চার’টি কবিতা / আদ্যনাথ ঘোষ

আগুন

খোলো হৃদয় থেকে দগ্ধ নিশ্বাস, খোলো ছিপি
ছাড়ো রাতের ছুঁয়ে যাওয়া ঘ্রাণ, শিল্পিত ফুল
রাখো চোখের দুপুর, উদ্দাম রোদ, জোছনার ঢল।
পোড়াও কন্যা- ভরা বর্ষাতেও ফাগুনের আগুন, উত্তাল যৌবন।

পোস্টমর্টেম

কয়েকটি হলুদ পাতা খসে গেল।
পাতার শরীর থেকে বের হয়ে এলো জীবন্ত সংগীত।
এখন পাতাগুলো শুধু গায়ত্রীর ইন্দ্রজাল।
নিকষ রাত্রির প্রতীক্ষার প্রহর গুনে গুনে
দুঃখিত দুঃখগুলো মুখাগ্নি হয়ে ভেসে ওঠে চিতায়।
বাইরে ঝরা ফুল কষ্টের দহনে অপেক্ষায় বসে থাকে-
কে যেন রাতদিন ডাক দেয় হৃদয়ের অসীম শূন্যতায়!
কেবল মধ্যরাত ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে
জীবনের ধোঁয়াশা গলির কালো-নিঃশ্বাসে।
মাঝখানে ব্যঞ্জনশরীর ঘাসের শরীরে স্বর খুঁজে চলে আর
জীবন্ত ঘাট পড়ে থাকে দেহঘড়ির পোস্টমর্টেমে।

তৃষ্ণা

যদি তৃষ্ণার জল আমার জীবন থেকে দূরে চলে যায়
তাহলে কীভাবে বলো জেগে থাকে আমোদিত রংধনু রঙ!
কতো যে ডাকবো বলো সুখের কৈশোর আলো, সুবাসিত মাঠ,
উঠোনের লুকোচুরি রোদ, চিত্রা আকাশ, সুস্থ বাতাস,
ফেলে আসা শরীরের রাঙা ক্যানভাস ছুঁয়ে ফুটে ওঠা ফুল।
সব আজ ভেসে ওঠে প্রাণের নূপুরে পুরোনো সখার মতো
জলফুল বাতায়নে রাতের চাঁদের সাথে জলজোছনায়।
আর অশেষ তৃষ্ণা সারারাত জেগে থাকে ভোরের আশায়।

রোদের অসুখ

বশ্যতা মানি না বলে দুপুরখানা আঁধারে ডোবে,
তবুও বিশ্বাস রাখি মানুষের মন; বাস্তুভিটা, নিয়তি রেখায়।
অথচ কৌশল পথে অসুস্থ বাতাস,
মিথ্যার বসতি, ক্ষণিকের সুখ-
তাই ঝড়ের মতোন ফুঁসে ওঠে আগুনের পথ
আলো-ধোঁয়া বুকের ভেতর।
তবু কাঁদে ফুল পাখি পাতা, জ্যোছনার বাসর,
বাতাস নূপুর আর সুরেলা দুপুর।
কেনো কাঁদে? জানে কি জানে না! তবে জানে,
রোদের অসুখ হলে
ঘ্রাণের পাখিরা বাসা বাঁধে
পৃথিবীর প্রেমহীন বৃক্ষের মায়াবী শাখার পাতার আড়াল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.