স্বাধীনতা-দিবসের ছড়া

সুবর্ণতিথির ছড়া
জাহাঙ্গীর আলম জাহান

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বা
সুবর্ণ এই তিথিতে
শপথ করি- জড়াব না
কক্ষনো দুর্নীতিতে।

জাতির পিতার শততম
শুভ মুজিববর্ষে
শপথ করি- দেশ গড়ব
আদর্শ উৎকর্ষে।

শ্রেষ্ঠ জাতির মর্যাদাকে
তুলব আরও ঊর্ধ্বে
দেশগঠনের ঐক্য গানে
আয় সকলে সুর দে।

সুরে সুরে সমান তালে
শপথ করি ব্যক্ত
বাঙ্গালিরা বিভক্ত নয়-
দেশগঠনে এক তো।

কেমনে ভুলি?
মহসিন খোন্দকার

কে রোপিছে ‘মুক্তিচারা’ কে ঢেলেছে জল?
কে এনেছে স্বাধীনতা, কে খাচ্ছে তার ফল?
যারা মারছে আমাদেরকে মোদের রক্তে ঘুমোয়
এখন তারা রাষ্ট্রের দু’গাল ভরে দিচ্ছে চুমোয়
খুন করেও যে ঘাতকদের মুখে দেখতাম রোশনাই
এখন বলছে, ‘জয়বাংলার লোক’ শেখ মুজিবের দোষ নাই
অনেক জনে যুদ্ধের কথায়, থাকেন কেমন চুপ করে!
মনে করেন দেশ এসেছে বৃষ্টির মতো ঝুপ করে
অনেক জনে,বলে বেড়ায়,পুব পশ্চিমে দ্বন্দ্ব নাই
কথায় কথায় ভাসতে থাকেন পাকিস্তানের বন্দনায়
আমার সামনে বোনের পাপড়ি ছিঁড়ে নিছে ঘ্রাণ
এসব আমি ক্যামনে ভুলি রক্তে মারে টান!

একটি খোকা
নূরুল ইসলাম মনি

একটি খোকা, একটি নেতা,
একটি ইতিহাস,
একটি দেশে আনলো বইয়ে
শান্তি সুখের বাস।

একটি নদী মধুমতি
এক পদবী ‘শেখ’,
বিশ্বটাকে করলো আপন
দেখরে মানুষ দেখ।

একটি নীতি বুকে ছিলো
দেশ সেবা তার নাম,
সেই নীতিটার জন্য যে তার
ঝরলো গায়ের ঘাম।

শেষ বিকালে ঝরলো জীবন
হায় রে পরিতাপ!
লক্ষ মুখে হায়েনাদের
দিচ্ছি অভিশাপ।

সেই নেতা কে? জানো তুমি?
তিনিই মজিবর,
তার সুরভি টানছি নাকে,
টানবো জীবন ভর।

স্বাধীনতার ঘোষণা
মো. রহমত উল্লাহ্

জানতে হবে, মানতে হবে?
একাত্তরের ২৬ (?) শে মার্চ
ব্যারাক থেকে ছুটে এসে
জিয়া দিলেন ঘোষণা:
স্বাধীন করো দেশখানা!
হেমিলনের শিশুর মতো
অমনি সবাই দৌড়ে এসে
তাড়ালো সব পাকসেনা!
স্বাধীন হলো দেশখানা।
স্বাধীনতা নেই কি আর
জানা কিনা জানাবার?
কবে কখন কে দিয়েছে
বাঙালিত্বের ধারণা,
বুকের ভেতর কে জাগালো
স্বাধীনতার চেতনা,
কখন থেকে কীভাবে হয়
আন্দোলনের সূচনা?
অগ্নিঝরা বানাতে
কারাবন্দীর অনশনে
ছয় দফা-এগারো দফায়
যুক্ত ছিল কোন দাবি,
ঊর্ধ্বে ওঠার ইঙ্গিতবহ
কোন্ সে বীরের আঙুল ছিল
বীর বাঙালির সকল সফল
আন্দোলনের মূল চাবি?
কোন্ নেতার দল জিতেছিল
নির্বাচনে সত্তরে
তেরো বছর বন্দী ছিলেন
কাদের নেতা কী করে?
কোন্ সে পুরুষ দিয়েছিল
সাত কোটি প্রাণ এক করে
কার প্রেরণায় যুদ্ধে গেল
প্রাণের মায়া ত্যাগ করে?
জোর গলায় কে বলেছিল
বাঙালিরা মানবে না আর
আইয়ুব খানের দুঃশাসন,
ঐতিহাসিক রেইসকোর্সে
একাত্তরের ৭ই মার্চে
কে দিয়েছে সেই ভাষণ?
’’আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না,
এদেশের মানুষের অধিকার চাই।
আর যদি একটা গুলি চলে,
আর যদি আমার লোককে হত্যাকরা হয়;
তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল-
প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল
তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।
…আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি…
…প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়,
প্রত্যেক ইউনিয়নে, প্রত্যেক সাবডিভিশনে
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে
সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল।
তোমাদের যা কিছু আছে
তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।
মনে রাখবা,
রক্ত যখন দিয়েছি
রক্ত আরও দেবো।
এদেশের মানুষকে
মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্।
এবারের সংগ্রাম
আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম।
জয় বাংলা!’’
এরপরে কি থাকে বাকি
যুদ্ধ পরিকল্পনা,
স্বাধীনতার ঘোষণা?
তাই বলে কি জানবো না
বেলাল ভাইদের স্বাধীন করা
স্বাধীন বাংলা বেতার হতে একাত্তরের ২৭শে মার্চ
প্রচারিত ইংরেজিতে
মেজর জিয়ার ঘোষণা:
…On behalf of our great leader,
the supreme commander
of Bangladesh
Sheikh Mujibur Rahman;
we hereby proclaim
the independence
of Bangladesh. …
…May Allah help us,
Joy Bangla;

দেশ পতাকা স্বাধীনতা
শাহীন রায়হান

দুলছে হাওয়ায় সবুজ পাতা টুনটুনিটা ডাকে
নীল আকাশে বিজলি মেয়ে তোমার ছবি আঁকে
দিনটা করে পার,
তোমার নামে সূয্যিমামা রোজ পড়ে গায় নতুন জামা
চাঁদ মামাটা ঝলমলিয়ে খুলে আকাশ দ্বার।

তোমার ছবি ছোট্ট খোকা বুকের মাঝে
আঁকতে থাকে শ্রদ্ধা মেখে সকাল সাঁঝে
তোমায় ভেবে নীল ঘুড়িটা সূতো ছিঁড়ে
উড়তে থাকে স্বাধীনতায় আকাশ নীড়ে।
তোমায় ছুঁয়ে বৃদ্ধ দাদু ভয়কে করে জয়
বলতে থাকে তুমি আকাশ তুমি হিমালয়

তোমার নামে দুলতে থাকে ঝুমকোলতা
মুজিব তুমি দেশ পতাকা স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার প্রথম পর্ব
এনাম আনন্দ

স্বাধীনতা পেয়ে আমরা
করছি কত গর্ব
কারা করল দেশটা স্বাধীন
কখন প্রথম পর্ব।

জাতির পিতার একটি ডাকে
যুদ্ধ হলো শুরু
ইয়াহিয়ার ষড়যন্ত্র
ভুট্টো নাটের গুরু।

বীর বাঙালি যুদ্ধ চালায়
দীর্ঘ ন’মাস ধরে
জীবন বাজি রেখে তাঁরা
দেশটা স্বাধীন করে।

লাল -সবুজের এই পতাকা
পেলাম যুদ্ধ শেষে
বীর বাঙালি ফিরে এলো
স্বাধীন বাংলাদেশে।

স্বাধীনতার সুখ
কাব্য কবির

পরাধীনতায় কষ্ট যে কি
সেই পাখিটাই বোঝে,
যে পাখিটা বন্দি থাকে খাঁচায়,
পাখির মালিক যেমন খুশি
তেমন করে নাচায়।
 
পাখি চায় নীল আকাশে
রঙিন ডানা মেলতে,
মন খুশিতে উড়তে,
নীল আকাশের সাথে পাখি
করতে যে চায় সন্ধি,
মালিক কেন খাঁচায় তারে
রাখছে করে বন্দি?

খাঁচা থেকে পাখি যখন
পেয়ে যায় মুক্তি,
তখন পাখির আনন্দেতে
ভরে ওঠে বুক,
বুঝতে পারে পাখি তখন
স্বাধীনতার সুখ।

স্বাধীনতার গান 
হুসাইন দিলাওয়ার 

স্বাধীন হবে দেশ 
যুদ্ধ লাগে বেশ 
ঝরল কত প্রাণ 
রক্ত শোকের ঘ্রাণ। 

পাকিস্তানি সেনা 
আছে ভীষণ দেনা 
ভয়েতে পালায়
মুক্তি সেনার জ্বালায়। 

রক্ত সাগর ভেসে 
স্বাধীনতা এসে
জাগায় পুলক প্রীতি
একাত্তরের স্মৃতি। 

রঙ তুলিতে এঁকে 
যত্ন করে রেখে
বইছে সুরের তান
স্বাধীনতার গান।

প্রিয় নেতার ভাষণ
মোঃ হাসু কবির

একাত্তরের সাতই মার্চে
রেসকোর্সের ময়দানে
বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেবেন
আমজনতা জানে।

প্রিয় নেতার শুনবে ভাষণ
তপ্ত দুপুর বেলা
লাখো জনতার সমাবেশ
যেন ঢেউয়ের খেলা।

মহান নেতার উপস্থিতি
এলো খুশির বান
লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত
জয় বাংলা জয় গান।

গর্জে ওঠে বীর বাঙালি
শুনে নেতার ভাষণ
পাক হায়েনা দেশটা ছাড়ে
ধুলিসাৎ হয় শাসন।

মুজিব যে তার নাম
মাহমুদ আরিফ

সব বাঙালীর সেরা তিনি
মুজিব যে তার নাম
সারাবিশ্বে মহান নেতার
আছে অনেক দাম।

তাঁর কারণে জাগলো সবে
শত্রু হলো দূর
পাখির গানে ফিরে এলো
বিজয়ের’ই সুর।

জাতির জন্য জীবন দিয়ে
হলেন ইতিহাস
তাঁর কারণে বাঙালীরা
হয়নি কারো দাস।

বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

খোকা নামের সেই ছেলেটির জন্ম টুঙ্গি পাড়ায়,
তখন থেকেই শান্তির জন্যে দস্যু গুলোর তাড়ায়।
নেতার মত করতো সে কাজ ভয় কি আর ডরাই,
আয়োজনে করতো খোকা সবার জন্য লড়াই।

একটি স্বাধীন দেশের জন্য স্বপ্ন শুধু দেখে,
বুক ভরা তার মনের আবেগ গভীর রাতে লেখে।
ছাত্র থেকে যুদ্ধ করার বু্দ্ধি খানা আটে,
ছড়িয়ে পড়ে সে সব খবর শহর নগর ঘাটে।

ন্যায্য দাবির জন্য নেতা তখন দিলো ডাক,
এদেশ স্বাধীন করতে হবে শত্রু নিপাত যাক।
ডাকটা দিলো একাত্তরের মার্চের সেই সাতে,
এই বাঙালি ক্ষেপলো সবাই অস্ত্র নিলো হাতে।

যুদ্ধ হলো ন’মাস জুড়ে স্বাধীন হলো দেশ,
বুঝিয়ে দিলো যুদ্ধ করার শত্রু হলো শেষ।
স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর রক্তে গেলো ভেসে,
বুকের ভেতর শোকের ব্যথা লাল সবুজের দেশে।

সেই ছেলেটি
আনোয়ার রশিদ

একটি ছেলের জন্ম হলো
গোপালগঞ্জের বুকে,
সেই ছেলেটি দেশের তরে
লড়েন ধুঁকে ধুঁকে।

সেই ছেলেটির একটি ডাকে
দেশটা হলো স্বাধীন,
বিজয় এনে দামাল ছেলে
উল্লাসে হয় তাধিন।

সেই ছেলেটি গরীব দুঃখীর
থাকতো পাশে রোজ,
প্রতিবেশী আত্নীয়দের
নিতো সদা খোঁজ।

সেই ছেলেটি সবার চেনা
শেখ মুজিবুর নাম,
মাটির মাঝে মিশে আছে
সেই ছেলেটির ঘাম।

শেখ মুজিবুর
ছাদির হুসাইন ছাদি

শেখ মুজিবুর দেশ জাগালো
শ্রেষ্ঠ ভাষণ দিয়ে,
শেখ মুজিবুর দেশ বাঁচালো
বুলেট বুকে নিয়ে।

শেখ মুজিবুর সবার মাঝেই
শ্রেষ্ঠ হয়ে আছে,
শেখ মুজিবুর বাংলাদেশের
আনাচে-কানাচে।

শেখ মুজিবুর দেশের মুজিব
শ্রেষ্ঠ বলি যারে,
শেখ মুজিবুর জাতির মুজিব
সবার দ্বারে দ্বারে।

শেখ মুজিবুর লাল সবুজের
শ্রেষ্ঠ সেরা ছবি,
শেখ মুজিবুর তোমার আমার
স্বাধীনতার কবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.