শিশুতোষ গল্প।। ইঁদুরদের জরুরি সভা।। শাকিব হুসাইন

সকাল থেকে ছোট ইঁদুর সারা মাঠে ঢোল পিটালো। আর ঘোষণা দিল, আগামীকাল সকাল নয়টায় মাঠের উত্তর কোণে আমগাছের নিচে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করবেন ইঁদুর নেতা ইঁদুয়াল ওরফে ইঁদু। উক্ত সভায় আপনারা সকলে আমন্ত্রিত। আশা করি আপনারা ঠিক সময়ে উক্ত সভায় উপস্থিত থাকবেন।

ছোট ইঁদুরের ঘোষণা শুনে সকল ইঁদুর চিন্তায় পড়ে গেল। হঠাৎ নেতা আবার কিসের সভা ডাকলো। এখন তো নির্বাচনেরও সময় নয়। তাহলে আবার কিসের জন্য সভা। কারো মাথায় কোন বুদ্ধি খেলে না। সবাই আগামীকালের জন্য অপেক্ষায় থাকলো।

আজ ঠিক সময়ে সকল ইঁদুর মাঠের উত্তর কোণে আমগাছের নিচে চলে এসেছে। কয়েকজন ইঁদুর নেতার চামচারা মঞ্চ ও মাইক্রোফোন ঠিকঠাক করছে। কিছুসময়ের মধ্যে সব ঠিকটাক করে ফেলল তারা।
কিছুক্ষণ পর চলে এলো ইঁদুর নেতা ইঁদুয়াল ওরফে ইঁদু। সবাই উচ্চস্বরে বলতে লাগল, ইঁদু নেতার আগমন। শুভেচ্ছার স্বাগতম । আমার নেতা তোমার নেতা ইঁদু নেতা! ইঁদু নেতা। ইঁদু নেতার চরিত্র; ফুলের মতো পবিত্র।
ইঁদুর নেতা ইঁদুয়াল ওরফে ইঁদু মঞ্চে উঠলেন। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ছোট ইঁদুর বলল…

—আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে আমাদের সবার যোগ্য নেতা। এখন আপনাদের সামনে বক্তব্য নিয়ে আসছেন সম্মানীয় নেতা ইঁদুয়াল ওরফে ইঁদু।

ইঁদুর নেতা মাইক্রোফোন হাতে নিল। কয়েকবার হ্যালো মাইক্রোফোন চেক বলে বক্তব্য শুরু করল।

—প্রিয় ইঁদুর সকল ,
আজকের এই সভা ডাকা হয়েছে একটা জরুরি বিষয়ে। আমরা সকলে জানি এখন হেমন্তকাল। বাংলা কার্তিক-অগ্রহায়ণ এ দু’মাস নিয়ে হেমন্তকাল। এই হেমন্তকাল আমাদের ইঁদুরদের জন্য উৎসবের একটা সময়। আর কিছুদিন পর মাঠে মাঠে শুধু পাকা ধান আর ধান। পাকা ধানের গন্ধে সবার মন নেচে উঠবে। সবাই যে যার মতো করে কৃষকের ধান নিজের গোলায় ভরবে। কয়েকমাসের খাদ্য সংরক্ষণ করে রাখবে নিজের গোলায়। তাতে হয়তো তোমরা খুশিতে আটখানা হয়ে যাবে।

সবাই উচ্চস্বরে বলে উঠলো…

—আপনি ঠিক বলেছেন নেতা সাহেব। এ ঋতুই তো আমাদের জন্য আশীর্বাদ। যত পারো তত ধান নিজ গোলায় ভর্তি করে রাখো।

ইঁদুর নেতা বলল…

—তা অবশ্য ঠিক। আমাদের সবার জন্য এ ঋতু আশীর্বাদ। তবে একবার সেই মানুষদের কথা ভেবে দেখো, যারা এই ধান ফলিয়েছে। তাদের কি হবে?

ইঁদুর নেতার কথার মাঝে গাট্টু ইঁদুর বলে উঠলো…

—আপনি আবার কবে থেকে মানুষদের কথা ভাবতে শুরু করলেন? আপনি আমাদের নেতা না মানুষের নেতা?

গাট্টু ইঁদুরের কথায় উপস্থিত সকলে হো হো করে হেসে উঠলো। তখন ইঁদুর নেতা বলল…

—আমি মানুষের হয়ে কথা বলছি এই ধারণা আপনাদের ভুল। একটা কথা বলুন তো, আপনাদের জমানো খাদ্য যদি কেউ চুরি করে নিয়ে যায় তাহলে আপনাদের কেমন লাগবে?
—অবশ্যই আমাদের খারাপ লাগবে।
—ঠিক মানুষেরা বেলায়ও তেমনই। কেউ কি একবার ভেবে দেখেছ গরীব কৃষকদের কি হবে? যারা দিনরাত পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এই ফসল ফলায়। এতো কষ্টের ফসল যদি কেউ চুরি করে তাদেরও খারাপ লাগে। তোমাদের মতো ওদেরও সন্তান আছে। ওরাও কখনো কখনো অনাহারে থাকে। আর তার কারণ হচ্ছে, ফসলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ধরা। আর কীটপতঙ্গ তো আছেই। এতে ফলন কমে যায়। তার উপরে তো আমরা। সেই ফসলের উপর ভাগ বসাই। এর কারণে কৃষকরা অনাহারে থাকে।

ইঁদুর নেতার কথা শুনে সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো ইঁদুর নেতার দিকে। একজন বলল…

—এই ধান সংগ্রহ না করলে তো আমাদের বিপদ। আমরাও তখন অনাহারে থাকব।

ইঁদুর নেতা বলল…

  • আমাদের কোন বিপদ হবে না আর মানুষেদেরও অনাহারে থাকতে হবে না । সবাই শোনো , আমরা আমাদের প্রয়োজন মাফিক ধান খাবো । তার চেয়েও যদি কম খেতে পারি তাহলে আরো ভালো । আমরা নিজের খাবার নিজে সংগ্রহ করব । যে যেখান থেকে পারি । তাহলে আমরাও কখনো অনাহারে থাকব না আর মানুষেরাও কষ্ট পাবে না ।

সবাই ইঁদুর নেতার কথায় সমর্থন জানালো । সবাই শপথ নিল , আজকের পর থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক ধান তারা সংগ্রহ করে রাখবে না । নিজে নিজের খাদ্য সংগ্রহ করবে ।

সবাই একসাথে বলে উঠলো…

জয় ইঁদু নেতার জয় ।

(গ্রাফিক্স ডিজাইন ইন্টারনেট থেকে নেয়া)

Leave a Reply

Your email address will not be published.