সায়েন্স ফিকশন কিশোর উপন্যাস।। পয়েন্ট থ্রি টু সিক্স এফ এক্স।। আহমেদ রিয়াজ।।পর্ব দুই

বাবা, ‘এই রোবটটা কিনে এনেছি, দেখতো কেমন হয়েছে?’

বাবা সংবাদপত্র পড়ছিলেন। হার্ডকপি। এখনও সংবাদপত্রের হার্ডকপি প্রকাশ হচ্ছে। যদিও বেশিরভাগ সংবাদই এখন জানা খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। অর্ন্তজাল তো আছেই, তাছাড়া শুধু সংবাদ প্রচারের জন্য একটা গেজেট পাওয়া যায়। দুনিয়ার যত খবরাখবর ওই গেজেটে এসে জমা হয়। ওখান থেকে নিজের পছন্দমতো সংবাদ পড়া যায়। আবার গেজেটও দিনের প্রধান খবরগুলো একবার করে জানান দেয়। সেখান থেকে বাছাই করে সংবাদের বিস্তারিতও শোনা যায়, দেখা যায়। তবে ছাপা হওয়া সংবাদপত্রে এমন কিছু প্রকাশ হয়, যা গেজেটে থাকে না। অর্ন্তজালেও থাকে না। তবে কাগুজে সংবাদপত্র ছাপা হয় খুবই কম। আগে থেকে গ্রাহক হতে হয়। গ্রাহক হওয়ার সময় বাৎসরিক মূল্য আগেই পরিশোধ করতে হয়। আর প্রতিমাসে পুরনো সংবাদপত্রগুলো কাগজ কারখানায় চলে যায়। রিসাইকেল। পূর্ণব্যবহার।

পড়ায় মনোযোগের কারণে আসিফের কথা শুনতে পাননি বাবা। তাই আসিফের কথারও জবাব দিলেন না।

আবারও বলল আসিফ, ‘আমাদের আর কারণ দর্শাতে হবে না বাবা। এই রোবটটা এনেছি।’

এবার শুনতে পেলেন বাবা। পেপার থেকে মুখ না তুলেই জানতে চাইলেন, ‘কত মডেল?’

‘পয়েন্ট থ্রি টু সিক্স এফ এক্স।’

রিনরিনে গলার শব্দ! আসিফের কণ্ঠ তো এমন নয়?

পেপার থেকে মুখ তুললেন বাবা। সামনে তাকালেন। চোখের সামনে আসিফ দাঁড়িয়ে আছে। পাশে একটা রোবট। অতি প্রাচীন ধাঁচের। দূর থেকে দেখলে মানুষ বলে ভুল করবে যে কেউ। হাস্যকর হলেও মাথায় চুল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। রোবটদের চুল আবার কী দরকার বুঝতে পারলেন না। বাবা বললেন, ‘বয়স?’

তিনশ বাহাত্তর ঘন্টা আটচল্লিশ মিনিট বেয়াল্লিশ সেকেণ্ড….তেতাল্লিশ

সেকেণ্ড… চুয়াল্লিশ সেকেণ্ড… পঁয়তাল্লিশ সেকেণ্ড….

বাবা এবার হাত তুলে বললেন, ‘থাক, আর বলতে হবে না। প্রশিক্ষণ নিয়েছ কোথায়?’

‘দুই লক্ষ তেত্রিশ হাজার সাতশ আলোকবর্ষ দূরের কোনো এক গ্রহে।’

‘নাম?’

‘কার নাম? আমার না গ্রহের? মানুষের মতো আমার কোনো নাম নেই। কেবল মডেল

নাম্বার। ওটাই নাম হিসেবে প্রচলিত।’

‘আমি জানি। আমি গ্রহের নাম জানতে চেয়েছি।’

‘নাহ্। নাম জানতে দেয়া হয়নি। কারণ…’ রোবটের স্বরের আক্ষেপটুকু বুঝতে পারলেন বাবা। তবে অবাক হননি। কারণ এখনকার রোবটগুলো আরো উন্নত। ডেলিভারি দেওয়া শব্দেই আবেগ প্রকাশ করতে পারে। রোবটটার আক্ষেপটুকু পুরো ডেলিভারি হওয়ার আগেই থামিয়ে দিলেন বাবা। বললেন,

‘কারণ জানতে চাইনি। এর আগের রোবটটাকে বের করে দিয়েছি কেন জানো?’

‘জ্বী। ওভার ডেলিভারির জন্য। মানে কথা বেশি বলার জন্যে। আমি অবশ্য…’

বাবা আবারও রোবটটার কথা কেড়ে নিয়ে বললেন, ‘ তোমাকে শেষবারের মতো বলছি।

এরপর থেকে একটা শব্দ বেশি উচ্চারণ করলে তোমাকে বেকার হয়ে থাকতে হবে। মনে

থাকবে?’

রোবটটা কোনো কথা বলছে না দেখে বাবা আবার বললেন, ‘তবে যে কোনো প্রশ্ন করলে চুপ করে থাকবে না। ঠিক ঠাক জবাব দেবে। বেশিও নয়, কমও নয়। একেবারে ঠিকঠাক। আর কথা যদি বেশি বলতে ইচ্ছে করে তাহলে রাতে একা একা বলবে।

তোমার কথা শোনার জন্যে তোমাকে কিনে আনা হয়নি। মনে থাকবে?’

‘জ্বী, থাকবে। উপদেশের জন্য ধন্যবাদ। আপনি কি এখন এক কাপ চা খাবেন?’

বাবা মুচকি হাসলেন। রোবটটার চোখে ধরা পড়ল কি না বুঝতে পারলেন না। শুধু কথা বলার সময় ওটার চোখ খোলা থাকে। চোখ না অন্য কিছু। মটরদানা আকারের একটা স্ক্রিন। খুব ছোট চোখ। চীনাদের মতো। যদিও অনেক চীনা এখন নিজেদের চোখের আকারও বদলে ফেলেছে। বড় বড় চোখের চীনাও আছে। তবে বাবা এর মধ্যেই বুঝে গিয়েছেন, চোখ খোলা রাখার জন্যেই রোবটটা বেশি কথা বলতে চায়। বললেন, ‘তোমার অনুরোধের জন্যেও ধন্যবাদ। যাও, চা নিয়ে এসো।’ চা আনার জন্য ঘুরে গেল রোবট। ঘুরল মানে পুরো শরীর ঘুরতে হলো না। কেবল ওটার মাথা ঘুরে গেল ৩৬০ ডিগ্রি। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই বাবা বললেন, ‘পয়েন্ট থ্রি টু সিক্স এফ এক্স!’

আবার ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরল রোবটের মাথা। এবার বাবার দিকে তাকিয়ে রোবট বলল,

‘বলুন।’

‘তোমার চুলগুলোকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করবে। সরল রেখার মতো খাড়া চুল আমি সহ্য করতে পারি না। এবার যাও।’

কিছু একটা বলতে গিয়েও বলল না রোবটটা। থমকে গেল। মনে হলো কোনো যন্ত্র স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাড়া দিলেন বাবা, ‘হ্যাং হয়ে থেকো না। বড্ড চায়ের তৃষ্ণা পেয়েছে। শিগগির যাও।’

আবার ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরল রোবটের মাথা। তারপর দ্রুত বেগে চলে গেল।

Series Navigation<< কল্পবিজ্ঞান কিশোর উপন্যাস।। পয়েন্ট থ্রি টু সিক্স এফ এক্স।। আহমেদ রিয়াজ।। পর্ব এক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *