অণুগল্প।। তনয়ার বয়ফ্রেন্ড।। ছন্দা সরকার

বিকালে আয়নার সামনে সাজতে বসে আনার্সে পড়া মেয়ে তনয়া। কিন্তু কিছু দিন আগেও তনয়া সাজগোজ করা পছন্দ করত না অন্য সব মেয়েদের মত। সে সব সময় পড়াশোনা নিয়েই থাকত। তার হটাৎ পরিবর্তনের কারনটা হচ্ছে সে তার রাজকুমারের সাথে দেখা করতে যাবে প্রথম। তার রাজকুমারের নাম রবি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পরিচয়।

রবি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। রবির আদ্যোপান্ত দেখে তনয়ার খুব ভালো লাগে। একসময় তাদের ফোনে কথা শুরু হয়। রবির সাথে কথা বলতে বলতে তনয়া রবির প্রতি দূর্বল হয়ে যায়। আর তারপর থেকে তনয়া নিজেকে সাজায় কখনো চোখে কাজল বা কপালে টিপ দিয়ে। শুরু হয় এক অদেখা প্রেমের সম্পর্ক। রবির সাথে কথা না হলে যেন তনয়া অস্থির হয়ে পড়ে।

এক বছর পরে তারা দেখা করবে আজ। পরিপাটি করে সেজে তনয়া বিকেল পাচঁটায় এক লেকের ধারে হাজির হয়। কিন্তু রবি নামে চেহারার কাউকে দেখতে পায়না তনয়া। টেনশনে তনয়া রবির নম্বরে কল দিতে থাকে।তনয়া দেখে ফোন হাতে তার পাড়ার এক মধ্য বয়সি মুদির দোকানদার হাতে কিছু গোলাপ ফুল নিয়ে তার দিকেই এগিয়ে আসেছে। তনয়া দেখেও না দেখার ভান করে।

লোকটি ডাক দিয়ে বলে- তনয়া আমি রবি। তনয়া বলে আপনি কি বলছেন এসব? আপনি কেন নিজেকে রবি বলছেন? আর রবি কোথায়? লোকটি তনয়াকে বলে- তনয়া বলতে খুব খারাপ লাগছে ফেসবুকে যে ছবি সেটা আমার না। আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও পড়ি না। আমার নাম রবি না আমার নাম গোবিন্দ আর আমার মুদির দোকান আছে। অবাক হয়ে রেগে তনয়া বলে- আপনি কেন আমার সাথে এমন করলেন বলুন? আমি আপনার কি ক্ষতি করেছিলাম? আমি আপনাকে পুলিশে দিব। আপনি আমার মন নিয়ে খেলেছেন কেন?

গোবিন্দ বলে- আমি আগেই অনেক বার বলতে চেয়েছি কিন্তু পারিনি। তনয়া আমি চলে যাচ্ছি আর কখনও তোমাকে বিরক্ত করব না। পারলে আমাকে মাফ করে দিয়ো। এই বলে গোবিন্দ চলে যায়। বাসায় ফিরে তনয়া পাগলের মতো কাঁদতে থাকে। তার কষ্টে মরে যেতে ইচ্ছে করে। এভাবে কাঁদতে কাঁদতে এক সময় শান্ত হয় তনয়া তখন রাত গভীর। তনয়া মোবাইল হাতে নিল। গোবিন্দকে কল দিল – হ্যালো! কাল কি আমরা দেখা করতে পারি?

Leave a Reply

Your email address will not be published.