এ্যানি আক্তার এর কবিতা

মন খারাপের আয়োজন

তুমি আমার চিলেকোঠার
নাম না জানা রোদ্দুর,
তুমি আমার পুষে রাখা
ছোট মনের এক সমুদ্দূর।

তুমিই আমার বৃষ্টি বেলা
ভিজিয়ে দেয়া শ্রাবন ধারা,
তোমার মাঝেই লুকিয়ে থাকে
আমার সকাল, দুপুর, সন্ধ্যাবেলা।

তুমি আমার খোঁপার ভাঁজে
গুঁজে রাখা কাঠগোলাপ,
ছন্নছাড়া ইচ্ছেগুলোর
লুকিয়ে থাকা মন আলাপ।

তুমি আমার রাত্রি কালের
হঠাৎ দেখা শুকতারা,
মন বিষাদে ডুবে থাকি
এই আমিটা তুমি হারা।

তুমি আমার খামখেয়ালী
উড়ে যাওয়া সুখপাখিটা;
যাবিই যদি আমায় ছেড়ে
তবে না হয় চলেই যা।

তুমি ছিলে সুখ পাখিটার
পালক ছেড়া প্রতিদান,
মন গহীনে পুড়ে যাওয়া
আমার জ্বলন্ত এক অভিমান।

তুমি আমার হঠাৎ করেই কান্না পাওয়া
মন খারাপের আয়োজন।

বৃষ্টি মানেই তুই

এখন আমার ভাল্লাগে না বৃষ্টি হওয়ার ক্ষনে
জলকন্যার মনের জলে বিষাদ কেনো জমে?
কেউ দেখেনা, কেউ বোঝেনা, কেউ ছোঁয় না মনে
এখন কেনো সুর বাজেনা, তোরই কানে কানে?

জলকন্যার গা ভিজে যায়, মন ভেজে
বৃষ্টি ছুঁয়ে কান্নারা আজ লুকিয়ে গেলো তার,
অাজন্ম এক তৃষ্ণা পোষে, ‘জল’ হবে সে কার?
খুব গোপনে অসুখ করে, যেনো বৃষ্টি মানেই হার।

তবুও কেনো জলকন্যার ‘অপেক্ষা’ এক
বৃষ্টি গড়াবার
নিখোঁজ চিঠি লিখেরে তুই, ঠাঁই নিলি কার দ্বার?
ভুলেই গেছিস এখন যে তুই, বৃষ্টি ছিলো তার
জলকন্যার জলের তৃষ্ণা, শুধু তোর সাথে ভেজবার।

এখন আমার বৃষ্টি মানেই মিথ্যে নামের ‘ক্ষত’
জলের দামে নিলাম করি ‘সুখযাতনা’ যতো,
জলকন্যার অভিমান আজ, হিসেব নিবি কতো?
বৃষ্টি এলেই আবার গুনিস
এক এক করে জলের ফোঁটার মতো।

আমিহীনতা

আমি চাই, খুব করে চাই
একদিন হৃদয় দহনে আপনিও পুড়ুন
ঠিক যেমনটা আমি পুড়ছি।

আমি চাই, খুব করে চাই
একদিন সেই সব শূণ্যতারা আপনার পিছু নিক,
ঠিক যতটা পূর্ণতার অভাবে আমাকে রেখে যাচ্ছেন।

আমি চাই, খুব করে চাই
কোনো এক রাতে কান্না পেলে
ঠিক ততটাই একাকীত্ব পেয়ে বসুক অাপনাকে,
যতটা উপেক্ষিত এই আমিটার
প্রতিটা নির্ঘুম রাত একটা অভিশাপ হয়ে থাকে।

আমি চাই, খুব করে চাই
এই আমিটার অভাব একদিন
আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখুক;
সেদিন আপনি ভীষণ রকম ‘আমিহীনতায়’ ভুগুন।

মায়া

একটা শিউলি ফুলের গাছ কিনেছিলাম
শিউলির মায়া পুষবো বলে,
কিন্তুু রোজ যখন শিউলিগুলো গাছ থেকে ঝরে
নোংড়া মাটিতে অবহেলায় পরে থাকতো,
তখন মনে হতো ফুলগুলো বুঝি জীবনের মায়া হারাতে বসেছে;
নির্মম মৃত্যু দেখে আমার তখন ভীষণ কষ্ট হতো,
‘শিউলি মায়া’র জন্যে।

এরপর আকাশের বুক থেকে চুরি করলাম এক টুকরো মেঘ
বৃষ্টির মায়া পুষবো বলে,
কিন্তুু রোজ আকাশের ইচ্ছের হাতে বন্দী হওয়া মেঘগুলোকে
লুকিয়ে যেতে হয় তপ্ত রোদের রোষানলে।
মেঘ গুলোর মায়াকান্না যেনো কখনও কখনও
কালো হয়ে ছেয়ে যেতো আকাশ জুড়ে,
খানিকটা বৃষ্টির জল গড়িয়ে আবারও
রোদ্রের অাড়ালে ইচ্ছে মৃত্যু ঘটাতো;
ভীষন কষ্ট হতো আমার তখন,
‘বৃষ্টি মায়া’র জন্যে।

হঠাৎ একসময় নিজেকে ভালোবাসতে ইচ্ছে হলো
কবিতার মায়া পুষবো বলে,
কিন্তুু হঠাৎ অাসা তুমিটা শূণ্য করে দিয়ে গেলে
ভেতরের সবটা।
‘তুমিহীন আমি’টাকে আমার আর ভালোবাসা হলো না,
ভালোবেসে কারো কাব্য হওয়া হলো না;
জানো, ভীষণ কষ্ট হতে লাগলো আমার তখন,
‘কবিতা মায়া’র জন্যে।

মনপোড়া সুখ

আপনার নামে যদি এক টুকরো মন কিনে দেই,
তবে কি ভালোবাসার চাষ করে
আবাদী করে তুলতে পারবেন?
নাকি অবহেলার খরা খাতায় নাম লিখাবেন?

যদি মনের ভেতর
ছোটো একটা মনঘর তুলে দেই,
তবে কি ঝড় বৃষ্টিতে আগলে রাখতে পারবেন?
নাকি টিনের চালের মত হেলে পড়া
বিশ্বাসের স্তম্ভে জং ধরা নোনা বিষাদ;
উপেক্ষার আড়ালে ফেলে রাখবেন?

অস্পর্শী আমিটা যদি আপনার পায়ে
মনপোড়া কিছু সুখ লুটিয়ে দেই,
তবে কি পারবেন?
কাঙাল মনে ঘর বেধে, মায়ার যতনে ভুলিয়ে দিতে
বুকের বাঁ পাশের দগদগে এক ‘মনঅসুখ’?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *