সতেরো জন ছড়াকারের সমকালীন ছড়া নিয়ে বিশেষ সংখ্যা

করোনা গো
রানাকুমার সিংহ

রবি বলে– ঘরে থাকো
দুখু কয়– বাইরে,
ঘরে কত ভালো লাগে
বের হতে চাইরে!

ঘরে থেকে মিটে গেছে
ঘুমানোর শখরে
মাথা ধরে কী যে আরো
চুলকায় এ ত্বকরে!

আড্ডার পোকা যারা, তারা
রবে বাড়িতে?
যতোই সুবাস ছড়াক-ভূনা
কিছু হাড়িতে!

করোনা গো হরো না গো
ছেড়ে যাও পৃথ্বী
বুঝে নিও টেনেটুনে–
‘তুই তো না জিতবি’!

পাদটীকা: হরো না> সরো না

ডাক্তার ও রোগী
মো.ইউনুছ আলী

মফিজ মিয়া ক’দিন থেকে
ভুগছে সর্দি-কাশিতে,
এই রোগে সে প্রায়ই ভোগে
গ্রীষ্ম-বর্ষা বা শীতে!

এই বিপদে, এই সময়ে
ধরলো আবার কী ভীষণ,
তারই সাথে সবার মাঝে
জাগলো কোভিড বিভীষণ!

বউমা বুড়োর হাতে ধরে
নেয় দেখাতে ডাক্তারে,
আতংকে সে ডাক্তার বাবু
বললো দূরে রাখ্ তারে।

লিখে দিলো ওষুধ, তবু
আসলো না সে তার কাছে
ডাক্তার বাবু কমবয়সী
দেখতে ছোট লাড়কা সে!

টক অব দ্য টাউন
বাসুদেব খাস্তগীর

মানুষ হলো সমাজবদ্ধ
সামাজিক এক জীব,
সমাজবদ্ধ থেকেই মানুষ
জ্বালে আলোর দীপ।

কিন্তু সমাজ বিপন্ন আজ
করোনার এই গ্রাসে,
করোনা এক দৈত্য যেনো
বিশ্ব কাঁপে ত্রাসে!

কাছাকাছি সংস্পর্শে
করোনার হয় বিস্তার,
সমাজ থেকে সমাজে তাই
বাড়লে নেই আর নিস্তার!

বিজ্ঞজনের পরামর্শ
সর্বজনীন মত-
আজ সামাজিক দূরত্বটাই
নিরাময়ের পথ।

থাকতে হবে বেশ ক’টা দিন
একাই অন্তপুরে,
সবার থেকে সবাই থাকুন
একটুখানি দূরে।

কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন
আর চেনা লক ডাউন,
করোনার এ শব্দগুলো
টক অব দ্য টাউন।

করোনা কাল
ফাহমিদা ইয়াসমিন

আজকে সবাই ঘরে থাকি
ঘরের মানুষ সঙ্গি,
আজকে জগৎ ভীষণ সোজা
নেইতো নানান ভঙ্গি।

আজকে মানুষ কতো সরল
সবাই যেনো এক রে,
আজকে কোথায় গোলাবারুদ
দ্যাখ্ রে তোরা দ্যাখ্ রে।

করোনাটা করলো সোজা
জটিল নরের খেলা,
নীরব-নিথর পৃথিবী আজ
পশুপাখির মেলা।

বাঁচতে যদি চাও
স্বপন শর্মা
.
তোমার ঘরে থাকবে তুমি
আমার ঘরে আমি,
এই নীতিটা আজকে দেশে
সবচে’ বড় দামি।

বাঁচতে হলে মানতে হবে
সুস্থ থাকার রীতি,
স্বাস্থ্যবিধি সরকারি রুল
যতো নিয়মনীতি।

নিয়ম মতো থাকবে ঘরে
বাঁচতে যদি চাও-
দরকারে তা বাইরে এলে
মুখোশ পরে নাও।

ফিরলে ঘরে সাবান-জলে
দু’হাত ধুতে হবে,
সাবান হলো মহা ওষুধ
তা জেনে নাও সবে।

করোনা
মহামারি রোগ
তুষার কুমার সাহা

আছে টিভি, আছে মোবাইল
আছে ল্যাপটপখানা,
বাসা থেকে না বেরোতে
মা করেছে মানা।

কারণটা কি? ভেবে না পাই
ভাবছি তবু আমি,
সকাল থেকে ভেবে ভেবে
বিকেল হলে থামি।

এতো কি আর বুঝি আমি
ছোট্ট একটা শিশু,
আদর করে মা রেখেছে
নামটা আমার মিশু।

হঠাৎ করে হাতের কাছে
রিমোট পাওয়া গেল,
এই তো দেখি টিভির মাঝে
সময় চ্যানেল এলো।

শুনছি খবর, মহামারি
রোগ যে এলো দেশে;
সেই না রোগের ভয়ে মানুষ
ঘরকুনো হয় শেষে।

নিরুপায়
আশরাফ আলী চারু

এমন সময় কঠিন সময়
আর আসেনি এর আগে
করুনা নেই এই করোনার
তাই তো শুধু ভয় লাগে।

শুনছি নাকি এই অসুখের
কোনো একটা ওষুধ নাই
এমনি কি আর এজন্যি তো
তাইতো এদের খুব ডরাই।

ঘরে আছি ক’দিন হতে
হিসাব করি গিট কষে
আর কতোদিন আর কতোদিন
দিন কাটাবো এই বসে।

ও বিধাতা তুমি ছাড়া
নাইকো গতি নাই উপায়
ভুলগুলো সব মাফ করে দাও
সত্যি আমরা নিরুপায়।

বাড়বে খুবই মান
নূরুল ইসলাম নাযীফ

দরিদ্রদের আয়ের উৎস
গিয়েছে বেশ থেমে,
ক্ষুধার চোটে তাদের কপাল
ওঠে এখন ঘেমে।

স্বল্প আয়ের মানুষ তারা
কষ্টে কাটে দিন,
লকডাউনে বন্দি হয়ে
দুঃখ সীমাহীন।

ছেলেমেয়ে আর পরিবার
থমকে আছে তাই,
না খেয়ে আজ ক’দিন ধরে
বাঁচার উপায় নাই।

তাদের পাশে দাঁড়াও এসে
যারাই ধনোবান,
আল্লাহ এতে খুশি হয়ে
বাড়াবে সম্মান।

ত্রাণ দান
কবির কাঞ্চন

করোনার আতঙ্কে
ঘরে লোক বন্দি,
কিছু লোক ত্রাণ নিয়ে
করে শুধু ফন্দি।

অভাবীর হাতে দিয়ে
কলা-বিরিয়ানি
সেইসাথে ছবি নিয়ে
ছেড়ে দেয় বাণী।

সেই ছবি ছেড়ে দেয়
মিড়িয়ার পাতাতে,
জোরেশোরে হাঁক দেয়
আশপাশ মাতাতে।

নামে তারা ত্রাণ দেয়
ঘরে কিবা বাইরে,
গরিবের পেট খালি
হাতে কাজ নাই রে!

এসো ভাই এসো বোন
দীন ভালোবাসতে,
গোপনেই দান করো
প্রাণ খুলে হাসতে।

করোনা রোগ
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

করোনা তো বিশ্বজুড়ে
ছড়াচ্ছে তো ভাই,
ইহার ছোবল থেকে যেন
রক্ষা কারো নাই।

সতর্ক আর চেতন হলে
করোনা হয় দূর,
ভয়কে ঠেলে সাহসী হোক
মানব হৃদয়পুর।

ঘর থেকে কেউ না বেরিয়ে
ঘরেই করো বাস,
নইলে দেশের জনগণের
হবে সর্বনাশ।

করোনা তো মহামারী
মরণব্যাধি রোগ,
সচেতনতা থাকলে তবে
দূর হবে দুর্ভোগ।

মৃত্যু প্রহর গুনি
মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ফকির

কীসের ছড়া কীসের পড়া
ভাল্লাগে না কিছু,
খাবারও নাই কোনখানে যাই
যম ছাড়ে না পিছু।

কর্ম যে নাই পয়সা তো নাই
জুটছে নাতো ভাত,
কষ্ট বুকে লজ্জা মুখে
কোথায়পাতি হাত।

রোগী বাড়ে প্রাণও কাড়ে
নিত্যদিনই শুনি,
গরিব যারা সর্বহারা
মৃত্যুপ্রহর গুনি।

বাঁচতে হলে মানতে হবে
সঞ্জয় কর

বাঁচতে হলে জানতে হবে
স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে
মাছ ও মাংস ভালো করে
সিদ্ধ করে রানতে হবে।

আড্ডাবাজি করেন যদি
রেহাই তবে পাবেন না,
বিশেষ কাজে বাইরে গেলেও
মাস্ক না পড়ে যাবেন না।

বিধিমতো হাত না ধুয়ে
কোনোকিছু খাবেন না,
নিজে বাঁচুন দেশকে বাঁচান
হাত মেলাতে চাবেন না।

বাঁচতে হলে জানতে হবে,
নিয়মগুলো মানতে হবে
ইচ্ছে মতো চলি যদি-
হয়তো পরে কানতে হবে।

করোনা ভাইরাস
শফিকুল আলম

হাত ধুয়ে নাও পা ধুয়ে নাও
যথাতথা যাবে না
মাস্ক পড়ে নাও সতর্ক হও
যথাতথা খাবে না।

ভালো থেকো সুস্থ থেকো
ঘুরাফেরা করো না
বিশ্বে এখন দাপটে খুব
মানুষ মারার করোনা।

চতুর্দিকে আসছে তেড়ে
মানব ধ্বসের করোনা
প্রভু তুমি রক্ষা করো
সবাই দোয়া ধরো না।

বৈশাখ ও করোনা
সৈয়দ সোহান

বাঙলায় বৈশাখ
এসে গেল ফের যে,
বাঙালির প্রতি তার
ভালবাসা ঢের যে।

চেতনায় ঢেউ লাগে
দেশ জুড়ে- ভুল না,
টেকনাফ তেতুলিয়া
পাবনা কী খুলনা।

জানি দাদু বৈশাখে
হাকডাক চলে রে,
হাতে হাত ধরে সব
ঘুরি দলে দলে রে।

কিন্তু রে দাদু ভাই
সরকারি বারণে,
ঘুরব না এইবার
করোনার কারণে।

করোনায় করনীয়
ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান

বিশ্বজুড়ে মহামারি আনলো ডেকে করোনা,
আতঙ্ক নয় সতর্ক হও, ভয় কখনো করো না।
স্বাস্থ্যবিধির প্রতি সবার দিতে হবে গুরুত্ব,
ঘরে-বাইরে বজায় রাখুন একে অন্যে দূরত্ব।

সাবান-জলে হাত দু’টোকে ধুয়ে রাখুন সাফ করে,
পাক-পবিত্র থাকব সবাই আল্লাহ যেন মাফ করে।
লকডাউনে থাকলে ঘরে করোনার হয় গতিরোধ,
করোনাকে রাখতে দূরে গড়তে হবে প্রতিরোধ।

রুমালে বা টিসু দিয়ে হাঁঁচিতে মুখ ঢেকে নিন,
ব্যবহৃত টিসু-পেপার সঠিক স্থানে রেখে দিন।
কাশি কিংবা মুখের থুথু যত্রতত্র ফেলব না,
নোংরা হয়ে কারো জীবন ঝুঁকির দিকে ঠেলব না।

হাট-বাজার ও লোক-সমাগম চলতে হবে এড়িয়ে,
করোনাকে আনবো না কেউ বাইরে গিয়ে বেড়িয়ে।
করোনার ভয় আসবে তেড়ে থাকি যদি অচেতন,
বাঁচব নিজে বাঁচাব দেশ থাকতে হবে সচেতন।

ঘরে থাকুন ভালো থাকুন বাইরে কভু যাবেন না,
বাইরে করুন মাস্ক পরিধান বাইরে কিছু খাবেন না।
ময়লা হাতে নাকেমুখে হাত কখনো দিবেন না,
সংক্রমিত হবার ঝুঁকি অবহেলায় নিবেন না।

মানব জাতির হবেই জয়
মামুন সরকার

করোনাকে নয় মালিকের ভয়ে
আসুন সবাই বদলে যাই,
রঙের জীবন পাপাচার ছেড়ে
যিকিরে দ্বীনের গান শুনাই।

করোনা-জীবাণু মানব জাতির
ঈমানামলের পরীক্ষা যে,
ক্ষমতার কাছে মিছে সবকিছু
মহামারি থেকে এ শিক্ষা যে।

অধিক মুনাফা নারী-মদ ছেড়ে
তাওবা করব সকলে আজ
ক্ষমা করে প্রভু রক্ষা করুন
দয়ার সৃষ্টি এই সমাজ।

সবাই গাইলে তাঁর গুনগান
মানব জাতির হবেই জয়
অঢেল সুখের স্রোতের ফোয়ারা
বইবে সবার চিত্তময়।

হাল ছেড়ো না
শাহ্জাহান সিরাজ

হাল ছেড়ো না প্রিয় বাংলা
সাহস রাখো বুকে,
একসাথে আজ লড়াই করে
করোনা দিই রুখে।

লক ডাউনে থাকলে পাব
সামাজিক দূরত্ব,
করোনার ভয় এড়াতে তার
চলো দিই গুরুত্ব।

খেটে খাওয়া মানুষেরও
রাখতে হবে খবর,
গুজব কথায় কান না দিয়ে
করতে হবে সবর।

হাল ছেড়ো না প্রিয় বাংলা
আমরা বীরের জাতি,
আঁধার কেটে যাবেই যাবে
জ্বলবে আলোর বাতি।

২ thoughts on “সতেরো জন ছড়াকারের সমকালীন ছড়া নিয়ে বিশেষ সংখ্যা

  • এপ্রিল ১৫, ২০২০ at ১১:২৬ অপরাহ্ণ
    Permalink

    সুন্দর আয়োজন। অনেক ধন্যবাদ কাব্যশীলন পরিবারকে।

    Reply
  • মে ২৩, ২০২০ at ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
    Permalink

    সকল ছড়া কবিতা গুলো চমৎকার- হয়েছে। এই সংখ্যার প্রত্যেক ছড়াকারকে আমার ভালবাসা ও আন্তরিক ঈদ শুভেচ্ছা রহিল। ১৬টি ছড়া করোনাকে নিয়ে হয়েছে।বাকী ১টি ছড়া বৈশাখকে ঘিরে লেখা, লেখক সৈয়দ সোহান।
    ছড়াগুলো পড়লে মনে দাগ কেটে যায়। প্রতিটি ছড়ার আবেদন সমাজকে জাতিকে দেশকে বিশ্বকে বিবেককে নাড়া দিয়ে যায়। এযেন সতর্ক বাণী,আদেশবার্তা,মহামারীর একক ম্যাসেজ ক্যালেন্ডার।
    ১৭ টি ছড়ার গুণগত মান,রূপক,অণুপ্রাস, ছন্দ নান্দনিকতার ছোয়া পেয়েছে। সব মিলে ছড়াগুলো খুবই সুন্দর হয়েছে।পরিশষে প্রিয় সম্পাদকঃ জাকির তালুকদার ভাইয়াকে, আমার সালাম ও শুভেচ্ছা। আপনার মঙ্গল কামনায়।

    …… কবি শওকত আলম
    ০১৯১৪৭৭০৯১০

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.