অণুগল্প।। স্মৃতিতে ফেরা।। তাসলিমা কবীর রিংকি

বিকাল থেকে মুসল ধারে ঝরছে শ্রাবণের অঝোরধারা। বৃষ্টি হচ্ছে রুম থেকে বেশ ভালই বোঝা যাচ্ছে। রুম থেকে বের হয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাহিরে চোখ রাখলো লিনা ।চারদিকে কেমন নিস্তব্ধতা! কোথাও কোন শব্দ নেই মনে হচ্ছে নগরের কোলাহল আজকে বিদায় নিয়েছে । আকাশের হঠাৎ হঠাৎ বজ্রপাত।সোডিয়ামের আলোয় বৃষ্টির সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে যতদূর চোখ যায়। নীরব রাতে শুধু শ্রাবণের অবিরাম ধারার এক মিষ্টি অনুরণন। বেলকনিতে থাকা গাছগুলো আজ বর্ষার জলে স্নান করে উন্মোচিত করলো নবযৌবন ,বাতাসের তোড়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টির ঝাপটা এসে পড়ছে লিনার চোখে মুখে। তাতে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। পড়ছে তো পড়ুক না। ভালই তো লাগছে! পরক্ষনেই মনে হলো বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসতে পারে। তাই জানালার পর্দা সামান্য সরিয়ে দিয়ে বিছানায় শুয়ে আয়েশ করে বৃষ্টি উপভোগ করছে লিনা। এই নীরবতাকে ভেদ করে হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজে লিনার বৃষ্টিবিলাসে ছেদ পড়ে। বিরক্ত হয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল । কে ! কে আপনি?’ দরজার ওপাশ থেকে উত্তর আসে আমি শাওন বিপদে পড়েছি। এই বৃষ্টির রাতে কোথাও আশ্রয় নিতে পারছি না। দয়া করে আমাকে ভেতরে আসতে দিন। বৃষ্টি থেমে গেলে আমি চলে যাবো আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি। কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললো দরজার ওপাশের মানুষ টা। যদিও এই মূহুর্তে দরজা খোলা নিরাপদ নয়। তবুও লিনার মনে দয়ার ঢেউ নেচে উঠেছে। দুটি কারণে লোকটার নাম শাওন, দ্বিতীয় কারণ স্ত্রী হাসপাতালে। তাই ডোর হোলে একবার চোখ রাখে লিনা ,যাচাই করে নিতে। লম্বা , সুঠাম দেহের বেশ ভদ্র লোক দাড়িয়ে ।দরজা খোলে অবাক চোখে তাকায় লিনা তেমনি শাওন তাকিয়ে আছে লিনার দিকে। লিনার চোখে মুখে বিস্ময়! মূহুর্তেই ভেসে যায় সোনালী অতীতে– ভেতরে আসুন। শাওন কোন কথা না বলে চুপচাপ লিনাকে অনুসরণ করে। অপ্রস্তুত লিনার মনে রাজ্যের আকুলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.