রম্যগল্প।। টি-শার্ট।। কমলেশ রায়

বাহ্ , বেশ তো ! আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল।
কোনটা বেশ ? ভ্রু নাচিয়ে চোখ পাকিয়ে সুদর্শনা প্রশ্নবাণ ছুঁড়ল। এখানে, মানে এই শুরুতেই বলে রাখা ভালো তরুনীটি সম্পর্কে আমার শ্যালিকা। একমাত্র, এবং অবশ্যই নিজের বৈবাহিক সূত্রে। এই সেরেছে। বোকার মতো কথাটা না বললেই পারতাম। কী ভাবতে কী ভেবেছে। তাই ঝটপট বললাম, ‘তোমার টি-শার্ট।’ তাও ভালো। যেভাবে তাকিয়ে ছিলে আমি তো ভাবলাম অন্যকিছু।’ শ্যালিকার ঠোঁটে রহস্যের হাসি। ‘তোমার টি-শার্টটার নকশাটা সুন্দর। আলপনার মতো কাজটা নিচ থেকে উঠে কাঁধের কাছটায় কেমন ছড়িয়ে গেছে। ’ আমি মুগ্ধ চোখে তাকানোর পক্ষে যুক্তি দেখালাম। আমি সের তো তরুনী সোয়া সের। আমি এক কিলো তো শ্যালিকা সোয়া কিলো। আপন বউয়ের সহোদরা বলে কথা। যে বোনের ছোটবোন তাতে সে খাপখোলা তরোয়ালের মতো কথা বলবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। বড় বোনের সবকিছু যেন নিক্তি মেপে পেয়েছে। ডাগর চোখ দুটোর দৃষ্টি আমার চোখে-মুখে টর্চলাইটের মতো নিক্ষেপ করে খানিকক্ষণ সে মিটিমিটি হাসল। তারপর কেমন এক জড়ানো গলায় টেনে টেনে বলল, ‘আমি তো ভেবেছিলাম অন্যকিছুর সৌন্দর্যে তোমার চোখ আটকে গেছে। আর মুখ থেকে তারই প্রশংসাবাণী ঝরছে। ’এরপর কোনো কথা বলা বেজায় ঝুঁকির। আমি তাই চুপ করে থাকলাম।
‘তোমার পছন্দ হয়েছে ? ’শ্যালিকা বলল। মুখে রহস্যময় হাসিটা তখনও লেপ্টে আছে। কিসের কথা বলছো ? ’আমি বললাম। আরে বাবা, কী আবার, টি-শার্ট।’ সুন্দরীর গলায় ব্যঙ্গ। আবার চুপ করে গেলাম। কী বলতে কী বলে আমি আবার ধরা খাই। ‘কী বললে না, পছন্দ হয়েছে কিনা, তাহলে তোমাকে আমি দিতে পারি। ’এবার শ্যালিকার গলার স্বর বেশ আন্তরিক। আরে না না, তোমার পরা জিনিস আমাকে দেবে কেন ? আর আমি নেবোই বা কেন ? ’আমি আবারও বোকামি করে ফেললাম। ‘তুমি একটা বুদ্ধু। আমার বোনটা যে কী করে তোমার সঙ্গে ঘর করে কে জানে। আরে আমি কী তোমাকে আমার গায়েরটা দিতে চেয়েছি নাকি। তোমাকে আমি সুন্দর একটা টি-শার্ট কিনে দিতে চাচ্ছি। বাইরে না পরো, ঘরে পরবে। দেখবে কত আরাম। সত্যি বলছি, বেশ আরাম পাবে।’ সুন্দরী প্রথমে কপট রাগ দেখালেও টি-শার্ট দেওয়ার ইচ্ছেটা খাঁটি বলেই মনে হলো।

‘তাহলে দ্যাখ অপা, কার সঙ্গে ঘর করি।’ ময়দানে এবার যোগ দিলেন আমার অর্ধাঙ্গিনী। পাশের রুম থেকে এসে তিনি বোনের সুরে সুর মেলালেন। একা রামে রক্ষে নেই, সুগ্রীব দোসর। শ্যালিকার নাম অপরাজিতা। আদরের ডাকনাম অপা। শুধু গুণে নয়, নামেও পরিচয়। হার বা পরাজয় ধাতে নেই। ‘কার সঙ্গে আবার, তুমি তোমার বরের সঙ্গে ঘর করো।’ অপা একেবারে একশ’ আশি ডিগ্রি ঘুরে গেল। তার বড়বোন তো হঠাৎই বিরাট ধাক্কা খেলো। অপার তেলেসমাতি তখনও বাকি ছিল। সে একটু এগিয়ে এসে আমার থুতনিটা নেড়ে দিলো। তারপর বড়বোনের উদ্দেশে বলল, ‘যাই বলো তোমার বরটা বেশ বুদ্ধু আছে কিন্তু। আর জানো তো, সবাই বলে, সরল মনের বর নাকি খুব ভালো হয়। বউকে খুব ভালোবাসে।’ ‘অপা, তোর মুখে আজকাল কিছুই আটকায় না দেখছি।’ আমার মুখরা বউও কী একটু লজ্জা পেল। বোনকে কপট শাসাল।
‘তোমার যা ইচ্ছে বলো। মাকে কিন্তু আমি বলে দিয়েছি আমারও এরকম বুদ্ধু বর চাই। নইলে আমি কিছুতেই বিয়ে করব না।’ অপা সুযোগের ফায়দা তুলছে। বড়বোনকে ক্ষ্যাপানোর মওকা হাতছাড়া করতে চাইছে না। ‘উফ ! তুই থামবি। নির্লজ্জ কোথাকার।’ আমার বেটার হাফ বোনের বাড়িয়ে দেওয়া টোপ গিললেন। এবং ক্ষেপে উঠলেন। খেলা জমে উঠেছে। ময়দানে টান টান উত্তেজনা। আমি বেচারা সাধারণ দর্শক। কেন থামব ? তোমাদের এই পেটে ক্ষুধা চোখে লজ্জা আমার পছন্দ না। আর নিজের বরের সামনে তোমার এত লজ্জাবতী হওয়ার দরকারটা কী। ঢং দেখে আর বাঁচি না। ’ হাফ-বেটার হাফ (শালী নাকি অর্ধেক ঘরয়ালী) আরেকটা গুগলি ছুঁড়ল। আরে থাম। তুই দেখি বিয়ে-পাগলা হয়ে গেলি।’ বোনের তোপে বউ আমার কিছুটা অসহায়। নিজেও তাই পাল্টা আক্রমণ করতে চাইল। ভুল বললে। শব্দটা হবে বিয়ে-পাগলি। তোমার বুদ্ধুটাকে দেখার পর আমারও শখ হয়েছে এরকম বুদ্ধুলাভের।’ শ্যালিকা এবার বাউন্সার ছুঁড়ে দিলো। ‘আগে মাস্টার্সের পরীক্ষাটা শেষ কর। তারপর না হয় ছাদনা তলায় যাবি।’ অভিভাবকের দায়িত্ব বলে কথা। আমার ঘরনীর গলায় ভৎর্সনা, আদরের বোনের উদ্দেশে। হ্যাঁ, পরীক্ষার পরই ছাদনা তলায় যাব। কিন্তু তার আগে একটা বুদ্ধু খুঁজে বের করতে হবে তো। ইস ! ক্লোন করা গেলে বেশ হতো। তোমার বুদ্ধুর একটা ফটোকপি পাওয়া গেলে দারুণ হতো।’ অপা ইচ্ছে মতো বোলিং করছে আজ। এবার মনকাড়া কাটার। ভ্রæ নাচিয়ে আমাকে ইশারায় বলল, ‘দেখেছো, তোমার বউকে কেমন নাকাল করে ছাড়ছি।’
অন্য কোনো ক্ষেত্রে সাধারণ দর্শক এ সময় হাততালি দিতো। আহ্, কী বোলিং। আমার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। শাখের করাতে পড়লে এমনই হয়। বড়বোন এবার সজোরে ব্যাট চালালেন, ‘দূর থেকে কাশবন ঘনই মনে হয় রে অপা। কাছে গেলে দেখবি কত ফাঁকা। সাতদিনেই ফটোকপির শখ উবে যাবে। ’সাতদিনই সই। ওই সাতদিনই আমার কাছে সাতজন্ম। আমার একটা বুদ্ধু চাইই চাই। ’শেষের বাক্যটা বাচ্চাদের মতো করে বলল অপা। তারপর হি-হি করে হাসতে থাকল। আমার বউ এতক্ষণে বোনের দুষ্টুমি ধরতে পারল। ফিক করে হেসে দিয়ে সে বলল, ‘তুই বড্ড পেকেছিস রে অপা।’

‘তাই নাকি।’ শ্যালিকা তার বড়বোনের দিকে এগিয়ে গেল। ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘ টিপে দ্যাখ তো ’। তারপর জড়িয়ে ধরে জোরে হাসতে থাকল। আমি টুপ করে কেটে পড়লাম। বারান্দার গাছগুলোকে বড্ড দেখতে ইচ্ছে করছে। সেদিকেই পা বাড়ালাম। পেছন থেকে ভেসে এলো অপার গলা। তার বোনকে বলছে, ‘দ্যাখো তোমার বুদ্ধুর কান্ড। বোধহয় ভয় পেয়েছে। ভেবেছে তাকেও জড়িয়ে ধরব, তাই পালিয়েছে। হি-হি-হি।’ হাসি একটু থামিয়ে এরপর আমার উদ্দেশে সে বলল, ‘ আরে, কই গেলে বুদ্ধু ভাইয়া। ভয় নেই তোমার। বোনকে জড়িয়ে ধরেছি বলে তোমাকে জড়িয়ে ধরব সেটা ভাবলে কেন ? হি-হি-হি।’

দুই.

পহেলা বৈশাখের তিনদিন আগে অপা হাজির। হাতে প্যাকেট, তাতে টি-শার্ট। মুখে হাসি। বউয়ের সামনেই আমার হাতে প্যাকেট তুলে দিলো। বলল, ‘নববর্ষ উপলক্ষে আমার উপহার । নতুন এই টি-শার্টে তোমাকে দারুণ লাগবে। আমার কপাল খারাপ, আমার বোনটাই শুধু নয়ন ভরে দেখবে। হি-হি-হি।’
বউ যথেষ্ট বিরক্ত হলো। গলায় ঝাঁঝ মিশিয়ে বলল, ‘গত তিন বছর ধরে দেখতে দেখতে চোখে আমার ছানি পড়ে গেছে রে। আমার আর দেখার দরকার নেই। তুই এলেই পড়বে। নয়ন ভরে দেখে যাস। ’হুউম, পোড়ার গন্ধ পাচ্ছি। আরে একটা টি-শার্টই তো দিয়েছি। অন্যকিছু তো নয়। হি-হি-হি।’ শ্যালিকা ছাই চাপা আগুনে যেন ইচ্ছে করেই বাতাস দিলো।
‘তোকে আর পাকামো করতে হবে না। ভার্সিটি থেকে সরাসরি এসেছিস, এবার খেতে বস তো।’ যাক, গৃহিনী আমার শেষপর্যন্ত নিজেকে সামলে নিয়েছে। ‘এই না হলে বড়বোন। চলো। সত্যি অনেক খিদে পেয়েছে।’ অপাও হঠাৎ একটু গুটিয়ে গেছে দু’বোন খাবার টেবিলে যেতেই প্যাকেট থেকে বের করে টি-শার্টটা খুলে দেখলাম। আকাশী রঙ, সামনের দিকটায় সুন্দর নকশা করা। নাহ্, এসো হে বৈশাখ লেখা নেই। ইচ্ছে করলে যে কোনো সময় পরা যাবে। ‘এসো হে বৈশাখ…’ নিয়ে মজার একটা ঘটনা আছে। এই ফাঁকে সেই ঘটনাটা বলা যাক। আমার এক বন্ধু আছে, নাম বিকাশ। তখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকি। বৈশাখ সমাগত। এমনি একদিন বন্ধুদের আড্ডায় বিকাশ বলল, ‘ আমার ছেলে হলে তার নাম রাখব বৈশাখ।’ সমস্বরে কয়েকজন বলল, ‘এটা আবার কেমন নাম ! আগে কখনও শুনিনি তো।’ বিকাশ গলাটা একটু খাদে নামিয়ে বলল, ‘শুনিসনি তো কী হয়েছে। মেয়েদের নাম বৈশাখী হতে পারলে ছেলেদের নাম বৈশাখ হতে দোষ কোথায়। আমি অবশ্যই আমার ছেলের নাম বৈশাখ রাখব।’ বিকাশ যখন গলা খাদে নামায় তখন তার পেছনে অবশ্যই একটা কারণ থাকে। আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে। সেকারণেই আমি বললাম, ‘ ঠিক আছে, ভাতিজার নাম বৈশাখ রাখতে চাস রাখিস। কিন্তু কেন রাখতে চাস সেটা তো বলবি ?’ বিকাশ গলাটা একই খাদে ধরে রেখে বলল, ‘ সবাই বিশেষ করে তরুনীরা যখন এসো হে বৈশাখ… গাইবে তখন আমার ছেলের কী ভালো লাগবে বলতে পারিস। এই নামকরণের জন্য ছেলে মনে মনে বাবাকে ধন্যবাদ দেবে। বলবে, বাবা একটা কাজের কাজ করেছে।’ ওর কথা শুনে বন্ধুদের মধ্যে হাসির রোল পড়ল। একজন হাসতে হাসতেই বলল, ‘টি-শার্ট, ফতুয়া এমন কী শড়িতেও তো লেখা থাকে : এসো হে বৈশাখ…।’ বিকাশ কিন্তু নির্বিকার, হাসছে না। সে বলল, ‘সবকিছু মাথায় রেখেই ছেলের নাম ঠিক করেছি রে পাগলা।’ এবার আড্ডার সবাই হেসে গড়িয়ে পড়ল। শুধু বিকাশ চিন্তিত ভঙ্গিতে মুখ বেজার করে বলল, ‘নাম তো ঠিক করে বসে আছি। এবার ছেলে হলেই হয়। না জানি কপালে কী লেখা আছে।’ ওর এ কথা শুনে হাসির তোড় আরও বাড়ল। হাসতে হাসতে সেদিন সবার চোখে পানি চলে এসেছিল। পেট ব্যথা হওয়ার দশা।

টি-শার্ট এ জীবনে আমি খুব বেশি পরিনি। টিনেজে বড়জোর একটা কী দুটো। তারপর থেকে শার্ট-ফতুয়া-পাঞ্জাবি চলছে। ফুল শার্টই বেশি, গরমে একটা দুটো হাফ শার্ট। অজা মানে আমার প্রিয়তমা বউ অজন্তাও টি-শার্ট পছন্দ করে না। বিয়ের পর একবার পরার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম। অজা রাজি হয়নি। টি-শার্ট পরলে নাকি বাচ্চা-বাচ্চা লাগে। স্বামীকে কম বয়সি দেখালে তার আপত্তি আছে। বর হবে একটু ভারিক্কি গোছের। ভাবখানা এমন : প্রেমিক চ্যাংড়া হলে চলে, বর কোনোভাবেই নয়। বরের মধ্যে মেয়েরা নাকি বাবার ছায়া খোঁজে। বাবার বয়স আর বরের বয়স কী কখনও এক হয় নাকি ? বরের শখ-আহলাদ কী বাবার সঙ্গে মেলে ? আরে শ্বশুরের বয়সি অনেকেই তো আজকাল টি-শার্ট পরে। শুধু পরে না, পরে ঢ্যাং-ঢ্যাং করে ঘুরে বেড়ায়। কখনও এ প্রসঙ্গ উঠলে অজা বলে, ‘পরলে পরুক। উনাদের নিশ্চয়ই নিজেকে কম বয়সি দেখানোর প্রয়োজন আছে।’ এ বাক্যটাই তো যথেষ্ট আপত্তিকর। একটু গভীরে গিয়ে ভাবলে মানহানিকরও নয় কী ? বাবার বয়সী ওইসব লোক কী টি-শার্ট পরে বয়স কমিয়ে প্রেম করতে যায় ? যত সব বাজে কথা।
উপহার পাওয়া এ টি-শার্ট পরা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। অর্ধাঙ্গিনী এ বিষয়ে অনুমতি দেবেন বলে তো মনে হয় না। বেচারা অপা, নিজের বোনের পছন্দ-অপছন্দ মাথায় না রেখেই টি-শার্ট কিনে হাজির।
টি-শার্টটা আমি পোশাকের আলমারিতে তুলে রাখলাম।

তিন.

মাসখানেক কেটে গেল। টি-শার্টটি পরা হয়নি। পরার কথা আমি মুখেও আনিনি। ভাগ্য ভালো, অপার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সে আর এ বাসায় আসেনি। বোনের সঙ্গে অবশ্য তার হররোজ কথা হয়। আমার বউ হয়ত তক্কে তক্কে ছিল। টি-শার্টটা আমি নিজে থেকে পরি কিনা, কিংবা পরার কথা বলি কিনা। আমি কী জেনে-শুনে ওপথে পা বাড়াই। একটু বোকা কিসিমের হলেও অত বোকা আমি নই। শেষমেশ একদিন বউ নিজেই মুখ খুলল। বলল, ‘অপা তোমাকে একটা টি-শার্ট দিয়েছে পরো না কেন ? বাসায় মাঝে-মধ্যে পরলে তো পারো। এখনও পরোনি শুনলে কষ্ট পাবে। ফোনে তো বেশ কয়েকবার জানতে চেয়েছে। আমি বলেছি, পরে কিনা তুই এসে দেখে যাস। ও বলেছে পরীক্ষা শেষ হলেই আসবে। কাল কিন্তু ওর শেষ পরীক্ষা।’ জবাবে আমি কিছুই বললাম না। কী বলব, বোনদের ব্যাপার, নিজেরাই বোঝো। আমি হুকুমের গোলাম। আজ হুকুম হলো, কাল পরব। এখন চুপ, একদম চুপ। চুপ করে থাকাতেই ফায়দা বেশি। বউ এবার ভীষণ রেগে গেল। তার শ্রীমুখ থেকে নিঃসৃত হলো : ‘বলি, কথাগুলো কী কানে গেল। নাকি কানের মাথা খেয়ে বসে আছো। দেখো, অপার সামনে আমাকে যেন ছোট হতে না হয়। ’আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। প্রতিক্রিয়া হলো ভয়াবহ। রুদ্ররূপিনী চোখ সরু করে বলল, ‘তোমার কি গলা ব্যথা ?’ ডানে-বামে মাথা নেড়ে বুঝালাম, না। প্রিয়ার মুখের কথা আরও খানিকটা অপ্রিয় হলো : ‘ তাহলে ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসীর ভান ধরেছো কেন ? এই বাক সংযমে আমার চৌদ্দ গুষ্ঠির কী উপকার হবে, শুনি ? ভন্ডামির একটা সীমা থাকা দরকার। নিজের বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে বাক সংযম হচ্ছে। হাঁদারাম আমার সংযম দেখাচ্ছে। আমিও দেখব এই সংযম সব সময় থাকে কিনা। ঠিক সময় মতো আমিও সংযম দেখাব। দেখব, তখন সন্ন্যাসবাবার মুখে বুলি ফুটে কিনা। তখন যতই সাধন-ভজন করতে চাও কোনো লাভ হবে না। আমিও তখন সন্ন্যাসিনীর ভান ধরব। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। ছোঁক ছোঁক করেও তখন কোনো লাভ হবে না বলে দিলাম।’ ব্যাস ! হয়ে গেল। ছুটল মুখের তুবড়ি। কথার রেলগাড়ি। হুমকির মিসাইল। সে আমাকে হাড়ে হাড়ে চেনে। কিসে আমি কুপোকাত আর ধরাশায়ী হবো, তা তার চেয়ে আর কে ভালো জানে। আমি হেসে বললাম, ‘ ঠিক আছে, কাল টি-শার্টটা পরবো। ’পরদিন বিকালে শ্যালিকা হাজির। আমার গায়ে তার দেওয়া টি-শার্ট। বড়বোনকে সে বলল, ‘দেখছো, তোমার বুদ্ধুকে কী সুন্দর দেখাচ্ছে।’ বিরক্তিমাখা গলায় বড়বোনের জবাব, ‘আমার দেখতে হবে না। তুইই দ্যাখ, নয়ন ভরে দ্যাখ।’অপা মোটেও দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। ফিক করে হেসে সে বলল, ‘জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে শ্রীরাধিকার।’ এরপর গেয়ে ওঠল : ‘বুদ্ধুর গায়ে আমার টি-শার্ট/ জ্বলে-পুড়ে যাক, জ্বলে-পুড়ে যাক/ অজা মহারাণীর জ্বলে-পুড়ে যাক।’ তাৎক্ষণিক প্যারোডি। মেয়েটা পারেও। ‘অপা, এবার কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে বলে দিচ্ছি’, ছোটবোনকে শাসিয়ে দিলেন আমার অর্ধাঙ্গিনী। না, সেদিন আর খুব বেশি বাড়াবাড়ি হয়নি। তবে বাড়াবাড়ি শুরু হলো এরও কিছুদিন পরে। একদিন জ্বর-জ্বর লাগছে। তাই গোসল করিনি। আলসেমিতে আগের দিনের পোশাকও বদল করিনি। বউ আমার দিকে তীক্ষè চোখে তাকিয়ে বলল, ‘কী ব্যাপার বলো তো, এই টি-শার্টটা পরলে তুমি তো আর খুলতেই চাও না।’ আমিও অতশত না বুঝে বোকার মতো বলে ফেললাম, ‘আদরের শ্যালিকার দেওয়া জিনিস তো, পরার মজাই আলাদা’। একেবারে আগুনে ঘি ঢালা হলো। ঘরনী আমার মুখ বেঁকিয়ে শ্লেষভরে বলল, ‘ তা তো আমি নিজ চোখেই দেখছি।’
আরেক দিন আমার কলেজ পড়–য়া ভাগ্নে মিঠু বাসায় এলো। আমার গায়ে টি-শার্ট দেখে তার সে কী বয়সসুলভ উচ্ছ¡াস। বলল, ‘মামা, দারুণ মানিয়েছে। আর টি-শার্টটাও খুব সুন্দর ।’ তার মুখের কথা শেষ হওয়া মাত্র আমার বউ বলল, ‘ মিঠু, টি-শার্টটা তোমার খুব পছন্দ হয়েছে, না ? এককাজ করো তুমি এটা নিয়ে নাও।’ ভাগ্নে তার মামীর কান্ডে ভড়কে গেল। আর সেটা যাওয়াই স্বাভাবিক। মামীকে তো সে ভালো করেই চেনে। সহজে হাত উপুড় করার পাত্রী নয়। সেই মামী কিনা এক কথাতেই টি-শার্ট দিয়ে দিতে চাইছেন। লক্ষণ তো সুবিধের নয়। পেছনে তো অবশ্যই কোনো ঘটনা আছে। মিঠু রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলল। বলল, ‘আরে না, কী যে বলেন মামী। মামা এত দিন পর একটা টি-শার্ট পরেছে, আমি সেটা কিছুতেই নিতে পারব না।’ যাক সে যাত্রায় ভাগ্নে ভালো মতোই সামাল দিলো। ভাগ্নেটা কার দেখতে হবে তো। সেকরার টুকটাক, কামারের এক ঘা। এরকম টুকরো টুকরো কয়েকটি ঘটনায় আমারও জিদ চেপে গেল। সুযোগ পেলেই আমি টি-শার্টটা পরি। বউয়ের মেজাজ তিরিক্ষি হয়। আমি বেশ উপভোগ করি। মনে মনে রবি ঠাকুরের ‘আমার এই পথ-চাওয়াতেই আনন্দ’ গানটিকে একটু ঘুরিয়ে গাই: ‘আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ…।’
এই সুখ বেশিদিন কপালে সইল না। মাস ছয়েক বাদে একদিন দেখি আমার টি-শার্ট দিয়ে বুয়া ঘর মুছছে। বউকে জিগ্যেস করতেই বলল, ‘যথেষ্ট পরেছো। আর পরতে হবে না। ওটা এখন যথেষ্ট পুরানো হয়ে গেছে। আর এটা নিয়ে এত কথা বলছো কেন বলো তো। তোমার কী আর জামাকাপড় নেই ?’ আছে, থাকবে না কেন, আছে। তবে টি-শার্টটার সঙ্গে বেশ একটা বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। গায়ে দিলেই কেমন নেতিয়ে পড়ত। বেশ নরম-নরম একটা ব্যাপার। মনে হতো না কিছু পরে আছি। খুব আরামের ছিল পোশাকটা। মনে মনেই বললাম কথাগুলো। আরে ভাই, আমার ঘাড়ে তো একটাই মাথা। বিবাহিত পুরুষ মাত্রই ঘটনাটা বুঝবেন। অপাও একদিন এসে আশ্চর্য হলো ঘটনা দেখে। বুয়া তার দেওয়া টি-শার্ট দিয়ে ঘর মুছছে, এটা নিশ্চয় অপার ভালো লাগেনি। আর টি-শার্টটা তো অত পুরানোও হয়নি। বড়বোনকে জিগ্যেস করতেই সে ঝটপট বলল, ‘আরে কেমন পুরানো একটা ভাব চলে এসেছিল। ওই হাঁদারাম সেটা পরেই বসে থাকত।’ মুচকি হেসে অপা বলল, ‘ ঠিক আছে বুদ্ধুকে আমি আরেকটা টি-শার্ট কিনে দেবো।’ এবার বউ একটু রাগী গলায় বলল, ‘খবরদার, তুই আর ওর জন্য টি-শার্ট কিনবি না। তুই হলি বেকার মানুষ। তোর টাকা খরচ করার দরকার কী।’ অপা হেসে বলল, ‘ টি-শার্ট কিনতে আর এমন কী খরচ। আমার হাত-খরচের টাকাই পড়ে থাকে। কোথাও এখন খুব একটা বের হই না তো।’ বড়বোন বিরক্তিমাখা গলায় বলল, ‘তোর টাকা বেশি হলে আমাকে দিস, আমি শপিং করব।’ শ্যালিকা গলা একটু নামিয়ে বলল, ‘তোমাকেও দেবো, বুদ্ধুকেও দেবো। আচ্ছা, তোমার এতো হিংসে কেন বলো তো। হি-হি-হি।’ বউ এবার গলা চড়াল, ‘বড্ড চাপার জোর হয়েছে তোর। পাজি মেয়ে একটা। ’পরদিনই বউ আমার জন্য টি-শার্ট কিনে আনল। নামী দোকান থেকে। রঙ সুন্দর, হালকা বেগুনি। সাইজও ঠিক আছে। এক্স এল। কিন্তু পরলেই গায়ে চেপে বসে। দম নিতে অসুবিধা হয়, কেমন যেন শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।

ছেলে-ছোকরারা এখন ছোট ছোট জামা পরে, শরীরের সঙ্গে একেবারে লেপ্টে থাকে। টি-শার্টের সাইজেও কী সেই ছোঁয়া লেগেছে ? নাকি আমিই হঠাৎ ফুলে-ফেঁপে উঠেছি ? একটু হলেও গায়ে চর্বি জমেছে। অজার আনা টি-শার্ট পরলে সেটা বোঝা যায়। আমার নোয়াপাতি ভুঁড়িটা মনের আনন্দে তার অবস্থান আর উপস্থিতি জানান দেয়। অবস্থা দেখে অজা তো বলেই ফেলল, ‘এবার একটু ব্যায়াম করো।’ আমি না শোনার ভাব ধরে বললাম, ‘কী বললে, প্রেম করব ? আচ্ছা করব। কিন্তু কার সঙ্গে করব?’ অজা আমার দিকে চোখ পাকিয়ে তাকালো। আমি দমে গেলাম না। সাহস করে বলে ফেললাম, ‘আমি তো রোজ ব্যায়াম করতে চাই ম্যাডাম। আপনিই তো রাজি হন না। ’মুখে এক চিলতে হাসি যেন ঝলক দিয়ে গেল। কিন্তু তারপরই মুখটা গম্ভীর করে অজা বলল, ‘এমনিতে তো পাঁচ কিলেও মুখে রা করো না। আজ দেখছি বোবার মুখে কথা ফুটেছে। তা ভোরে আলো ফোটার আগে পড়ে পড়ে না ঘুমিয়ে একটু দৌড়ে আসলে হয়। ’হ্যাঁ, সকালে দৌড়ে আসলেই হয়। কথায় বলে, সকালবেলার হাওয়া, লক্ষ টাকার দাওয়া। ট্রাউজার আছে, কেডস আছে, নতুন টি-শার্ট কেনা হয়েছে। আর কী চাই। এবার প্রতিদিন নোয়াপাতি ভুঁড়িটা ভাসিয়ে কাছের পার্কে কয়েকটা চক্কর মেরে আসলেই হয়। কিন্তু এমনিতেই যে চক্করে আছি, আবার নতুন করে চক্কর ? না, কিছুতেই না। সকালবেলার আরামের ঘুম আমি ভেস্তে যেতে দিতে পারব না। বেঁচে থাকার জন্য রাত-দিন তো দৌড়ে মরছি। আবার সকালেও দৌড় ! না, কিছুতেই না। ভাবতে ভাবতে আমি মাথাও দুলিয়ে ফেললাম। বউ আমার দিকে সার্চ লাইট ফেলে রেখে ছিল। মাথা দুলানো দেখে সে বলল, ‘আমি জানতাম, ভালো করেই জানতাম, ভোরে উঠে দৌড়ানো তোমার মতো আলসের কম্মো নয়। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আলসের ঢেঁকি একটা। ’এরপর কথা বলা মানেই সমস্যা। নইলে বলতাম, ‘তোমার ওই টি-শার্ট পরার জন্য আমি সাত-সকালে কর্মঠ হতে পারব না। আরাম-আয়েশ তো বলতে গেলে জীবন থেকে উঠেই গেছে। ওই সকালের ঘুমটুকু ছাড়া। ওটার ওপর তোমার চোখ পড়েছে। ’চুপ করে আছি দেখে প্রিয়তমা আমার মুখ ঝামটা দিয়ে বলল, ‘একেবারে কচ্ছপের স্বভাব। একটু অসুবিধা দেখলেই মাথা গুটিয়ে নেয়।’ এরপর হনহন করে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। অপাও কী দমে যাওয়ার মেয়ে। আমার বউয়ের একই মায়ের পেটের বোন। দিন সাতেক বাদে সটানে আরেকটা নতুন টি-শার্ট নিয়ে হাজির। কচি কলাপাতা রঙ। সামনের দিকটায় মনকাড়া নকশা। বউয়ের মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝলাম বিষয়টা তার মোটেও পছন্দ হয়নি। চোখে-মুখে তার ছাপ স্পষ্ট। মুখ খুললেই সর্বনাশ। বড় অঘটন হয়ে যাবে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমি মুখ খুললাম। অপাকে বললাম, ‘তুমি এত সুন্দর টি-শার্ট কিনো কী করে বলো তো। দেখে তো মনে হয় তোমার অভিজ্ঞতার পাল্লা বেশ ভারি। তা তোমার ছেলেবন্ধুটি বুঝি টি-শার্ট খুব পছন্দ করে ? একদিন নিয়ে এসো না আমাদের বাসায়।’ আমার মুখে এসব কথা শুনবে তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না শ্যালিকা। তার চোখ রসগোল্লা আর মুখ হাঁ হয়ে গেল। একটা টুপ করে গড়িয়ে পড়লেই যেন জিহবা বের করে মুখের ভেতরে নিয়ে আসবে। আমার মুখরা বউও বাকরুদ্ধ। চোখে প্রশ্ন: ওর ছেলেবন্ধু আছে, তুমি কী করে বুঝলে ? মঞ্চ প্রস্তুত, শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ। এ সুযোগ কে হাতছাড়া করে ! আমি তাই বললাম, ‘চিন্তার কিছু নেই। তোমাদের মা-বাবাকে আমি ঠিক সামলে নেবো। যে মেয়ে এত সুন্দর টি-শার্ট কিনতে পারে, তার ছেলেবন্ধুও নিশ্চয়ই সব দিক দিয়ে সুন্দর ও যোগ্য হবে। আর তুমি তো ভরসা করার মতোই মেয়ে।’ হঠাৎ কী হলো কে জানে। অপার চোখ দুটো জলে ভরে উঠল। বড়বোন অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। চোখে জল আর মুখে হাসি নিয়ে অপা তাকে বলল, ‘দেখেছো তোমার বুদ্ধুর কী বুদ্ধি।’

চার.

এ কথা কী করে বলব ? বউয়ের আনা টি-শার্ট টাইট হয়, শ্যালিকারটা ঠিক ফিট করে যায়। লোকে শুনলে আমাকে ছেড়ে দেবে ? ক্ষেপিয়ে আস্ত রাখবে ? লোক তো পরের কথা, ঘরের বউকেই কী এটা বলা যায় ? না, যায় না। ঘরের শান্তি তাতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আমিও অজাকে কথাটা বলতে পারিনি। কিছুদিন বাদে অজা টি-শার্টের প্রসঙ্গ তুলল। বলল, ‘টি-শার্ট দুটো পরো না কেন ? ’আমি হেসে বললাম, ‘টি-শার্ট দুটো থাকুক না স্মারক হিসেবে। আমার তো যথেষ্ট জামাকাপড় আছে। ’টানা চোখ দুটো দিয়ে বউ আমাকে ভালো মতো পরখ করল। তারপর গাঢ় গলায় বলল, ‘অনি, রাগ করেছো, না ? তোমার ব্যাপারে অনেক ছোটখাটো জিনিসও আমার সহ্য হয় না। মাথার মধ্যে কখন কী যে হয়ে যায় আমি ঠিক বুঝতে পারি না। ’এটাকে কী বলবেন, মাথার দোষ নাকি মনের দোষ ? আসলে এটা ভালোবাসার দোষ। তবে দোষ যাই হোক, ভুলেও কেউ এ নিয়ে কথা বলতে যাবেন না। এসব ক্ষেত্রে কথা বললেই বিপত্তি। শুধু শুনে যাবেন। আমিও অজাকে কিছু বললাম না। শুধু প্রশ্রয়ের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালাম।

পাঁচ.

বছর খানেক পরের কথা। অপার বিয়ে হয়ে গেছে। জিৎ ছেলেটা বেশ। দেখতে-শুনতে, আয়-রোজগারে। অপা যতটা ভেবেছিল শ্বশুর-শাশুড়িকে রাজি করতে অতটা বেগ পেতে হয়নি। বিয়ে পাট চুকে গেলে নিজের বড়বোনের কাছে সে আমার প্রশংসা করে বলেছে, ‘তোমার বুদ্ধুটা আসলেই গ্রেট। ’আরেকটা বড় অর্জন হয়েছে আমার আর অজার। ফুটফুটে একটা ছেলের বাবা-মা হয়েছি আমরা। গতকাল বিকেল বেলায়। নার্সিং হোমে একটু ফুরসত মিলতেই অজা বলল, ‘কী রাখবে ছেলের নাম? ’হঠাৎ আমার মাথায় দুষ্টুমি ঝিলিক দিয়ে গেল। বললাম, ‘বৈশাখ রাখলে কেমন হয় ?’ অজা মুখ ঝামটা দিয়ে বলল, ‘ছেলে হয়েছে শ্রাবনে, নাম রাখতে চায় বৈশাখ। হাঁদারাম একটা। তুমি কী বুদ্ধির মাথা খেয়ে বসে আছো। ছেলের নাম রাখি বৈশাখ, আর বড় হলে মেয়েরা ‘এসো হে বৈশাখ’ লেখা টি-শার্ট পরে এসে আমার ছেলের মাথা খাক। আমি বেঁচে থাকতে এটা কিছুতেই হতে দেবো না। তুমি নতুন নাম ভাবো। ছেলের নাম বৈশাখ আমি কিছুতেই রাখব না। না,না,না। ’এরপর আর কী বলার থাকে। আমি শুধু বললাম, ‘আহ্, অযথা উত্তেজিত হচ্ছো কেন ? শ্রাবন রাখতে চাইলে রাখো। সেটাও যদি না রাখতে চাও অসুবিধা নেই। তোমার ছেলের নাম তুমিই পছন্দ করে রেখো।’
‘হ্যাঁ, আমিই রাখব। ছেলের নাম নিয়ে আমি ছেলেখেলা করতে পারব না। বৈশাখ ! শ্রাবন ! নামের কী বাহার। সবকিছু নিয়ে ছ্যাবলামি আমার পছন্দ নয়…।’ অজা গজগজ করতে থাকল। রাগলে অজাকে বরাবরই সুন্দর লাগে। তবে নতুন এই মাতৃরূপের রুদ্রমূর্তিতে তাকে আরও বেশি সুন্দর লাগছে। মা আর ছেলের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে। চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। নারে বিকাশ, ছেলের কাছ থেকে ধন্যবাদ পাওয়া আমার আর হলো না।

২ thoughts on “রম্যগল্প।। টি-শার্ট।। কমলেশ রায়

  • আগস্ট ১৭, ২০২০ at ১১:০৯ অপরাহ্ণ
    Permalink

    দারুণ একটা রম্য গল্প। বেশ উপভোগ্।

    Reply
  • আগস্ট ২৩, ২০২০ at ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
    Permalink

    দারুন ঝরঝরে গদ্যে পাঠককে ধরে রাখার ঈর্ষনীয় ক্ষমতা লেখকের। চমৎকার রসবোধ। অনবদ্য গদ্যটির রম্যতা। “টি-শার্ট” বহুপঠিত হোক, কামনা করি।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *