জয় বাংলা শিশুসাহিত্য উৎসব জাহাঙ্গীর আলম জাহান-এর ছড়া

স্বাধীনতা

স্বাধীনতা দুষ্টু মেয়ের
নূপুর পায়ে নাচা
বন্দি পাখি ছেড়ে দিতে
মুক্ত করা খাঁচা।

স্বাধীনতা রাখাল ছেলের
উদাস দুপুর বেলা
নিপীড়িতের কালো মানিক
তিনি যে ম্যান্ডেলা।

স্বাধীনতা রেসকোর্সের
বজ্রকঠিন সুর
জাতীয়তার পথদিশারী
মহান মুজিবুর।

স্বাধীনতা হো-চি-মিনের
সেই জাগরণ বাণী
চে’র চেতনায় জাগ্রত মন
দূর করা সব গ্লানি।

স্বাধীনতা শেকল ছেঁড়ার
দুর্বিনীত চাওয়া
গলা ছেড়ে মুক্ত মনে
বিজয়-গীতি গাওয়া।

শেকড়কথা

স্বাধীনতা দয়ার ছলে কেউ করেনি দান
যুদ্ধ করে আনলো কিছু গর্বিত সন্তান।
ফেব্রুয়ারির একুশ ছিল
স্বাধীনতার ভিত্
ভাষার দাবির মধ্য দিয়ে
জেগেছে সম্বিৎ।
এই দাবিতে সর্বপ্রথম রক্ত ঝরে লাল
ক্ষুব্ধ জাতি হয়েছিল বিক্ষোভে উত্তাল।

আত্মত্যাগে অবশেষে
অর্জিত হয় ফল
বীর বাঙালি যুদ্ধ শেষে
মুক্ত প্রাণোচ্ছল।

ফেব্রুয়ারির একুশ ছিল স্বাধীনতার মূল
এই দিবসে প্রাণে প্রাণে তাইতো হুলুস্থুল।
স্বাধীনতার শেকড় পোঁতা
ফেব্রুয়ারির মাঝে
শহিদ মিনার সজ্জিত হয়
ফুলের কারুকাজে।
রক্তরাঙা ফেব্রুয়ারি সাহস বাড়ায় মনে
ভক্তি এবং শ্রদ্ধা করি ভাষার প্রয়োজনে।

সেই ধোঁয়াশা দূর হয়েছে

পাখির ঠোঁটে গান ছিল না, ফুলও তখন ফুটতো না
উজান জলের ঢেউ প্রবাহে নদীর জলও ছুটতো না।
সব কিছুতেই নির্জীবতা, প্রাণ ছিল না প্রাণে আর
মন হতো না পাগলপারা জীবনবোধের টানে আর।

সেই সময়ে শেখ মুজিবুর যেই-না তোলেন তর্জনী
কঠিন স্বরের হুঙ্কারে তার বাজলো বাঘের গর্জন-ই
অমনি পাখি গান ধরেছে, ফুল ফুুটেছে গন্ধরাজ
বুকের পাথর সরে গিয়ে হয় সকলের মন দরাজ।

প্রাণে প্রাণে জোয়ার এলো, বাড়লো সাহস দুরন্ত
সব বাঙালির সুপ্ত আশা হবেই এবার পূরণ তো।
পাড়ায় পাড়ায় দুর্গ গড়ার ধুম পড়েছে কী ভীষণ
বীর বাঙালি কোমর বাঁধে করতে দমন বিভীষণ।

এই বিভীষণ কী যে ভীষণ মানুষখেকো বাঘ ছিল
বীর বাঙালির প্রতি তাদের দীর্ঘ দিনের রাগ ছিল
রাগের বশে নির্বিচারে মারলো মানুষ, পুড়লো ঘর
দীর্ঘ ন’ মাস সইলো মানুষ এই নিপীড়ন নিরন্তর।

কিন্তু মানুষ চুপ থাকেনি, রয়নি ঘরে বন্দি কেউ
পাল্টা মারে দেয় গুঁড়িয়ে ওদের অসৎ ফন্দিকেও।
চলতে থাকে তুমুল লড়াই, ঘাতকরা হয় খুব ভীত
পাপে পাপে পূর্ণ ভাঁড়ার, পাপেই এবার ডুববি তো।

হানাদাররা ডুবলো এবং আমরা বিজয় লাভ করি
স্বাধীনতার শত্রু চিনেও তাদের সাথেই ভাব করি
শেখ মুজিবের আদর্শকে দিলাম জলাঞ্জলি ঠিক
দেশবিরোধী কর্ম দেখেও আমরা তাকে বলি ঠিক।

সেই ধোঁয়াশা দূর হয়েছে, বইছে বাতাস অনুকূল
হানাদারের দোসরগুলো পায় না যেন কোনো কুল
একাত্তরের চেতনাকেই করবো সবাই ধারণ আজ
এসো করি দেশবিরোধীর শেকড় অপসারণ আজ।

কে বলে রে

সব কিছুতেই উল্টো নিয়ম-
দেশটা পেছনমুখী হয়
মূল চেতনার সঙ্গে ওদের
নিত্য ঠোকাঠুকি হয়।

তারপর সেই জাতি যখন
ফুঁসেই ওঠে কী দুর্বার
মাথার ওপর বইতে নারাজ
একাত্তরের ইঁদুর-ভার।

ইঁদুর মারার জন্য এ দেশ
চালায় তুমুল যুদ্ধ
এই জাতি নয় ভীরুর জাতি-
বীরের মতোই ক্রুদ্ধ।

ক্রুদ্ধ জাতি জাগলে আবার
হবেই তাদের জিততে
কে বলে রে একাত্তরের
সেই ইতিহাস মিথ্যে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.