একাত্তরের সাবিহা- রণাঙ্গনে ফুটে থাকা রক্তজবা।। নাহিদা আশরাফী


স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এমন একটি উপন্যাস নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি যার পরতে পরতে যুদ্ধের বিভীষিকারসাথে জড়িয়ে আছে এদেশের আপামর বাঙালির অপরিমেয় সাহস ও বীরত্ব গাথার এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের সহজ-সরল নারী প্রয়োজনে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তার এক নিগুঢ় ও নিখুঁতবর্ণনা আমরা খুঁজে পাই সাবিহা চরিত্রের মধ্য দিয়ে। নারী মানেই এক মায়ের প্রতিরূপ। আর সেই মায়ের সামনেথেকে সন্তান কেড়ে নেয় এমন সাধ্য কার। নিজের অস্তিত্বের সংকটকে তুচ্ছজ্ঞান করে গোয়েন্দা সাবিহামুক্তিবাহিনীর কাছে সরবরাহ করে যায় একের পর এক গোপন তথ্য। জানোয়ারের খাঁচায় বন্দী সাবিহার জন্যেমুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তথ্য পাচার কতটা ভয়াবহ তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। প্রতি পদে মৃত্যুর হাতছানি। তবুদমে যায়নি সাবিহা। যদিও শেষ রক্ষাও হয়নি তার, তবু ঘোর অমানিশা কাটিয়ে এক নতুন ভোরের আশায় তারঅপেক্ষা। কুষ্টিয়া শহরের এই বীর যোদ্ধার পরিণতি, তার আত্মানুসন্ধানের চাপা বেদনা, তার হতাশা আরনিরঙ্কুশ মর্মবেদনা এত সাবলীল ও সহজাত বর্ণনায় লেখক রেজাউল করিম ফুটিয়ে তুলেছেন যে পড়তে গিয়েএকবারও মনে হয়নি উপন্যাস পড়ছি। মনে হয়েছে প্রতিটি চরিত্র কলমের টানে এঁকে তিনি আমাদের চোখেরসামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন এবং প্রতিটি ঘটনা আমার অন্তর্লোকে এক সবাক চিত্র তুলে ধরেছে। এটাইসাহিত্যপ্রেমী পাঠকের কাছে একজন কথাসাহিত্যিকের সবচেয়ে জোরালো অবস্থান। জলধি থেকে প্রকাশিত ২৩২পৃষ্ঠার এই দৃষ্টিনন্দন উপন্যাসটির প্রচ্ছদ শিল্পী কাব্য কারিম। গায়ের মূল্য ৩৫০ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.