সাম্প্রতিক রম্য ছড়া।। সায়েদুল আরেফিন

মুনিয়া

পাখির নামে নামটি ছিলো
ছিলে বন্দি পাখি,
দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ায়
খুললো বিবেক আঁখি।

ছিলে তুমি বাপ-মা হারা
ঘর হারানো মেয়ে,
রূপের জেল্লা ছিল বেশী
বিবেক বোধের চেয়ে।

মিথ্যা কথার ছলে বলে,
নষ্ট পুরুষ দল,
মিষ্টি কথায় করেছিলো
ভালোবাসার ছল।

যদের আপন ভেবে তুমি
ভরসা করেছিলে,
তারাই তোমায় ফাঁসিয়েছিল
মিষ্টি কথার জালে।

হয়তো তারা টাকার লোভে
তোমায় করে ঢাল,
খ্যাতির লোভে হয়েছিলো
স্বেচ্ছা বেসামাল।

খুবই ছোট মানুষ তুমি
জানো না সব ভাষা,
বুঝতে তুমি পারোনিকো
মেকি ভালোবাসা।

বিলাসবহুল ফ্লাটে রেখে
নিত্য শপিং করা,
কপট ভালবাসায় তুমি
হলে পাগল পারা।

অসৎ পথে টাকা এলে
আসে অনেক রোগ,
সবার আগে রোগটা আসে
সুন্দরী সম্ভোগ।

মা বোনেরা এদের কাছে
শুধুই ভোগের নারী,
পড়লে ধরা নানা কথার
চলে যে ফুলঝুরি।

ভোগের জন্য খুন খারাবি
নস্যি তাদের কাছে,
লজ্জা শরম সব কিছুকে
ভাবে তারা মিছে।

নিত্য তাদের নতুন সাকি
রাতে দিনে চাই,
এসব জোগাড় করতে নেবে
যে কোন উপায়।

খুন খারাবি তাদের কাছে
নিতি নিত্য খেলা,
খুনের খবর করতে হজম
বসবে টাকার মেলা।

ভোগের মোহ টুটে গেলে
বলবে কানে কানে,
দিতে যোগান দালাল যেন
নতুন রসদ আনে।

তোমার সাথে কী হয়েছে
দেশের সবাই জানে,
নেইকো সাহস তাই তো কথা
বলে কানে কানে।

হয়তো খুনি পালিয়ে গেছে
আছে দুরের দেশে,
কিংবা আমাদেরই মাঝে
আছে ছদ্মবেশে।

খুনির বিচার আইন দিয়ে
অনেক কঠিন হায়,
মরার পর দুদিন গেলেই
সবাই ভুলে যায়।

তোমার জন্য কোটি প্রাণে
আহাজারি আছে,
প্রাণের আশিস, মনের দোয়া
হয়না কভু মিছে।

হরিলুট

চারিদিকে বসে গেছে
লুটেরাদের মেলা,
দেশ জুড়ে চলছে এখন
সাগর চুরির খেলা।

আমার বাপের করের টাকায়
স্বাস্থ্যসেবা পেতে,
নানান নামে অনেক টাকা
আমকে হয় দিতে।

হাসপাতালের যন্ত্রপাতি,
ওষুধ কিনতে গিয়ে,
একশ’ টাকার জিনিস কেনো
হাজার টাকা দিয়ে!

সাংবাদিকের সাথে তোমার
বিশেষ যোগসাজশ,
চুরি হলেই মিডিয়া বলে
রাজনীতিকের দোষ।

জনগণের দুঃখ গাথা
কার কাছে যে বলি!
তোমার চুরি ধরতে গেলে
দেখাও আন্ধা গলি।

লজ্জা শরম সব কিছুই
দিয়ে জলাঞ্জলি,
চোরের দলের মুখে ছোটে
নীতিকথার বুলি।

মুখে কুলুপ দিয়ে বসো
পড়লে ধরা যেই,
হাজার লাত্থি কিল চড়েও
মুখে কথা নেই।

তোমার ছেলে, তোমার মেয়ে
বিদেশ বিভূঁই পড়ে-
তোমার চুরির টাকা দিয়ে
দামি গাড়ি চড়ে।

দামি পোশাক, বিরাট বাড়ি
তোমার ছেলে কেনে-
চুরির টাকায় বিলাস কেলি
সবাই কিন্তু জানে।

শত চুরির মাঝেও আমার
দেশ এগিয়ে যাবে,
একশ’ বছর পরে হলেও
চুরির বিচার হবে।

রাজাকারের বিচার যদি
এতো পরে হয়,
তোমার চুরির বিচার কেন
দেরি হলেও নয়?

আমার ছেলে হচ্ছে মানুষ
লাগুক সময় বেশী,
মরার পরেও ইচ্ছে দেখার
তোমার গলায় রশি।

সব কিছুরিই আছে সীমা
আছে সবার রেশ,
আজরাইলে ধরবে ঠেসে
সময় হলে শেষ।

তাইতো বলি বন্ধ করো
মৌজ মাস্তির মেলা,
সময় থাকতে সাঙ্গ করো
হরিলুটের খেলা।

রাজনীতিবিদ বোকা হলে
আমলা চালায় দেশ,
লুটের হোলি খেলা চলে
আমজনতা শেষ।

বেশ্যা

টাকায় দেহ বেচি আমি,
আমায় বেশ্যা বলো তুমি।
টাকায় আমার দেহ নাও
বেশ্যা বলে গালি দাও।

তবে-

নৈতিকতা বেচে যারা টাকায়
তাদরেও কি বেশ্যা বলা যায়?
টাকা নিয়ে ফাইলে সই করে
পরজীবী বেশ্যা বলো তারে!

চাকুরী দিতে টাকা নিলো বলে
তাদের তুমি বেশ্যা আখ্যা দিলে!
টাকা খেয়ে আসামীকে জামিন
তারাও কি বেশ্যালয়ের কামিন?

দলের পদ বেচে যারা টাকায়
তাদরও কি বেশ্যা বলা যায়?
টাকা নিয়ে নমিনেশন বেচে
সে কি তবে বেশ্যা তোমার কাছে?

ঠিকাদারির কাজটি বেচে যারা
অফিস পাড়ার ভদ্র বেশ্যা তারা!
বুদ্ধি বেশ্যা কলম বেচে খায়
মিথ্যা লিখে করে টাকা আয়।

ধর্ম কথার মিথ্যা ব্যাখ্যা দেয়
তাদের কি গো বেশ্যা বলা যায়?
মামুনুলদের কী নাম দেবে তুমি!
ধর্ম বেশ্যা বলবো তাদের আমি?

মায়ের মুখে দিতে আহার
কিনতে ওষুধ পঙ্গু বাবার,
দেহ ছাড়া বেচার কিছু নাই
তখন আমি বেশ্যা হয়ে যায়!

তোমার মেয়ে যে বয়সে হায়
মাস্তি করতে ক্লাব পার্টিতে যায়,
বঞ্চনাতেই আমি দেহজীবী
বেশ্যা তুমি, তুমিও পরজীবী।

শেষে-

নানা জায়গায় আমায় দিয়ে
নিচ্ছ তুমি কাজ বাগিয়ে,
তোমার দেহে ভদ্রলোকের সাজ
আমার মাথায় ‘বেশ্যা মাগি’র তাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *