জয়িতা চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা

কথা তুমি

কথা হয়ে তুমি প্রবেশ করো কর্ণ কুহরে
কত অনর্থক কথাও হয়ে ওঠে হৃদয়গ্রাহী
কি জানি কোন অসম্পর্কিত জ্ঞানে
আমরা লুকিয়ে রাখি আমাদের দুর্বলতা
তোমার জন্য অপেক্ষারত হৃদয়ে কম্পন
তবু তোমাকে বুঝতে দিই না কিছু
তোমার ও নিষ্ঠুরতা কম নয়
মলিন হয়ে আসে গলা শব্দেরা তখন নীচু
জানি না এ আমাদের কেমন লুকোচুরি খেলা
ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে সময়
ফুরিয়ে আসছে অপেক্ষার নেশা
আর হয়তো লুকতে পারবো না হৃদয়ের চঞ্চলতা
অস্ত যাওয়ার আগেই ছিনিয়ে নেব প্রবল উষ্ণতা
চুম্বন করবো দিগন্ত মাঠ, আমরা আজও মিলনে বিশ্বাসী, স্পর্শ মাত্র ভেতরে লুকাই
পল্লবিত বাসনা নিয়ে আমরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকি।।

এও এক ফাঁকি

তোমার কাছে করি সুরের প্রত্যাশা
বাজাই গীটার অপূর্ণতার আগে
আমাদের শরীর জীবের সঙ্গম চায়
জয়ী শরীর পরাভাবকে ভালোবাসে
কত ভালোবাসা আজ পন্ডশ্রম
প্রেমের ভেতর বিস্তর ফাঁকি আছে
বাকি জীবনেও সে ঘাটতি শেষ হয় না
আমার ভালোবাসা উঁচু নীচু খানা খন্দে থাকে।।

মরশুম

তোমার শহরে আজ কুয়াশা পড়ছে
আমার চোখে জড়িয়ে আসে ঘুম
বৃষ্টি নামবে তোমার শহর জুড়ে
আমার বুকেও বর্ষার মরশুম।।

প্রিয় পথিক:

আজ মৃত্যুই আমার কাছে গূঢ় অভিষেক
আমি মৃত্যুকে প্রার্থনা করি গভীরতায়
মৃত্যুর মৌনতা আমাকে নিয়ে যাবে সমাপ্তিতে
বৃক্ষের মতন যাব শুদ্ধ পুণ্যশীল আলোতে
পথিকের মতো রেখে যাব নিজেস্ব নিশানা পদ্ম কিংবা শালুকে, মৃত্যুর পর রেখে যাব তোমার জন্য কিছু ভালো থাকা প্রাপ্যকে নিশ্চিত করে
মৃত্যুকে নিয়ে যাব আরো আরো মৃত্যুতে পৃথিবীর সুখে, পুড়ে যাব আরো বেশী সূর্যের ভেতরে
ছুটে যাব বাদামী রক্ত নিয়ে অন্ধকারে
কতো কাছে থেকে যাব বা চলে যাব কতদূরে
কতটা রয়ে যাবে দূরত্বে র সংজ্ঞায়
স্মৃতির অতীতে রয়ে যাব অশেষ অগাধ
মধ্যরাতের অজ্ঞাত রাস্তা ছেড়ে যাব তোমার ভাবনার উঠোনে, আরো আরো বৃষ্টিতে ভিজে যাবে
তুমি গাঢ় মমতায়, এভাবেই জন্মের দূরত্ব থেকে ঋণে
ধুলোমাখা পৃথিবীর মায়া জড়িয়ে ধরবে তোমায়
অনন্ত সূর্যাস্তের কাছে আমার শরীর নতজানু
মৃত্যুই পরমাত্মীয় পরম আরো জড়িয়ে ধরবে আমায়
অজ্ঞাত কংক্রিটের চোখ দিয়ে ঝরে পড়বে জল
মৃত্যুকে আমি নিয়ে যাব আরো আরো মৃত্যুর কাছে , শরীর পাথর, দৃষ্টি অবিচল।।

Leave a Reply

Your email address will not be published.