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ানো ও বিনোদনের নানা উপকরণ ছড়িয়ে আছে পুরো প্রাঙ্গণে। অন্তঃপুরের ময়দানে যেমন কড়া রোদ দেখা যাবে, তেমনি দেখা যাবে ভরাট পূর্ণিমার পূর্ণ জোছনা। দিনের আলোতে জোছনার বদলে দেখল মুসলিম ফ্যাশনের আধুনিক ডিজাইনের পোশাক পরা অপূর্ব এক কিশোরীকে। বাইরে বেরোনোর জন্য যে পোশাক পরে সেরকম নয়, বরং অন্তঃপুরে অনেক সহজ পোশাক। দেখল, কিশোরী কলির খোলা মুখের ত্বক চুয়ে বেরোচ্ছে জোছনা। তার হাসিটি শুধু ঠোঁটেই লেগে নেই, ছড়িয়ে গেছে পুরো মুখে, দেহভঙ্গিমায়। চোখও হাসছে। মুখ খোলা থাকলেও কালো রঙের স্কার্ফের একটি অংশ মাথার ডান পাশ ঘুরে ছড়িয়ে আছে বুকের ডান পাশে। মনে হচ্ছে কালো চুলের ছড়ানো একটা বেণি টেনে নামিয়ে দিয়েছে বুকের ওপর। পরনে লুজ ফিটিঙের বেগুনি রঙের শর্ট কামিজ। বেল্টের মতো একটা ফিতা কোমরে পেঁচিয়ে পেটের মাঝ বরাবর গিঁট দিয়ে ফিতার বাড়তি অংশ ঝুলিয়ে রেখেছে সামনেÑ দুই ঊরুর মাঝ দিয়ে নেমে এসেছে বেল্টের নিচের প্রান্ত। কালো রঙের টাইট ট্রাউজার আর কালো হাইহিল পরে সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েটি বলল, আসসালামু আলাইকুম।

পরির মতো মেয়েটির কণ্ঠস্বর চিনতে পারল রুস্তম। মসজিদ-প্রাঙ্গণে কেবল চোখ দেখার সুযোগ ঘটলেও এ মুহূর্তে মুখ আর দেহের বাঁকগুলো দেখে মনে পড়ে গেল বাড়িতে রেখে আসা নববধূর কথা। শাড়ি পরা বাংলাদেশের কলি আর এই কলির মধ্যে দুস্তর ব্যবধান থাকলেও মুখের লাবণ্য ও দেহকাঠামো একইরকম টানটান। নতুন ভাবনার কারণে মুখের অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠা ম্লানতা আচমকা সরে গেল। স্পষ্ট স্বরে কলি প্রশ্ন করল, ‘আমি কলি। সালাম করেছি। জবাব পাইনি। জবাব দেবেন না? ঘাবড়ে গেছেন?’

রুস্তম বলল, ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম।’

কলি বলল, ‘অন্দরমহল-প্রাঙ্গণে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।’

এক নগণ্য কর্মচারীকে স্বাগত জানাতে এসেছে এই স্বর্গীয় অপ্সরা! বিশ্বাস করতে দ্বিধা হলেও বাস্তবে দেখল, আসলেই তাই ঘটছে। কলি আর থেমে থাকেনি। স্বাগত জানিয়ে চট করে দেহ বাঁকিয়ে হাঁটতে শুরু করল উলটো দিকে। কলির পেছনের দেহকাঠামোর দিকে একঝলক তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল রুস্তম। ইতোমধ্যে রুস্তম জেনেছে, মুসলিম ফ্যাশনের নির্দিষ্ট ডিজাইন ও স্টাইল থাকলেও মেয়েদের ড্রেসের রয়েছে ভিন্নতা এবং তিনটি সীমাবদ্ধতা:

প্রথম সীমাবদ্ধতা  হলো পোশাকের প্যাটার্ন ও স্টাইলিং—পা পর্যন্ত লম্বা ও লুজ ফিটিং ড্রেসে দেহকাঠামো বা ফিগার স্পষ্ট ফুটে উঠতে পারবে না। এই রীতি পুরোপুরি পালন করা হয়নি। কলির দেহকাঠামো অনেকটাই ফুটে উঠেছে।

দ্বিতীয় সীমাবদ্ধতার কথাও জানে রুস্তমÑ ফ্যাব্রিকেশন: কাপড় হতে হবে ভারী, স্বচ্ছ নয়। কলির এই পোশাকের ফ্যাব্রিকেশনে বজায় রয়েছে সেই সীমাবদ্ধতা।

তৃতীয় সীমাবদ্ধতা হলো রং নির্বাচন—গাঢ় বা নিউট্রাল রঙের ব্যবহার চলবে না। উজ্জ্বল বা বাড়তি আকর্ষণ করবে, এমন রঙের ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়ার বিধান থাকলেও নিয়মটি মানা হয়নি।

নিয়মের শৃঙ্খলে বাঁধা থেকে নিয়ম ভেঙে চলতে পারে যে মেয়ে, সে তো সাহসী হবেই, ধরে নিল রুস্তম। সাহসী মেয়েটির চোখে কী ধরা পড়েছে? এত ছোটো কর্মচারীকে কাছে ডেকে কী বোঝাতে চায় এই মেয়ে, বুঝে উঠতে পারছে না রুস্তম। এমন স্বপ্নময় ঘোরের মধ্যেও বাস্তবতা ভুলে যায়নি ভেবে মনে মনে স্বস্তি পেল সে।

ড্রেসিংরুমে ঢুকে পুরুষের জন্য ব্যবহারের একটা সাদা আলখাল্লা পরে স্লিপার পায়ে নিজের হাতের যন্ত্রপাতির ব্যাগটা আলাদা একটা ব্যাগে ভরে নিল। লম্বা কেয়ারটেকার মেয়েটির সঙ্গে কলির পেছন পেছন করিডর ধরে এগিয়ে যেতে লাগল রুস্তম। নিজের জন্মের ব্লু-প্রিন্ট দেশের সবুজ মাটিতে রেখে এলেও বুকের ঘরে বসে যাচ্ছে নতুন ছাপ। নতুন জীবনের ব্লু-প্রিন্ট কি নির্মিত হচ্ছে? নাকি খসে যাচ্ছে পুরোনো ব্লু-প্রিন্টের প্রতিটি রেখাচিত্র?

পানির তৃষ্ণা বেড়ে গেছে রুস্তমের। এ অবস্থায় গলা শুকিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু শুকাচ্ছে না। তবে প্রবল তৃষ্ণায় কাতরাচ্ছে মন। কামনার  জলে কি মিটে যাচ্ছে পানির তৃষ্ণা!

পকেটে ভাইব্রেশনে রাখা মোবাইল ফোনসেটের কম্পনে ডান হাত ঢুকে গেল পকেটে। সেট বের করে মনিটর দেখে চমকে উঠল। দেশের কলি ফোন করেছে! হতবিহ্বল রুস্তম মনিটরের দিকে তাকিয়ে সেট হাতে এগিয়ে যাচ্ছে সামনে। অ্যাটেন্ড করবে কি করবে না, ভাবতে ভাবতেই শেষ হয়ে গেল ভাইব্রেশন।

হাঁটার গতি তবু থামল না। আবার কি কল আসবে? কল এলে কি ধরবে─ ভাবতে ভাবতে কিশোরীর রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। খোলা দরজার পর প্রশস্ত একটা ফাঁকা স্পেস। এরপর রয়েছে আরেকটি দরজা। ওই দরজায় দাঁড়িয়ে হাসছে দুবাই-কলি! আশ্চর্য! এই কলির মাথায় স্কার্ফ নেই! ওর মুখে যেন বসানো আছে দেশের কলির মুখ! রুস্তম হতবিহ্বল! কিংকর্তব্যবিমূঢ়!

দুবাই-কলিই ভাঙল বিমূঢ় অবস্থা। বলল, ‘ওখানে নয়, ভেতরে আসুন। বেডরুম-সংলগ্ন বাথরুম ওই পাশে। বেডরুম অতিক্রম করে যেতে হবে সেখানে। বাথরুমের বাল্ব জ্বলছে না। আপনার কাজ বাল্ব জ্বালানো। ঠিক না করলে ছাড়া পাবেন না। এই মুহূর্তে আমার রাজ্যে ঢুকে পড়েছেন। এখানকার বাদশাহ নামদার এখন আমি। আমার হুকুম ছাড়া কিছুই ঘটবে না। বাইরে থেকে কেউ বেডরুম মনিটর করবে না। কেয়ারটেকাররাও ঢুকবে না। সিসি ক্যামেরাও নেই। শব্দ ধারণ করার জন্য ওত পেতে নেই কোনো রেকর্ডিং সিস্টেম। আপনি কি বুঝতে পারছেন?’

তৃষ্ণায় কাতর জলের মাছ ডাঙায়ও পেয়ে গেল তৃষ্ণা মেটানোর সাহস। দুর্ধর্ষ তাড়না টের পেল। এই দুর্বিনীত সময়েও আবার কেঁপে উঠল মুঠোফোন।

মনিটরের দিকে তাকিয়ে দেখল, আবার কল করেছে দেশের কলি।

এটা কীসের সিগন্যাল? প্রশ্নের তীব্র টানে বুকের মধ্যে জেগে উঠল তপ্ত মরুর বালিময় চর। মুখের পেশিতে ভেসে উঠল আতঙ্কের ঝড়।

দুবাই-কলি নির্দেশ দিলো, ‘বারবার মুঠোফোন দেখছেন কেন? রিংটোন তো বাজতে শুনলাম না? সাইলেন্ট করে রেখেছেন?’

‘না। সাইলেন্ট নয়, ভাইব্রেশনে আছে সেট।’

‘ভাইব্রেশনেও তো শব্দ হয়।’

‘হ্যাঁ। ভাইব্রেট হয়েছে। এখনো হচ্ছে!’

দুবাই-কলি নির্দেশ দিলো, ‘দরজা থেকে ভেতরে ঢুকুন, আমার নাগালে আসুন। সেটটি দেন আমার হাতে। দেখি কে কল করেছে?’

চট করে সেট পকেটে চালান করে দিয়ে রুস্তম বলল, ‘থাক। দেখতে হবে না।’

‘শুনুন বাংলাদেশের রুস্তম। এই মুহূর্তের বাদশাহ নামদার ইচ্ছা করেছে সেট দেখার─ কে কল করেছে, জানার আগ্রহ দেখিয়েছে। তার ইচ্ছা অপূর্ণ করলে কী সাজা হতে পারে, জানেন?’

দুম করে যেন আকাশ থেকে ভূপাতিত হলো রুস্তম। আইন অমান্য মানেই ভয়ংকর শাস্তি— কথাটা মনে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাটির টান খেলো। এবার তৃষ্ণায় নয়, ভয়ে শুকিয়ে গেল গলা। নিজের নৈতিকতার দেয়ালে ফাটল টের পেল। এই ফাটল দিয়ে ঢুকে যেতে পারে কোনো সিঁধেল চোর। নিদেনপক্ষে কোনো তুচ্ছ পোকামাকড় কিংবা মাছির দল। দুর্বল করে দেবে কি দৃঢ়তার ভিত?

‘আপনি ভয় পাচ্ছেন। ভীত মানুষ দেখতে চাই না। দেখতে চাই সাহসী পুরুষকে। বুঝেছেন?’

কথা ও প্রশ্ন শুনে ভীতি আরও বেড়ে গেল, পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল রুস্তম।

‘আমার ইচ্ছাপূরণ হচ্ছে না। সহজ হন। ইচ্ছাপূরণ করুন।’

নিজের মুঠোফোন রুস্তম তুলে দিলো দুবাই-কলির হাতে।

সেট হাতে নিয়ে দুবাই-কলি বলল, ‘এখন তো কাঁপছে না সেট!’

‘কেঁপেছিল। আবার কল এলে কাঁপবে?’

‘দেখি, কললিস্ট দেখার জন্য মিসকল অপশনে গিয়ে কলি দেখল, কোনো কল আসেনি আজ। ভালো করে যাচাই করে আবার বলল, ‘না। কোনো কল বা মিসকলের প্রমাণ নেই।’

সেট হাতে পেয়ে অবাক হয়ে গেল রুস্তম। সত্যি সত্যি কললিস্টে কোনো কলই আসেনি আজকের তারিখে! ভয় পেয়ে গেল। অদৃশ্য কোনো ক্ষমতা কি আছে তার নববধূর? অতিপ্রাকৃত বা অতীন্দ্রিয় কোনো ক্ষমতার বলে কি দেশের কলি টের পেয়ে যায় দুবাই-কলির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ বা কথোপকথনের খবর! কোত্থেকে আসে এমন সংকেত!

দুবাই-কলি বলল, ‘বাংলাদেশের রুস্তম! আপনি ভয় পাচ্ছেন। ভয় পেয়ে বিভ্রমে গেছেন। কেউ শাস্তি দেবে না, আপনার নামে বদনাম গাইবারও কোনো লোক নেই অন্দরমহলে। কর্তৃত্বপ্রবণ পুরুষ গার্জেনের কাছ থেকে এ বাড়িতে ঢোকার আইনগত অনুমোদন পেয়েছেন, এখন আমার নিয়ন্ত্রণে আপনি। ভেতরে ঢুকুন।’

কণ্ঠে সংগত নির্দেশ থাকলেও কমান্ডের মধ্যে অন্যরকম একটা কিছু টের পেল রুস্তম। সাধারণত দুবাই এসে এ ধরনের সুর পাওয়া যায় না। এই সুরের মধ্যে ভালোলাগার বিষয় জড়িত আছে─ এসব ব্যাপারে অনভিজ্ঞ হলেও সহজে বুঝতে পারল, মেয়েটির নির্মম ও সাহসী টোনের মধ্যে লুকিয়ে আছে কৌতূহলী আরেক কলি। সে-ই কলিকে আবিষ্কার করে অন্দরমহলের ভেতর চোখ বোলাতে লাগল। এর আগে মসজিদের কাজে ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের ফিনিশিং টাচের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। তাই অনেকগুলো টার্মের সঙ্গে পরিচিতি রয়েছে।

ভিজুয়াল রেফারেন্স কাকে বলে টের পেল। স্টোন ফিনিশ্ড টাইল ও পলিশ্ড উডের ব্যবহারের কারণে ফ্লোর থেকে পাওয়া যাচ্ছে ওল্ড ওয়ার্ল্ড এবং রাস্টিক ফিল। ওয়াল পেইন্ট হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে ওল্ডফিল। টেক্সর্চাড ওয়াল পেইন্টে ডান পাশটায় রয়েছে মাটিলেপা দেয়ালের অনুভব। দেয়ালজুড়ে রয়েছে ওয়াল আর্ট। দুবাই-কলিকে ভুলে মুগ্ধ হয়ে দেয়ালের আর্ট দেখতে লাগল রুস্তম।

দুবাই-কলি বলল, পরিবারের সবাই বলে, ‘আমি হচ্ছি স্বর্গ থেকে নেমে আসা অতিমানবী— অপ্সরী। আমাকে দেখে চোখ ফেরাতে পারে না কেউ। আপনি পারছেন!’

রুস্তম বুঝল, ‘মিথ্যা বলেনি মেয়েটি। স্বর্গের পরি কেমন দেখতে, জানা নেই। তবে অনুভব করল, স্বর্গে যদি এমন পরি থাকে, তবে স্বর্গে তাকে পাওয়ার জন্যই নৈতিক শক্তিতে বলবান হতে হবে। নিয়ন্ত্রণ হারালে চলবে না।’ ভেবে বলল, ‘স্বর্গের পরির চেয়েও সুন্দর আপনি!’

‘বাঃ! মুখে দেখছি কথা ফুটছে! স্বর্গের পরি দেখেননি, তবু তুলনা করলেন! ভালো লাগল কথাটি শুনে।’

রুস্তম জবাব দিলো না। বেডরুমের প্রতিটি অনুষঙ্গে চোখ বোলাতে লাগল—বিশেষ করে ওয়াল আর্ট থেকে চোখ ফেরাতে পারছে না। সঙ্গে উডেন ফার্নিচার ও আপহোলস্ট্রির ফ্যাব্রিকে ন্যাচারাল টাচ দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে।

‘শুনুন, মাটির মানুষ! স্বর্গে যাওয়ার আগে যেতে হবে সাড়ে তিন হাত ভূমির বাসঘরে। জানেন?’

‘জানি।’

‘এ ঘরের আয়তন সাড়ে তিন হাত নয়, বিশাল। তবে দেয়ালে মাটির অনুভব জুড়ে দেওয়ার কারণে সব সময় মনে করার সুযোগ রয়েছে, সাড়ে তিন হাত ভূমিতেই আমার বাস। মানেন?’

‘মানি।’

‘গুড। তাহলে ভয়ের কিছু নেই। মাটির মানুষ মাটির ঘরেই ঢুকেছেন, ভেবে নিন।’

‘ভেবে নিলাম।’

‘কখনো কোনো পুরুষ আমার বেডরুমে ঢোকেনি। আপনিই প্রথম এলেন।’

সাহসের সঙ্গে রুস্তম জবাব দিলো, ‘কথাটা ঠিক বলেননি। পুরুষমানুষ অবশ্যই ঢুকেছে।’

এ ধরনের বাধা সাধারণত পায় না দুবাই-কলি। সে যা বলে, চারপাশের সবাই মেনে নেয় তার কথা। অথচ রুস্তমই এর ব্যতিক্রম। দপ করে ফুলে উঠল কপালের শিরা। দাম্ভিক চোখ তুলে প্রশ্ন করল, ‘কী বলছেন? ভুল কোথায় পেলেন কথায়?’

‘ভুল বলেছেন, কারণ শুধু নির্মাণই করেনি, ইন্টেরিয়র ডিজাইন কিংবা ঘরের ফিনিশিং কাজও করেছে আমার মতো কোনো পুরুষ শ্রমিক। ফিনিশ্ড কাজ পরিদর্শন করেছেন এ বাড়ির সর্বোচ্চ কর্তৃত্ববান পুরুষ। তারপরই কন্ট্রাক্টর বিল পেয়েছেন, ঠিক না?’

‘না। ঠিক না। আমার কথাই ঠিক। নির্মাণ শ্রমিকরা পুরুষ নয়, তারা কেবল শ্রমিক। শ্রমিকরা দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বাড়ির সর্বোচ্চ কর্তৃত্ববান পুরুষ আমার বাবা। পুরুষচরিত্র এখানে অনুপস্থিত। বাবাসত্তায় পুরুষসত্তার আগমন ঘটে না। শ্রমিক কিংবা ইঞ্জিনিয়াররাও পুরুষ নয়। নির্মাতা। পুরুষসত্তা আলাদা, জানেন না আপনি?’

‘মানে?’

‘মানে সহজ। আপনিই একজন আলাদা পুরুষ। ইচ্ছা করলে এই নিভৃত ঘরে আক্রমণ করতে পারেন নারীসত্তায়। তুলে নিতে পারেন পুরুষসত্তার গৌরব।’ কথাটা বলেই খিলখিল করে হাসতে হাসতে কোমরের ওপর শরীরের উপরের অংশ বাঁকিয়ে প্রায় নব্বই ডিগ্রি অবস্থানে এনে আবার সোজা হয়ে দাঁড়াল দুবাই-কলি।

নিভে গেল চোখের আলো। অনুভব করল ঘুটঘুটে আঁধারে সামনে দাঁড়িয়ে আছে ত্রয়োদশী এক জল্লাদ। হাতে তুলে ধরেছে নাঙ্গা তলোয়ার। মনে হলো নিজের মাথা-ঘাড়ে কালো কাপড় মোড়ানো, হাত পেছনে বাঁধা, গোড়ালিও শক্ত শিকলে মোড়ানো, হাঁটু গেড়ে বসা ঘাড়ে যে-কোনো মুহূর্তে কোপ এসে পড়বে, ধড় থেকে আলাদা হয়ে যাবে শির। শেষমুহূর্তের জন্য কল্পচোখে ভেসে উঠল মায়ের মুখ। দেশের কলির মুখ স্মরণ করতে চাইল। স্মরণ করতে পারল না। মনে হলো চাচাতো ভাই শৌর্যের দেহের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে তার স্ত্রী। বুকের ব্যথাটা বেড়ে গেল। চিনচিন ব্যথা খুলে দিলো বাস্তবের চোখ। কল্পলোক থেকে ফিরে দেখল দুবাই-কলি এখনো হাসছে। অট্টহাসি নয়। মৃদু হাসি ফুটে আছে দেহভঙ্গিমায়। দেহের ভাষায় ধেয়ে এসেছে আদিম জোয়ার। জোয়ার কি সামাল দিতে পারছে না দুবাই-কলি? প্রশ্নের সঙ্গে পালটা প্রশ্ন এসে বাড়ি খেলো, কোনো বিভ্রমে ডুবে যাইনি তো আবার? বড়ো করে শ্বাস টেনে বুক ফুলিয়ে বাতাস ছেড়ে নিজেকে দৃঢ় করে রুস্তম প্রশ্ন করল, ‘এত ছোটো মেয়ে আপনি, এতসব ভারী ভারী কথা শিখলেন কীভাবে?’

‘শিখতে হয় না, প্রকৃতিই শিখিয়ে দেয় সব। যেমন আমার মিনস শুরু হয়ে গেছে, প্রায় সাত মাস হতে চলল। অথচ এ বাড়ির কর্তৃত্ববান পুরুষরা সে খবর জানে না। জানলে ভাববে, বিয়ে দেওয়ার উপযুক্ত হয়ে গেছি। বিয়ের ব্যবস্থা হবে কোনো ধনবান আমিরের সঙ্গে। আমিরের বয়স কত, আমার পছন্দ হলো কি হলো না, আমিরের আগের কয়টা বউ আছে, সেসব ভাববেন না কেউ। যত দ্রুত সম্ভব ঘর থেকে বিদায় করবেন আমাকে! এই ট্র্যাডিশনের জন্য আমার কাজিন ভেগে গেছে বাংলাদেশের এক রুস্তমের সঙ্গে। আমার কাছে এসেছেন আপনি। এখন নিশ্চয় কড়া নজরে রাখবে আপনাকে। ওরা ভাববে, একই কাণ্ড ঘটাতে পারি আমিও। কী বলেন, পারি? তেমন মনে হয় আমাকে?’

‘সে সাহস আছে আপনার। তবে নিশ্চিত, আমার মতো ছা-পোষা কাউকে নিয়ে পালানোর ইচ্ছা হবে না। রুচিতে বাঁধবে আপনার।’

‘ছুহ্! এ কারণেই তো আপনাদের মিসকিন বলি, বলতে বাধ্য হই। এত হীনম্মন্য ভাববেন কেন নিজেকে। ঠিকই ধরেছেন, আপনাকে নিয়ে ভাগব না আমি। ভাগার পরিকল্পনা নেই। তবে আপনাকে প্রয়োজন রয়েছে। বুঝেছেন?’

‘কী প্রয়োজন?’ ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল রুস্তম।

‘সেটা পরে টের পাবেন। তবে অবাধ্য হবেন না। যা বলি, পালন করবেন, শুনবেন। বুঝেছেন?’

উত্তর দিলো না রুস্তম। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।

Series Navigation<< উপন্যাস।। মরুঝড়।। মোহিত কামাল ।। পর্ব সাতউপন্যাস।। মরুঝড়।। মোহিত কামাল।। পর্ব নয় >>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *