আসমা সুলতানা’র কবিতা
মেঘ ভেঙে বৃষ্টি নামুক
সেদিন কি গভীর আবেগে ছুয়ে দিলে আঙুলে আঙুল
রাত আর জোছনার গভীর প্রনয় ঠিক এমন সমর্থন ছিল
হঠাৎ দেখায় মেঘ ভেঙে বৃষ্টি যেমন ঝরে পড়ে
তোমার বারান্দায় আলতোভাবে ছুঁয়ে দিতে
তেমনি ছুয়ে দিলে আংগুলে আংগুল
কি আশ্চর্য আমি জানতাম না
তুমি আগের মতোই ভালোবাসো আমাকে
তোমার চারদিকের নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করা
চোখ গুলো পাহারা বসানো
প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক বলে আখ্যা দিল
নিষিদ্ধ করে দিলে তোমার শহরে আমার বসবাস
অথচ মায়াবী ডাক তুমি ছুয়ে দিলে আংগুলে আংগুল
আমি কি করে উপেক্ষা করি
তুমি তো জানো এক কথা আমি ছিলাম তোমার প্রিয় নাম
তোমার বুক পকেটের নীল খামে
আজ কোন নোটবুকের নেই আমি
কটাক্ষ করে চারপাশে চোখ
শিমুলের কত কাটায় কাটায় দণ্ডিত করেছে আমাকে
পলাতক রাত্রির পিছনে ছুটি
প্রদ্বীপ ধরে আঁধারের বুকে খুঁজি আলোর নক্ষ
ত্রক্লান্ত শ্রান্ত আমি তন্দ্রাহারা প্রহরীর মতো
দূর মরীচিকা তটে ছলনা মায়ার তীরে খুঁজি আলোর লহর
কেউ যেন মৃদু হেসে বলে উঠল পথিক তুমি পথ হারিয়েছো।
হঠাৎ মনে হলো দূর বিজন বনে কে যেন বেসুরো বাঁশি বাজায়
কে যেন রেখে গেছে সবুজ ঘাসের কোমল গালিচা পেতে।
আমার খুব ইচ্ছে করলো জানালায় দাড়িয়ে
গহিন রাতের সেই বেসুরো বাঁশি শুনি
নিঃসঙ্গ জেগে থাকা এই আমি
চোরাবালি অসুখ নিয়ে গ্রীল ধরে দাড়িয়ে থাকি
হৃদয়ের কূল ভাঙা ইন্দ্রজাল চুমি
ভাবি একদিন ছিলো গোধূলির সহচর
ভুলে গেছো সব তুমি আকাঙ্খার উলঙ্গ উল্লাসে।
কেন জানি ভোরের বাতাস ছেড়ে
পলাতক রাত্রির পিছনে ছুটি
স্বপ্নের ভিতর এক হয়ে চিহ্ন রেখে ঘর বাঁধি বালুচরে
আমার সঙ্গে তুমি
রাত বেড়ে যায় ঘুম ঘুম চোখের পাতায়
হাতছানি দেয় সোহাগী চাঁদ রক্তিম অধরের কোণে,
অভিমানী বয়সটা বার বার অনাহুতের মত
ফিরে আসে অচেনা কোন দ্বীপের দিকে,
আমি নির্ভুল নিমীলিত চোখের দিকে চেয়ে
মুখ লুকাতে চাই কারো উষ্ণ চাদরের ভাঁজে,
ধ্যান ভেঙে গেল কোন খেয়ালের
তখন আমি ইচ্ছে মতোন রৌদ্র কুসুম ফোটাই,
নদীর সঙ্গে নৌকা যেমন থাকে মায়া আর ছায়ায়,
অঘ্রাণে কুয়াশা যেমন থাকে শস্যের পাতায় পাতায়
আমি ও শিশিরের মত আলিঙ্গনে থাকি তোমার
প্রশান্ত নিবিড় বুকে,
অথচ অনেকদিন দেখা হয় না আমাদের,
যদি দেখা হয় কোন একদিন
তবে বলবো তোমাকে
অনেকদিন দেখা হয় নি কিন্তু তবু ও ছিলে
তুমি প্রতিদিন আমার সঙ্গে,
ঘাস আর শিশিরের মিতালি যেমন,
নৌকা আর নদীর যেমন,
তেমনি ছিলে তুমি আমার প্রতিদিনই,
তারপর একদিন হয়ত জানা যাবেবা জানা যাবে না,
যে তোমার সঙ্গে আমার আর দেখা হবে না
ভুল
জীবনের বিচিত্র পথে হাটতে গিয়ে করেছি কত ভুল
কখনো জেনে কখনো বা না জেনে অনায়াসে
কাঁটাতার ডিঙিয়ে গেছি
প্রতিটি ভুল বন্যার মত মত্ততা ঢলে ভাসিয়ে নিয়েছে
বদলে দিয়েছে হৃদয়ের স্থাপত্যকর্ম
অথচ জানতো না স্বপ্নে পুলকে আনন্দে কাল স্তরে
কে জমা হতো এসব ভুল
অব্যক্ত ট্রিগার ভেবে তখন ফিরে আসতে চাইতো
সময়ের সহযাত্রীর মত ধাবমান স্রোতে ভাসিয়ে
নিয়ে যেত আর সম্মুখে
ভুল বৃন্তে আন্দোলিত হতো চলার পথ
মুখোমুখি হতো ভয়াবহ কোন নিষ্ঠুরতম সন্ধ্যার
যদিওবা ফিরে আসতে চাইতো শুদ্ধতা পাবে বলে
যেখানে অপেক্ষামান থাকতো ভয়াল মৃত্যু
ভুলগুলো শুদ্ধ হয় না কখনোও কিন্তু শিক্ষা দিয়ে যা
যে ক্ষমা করতে পারে সে মহৎ
নীল আকাশের মত।
ফেরারি পাখির যাযাবর দিনযাপন
তোমার সোনারতরী আজ নোঙর ফেলেছ ঘাটে
ওই চোখের খরস্রোতা নদীটি ছুঁয়েছে যেন তীরের
নরম পলিমাটি,
যৌথ যাত্রায় সঙ্গী করেছো আকাশের নীল,
মনের পালক জড়িয়েছো গাঙচিলের ডানায়,
নিশাচর জানালায় জেগে থাকা চোখ
খুঁজে পেয়েছে আকন্ঠ সুখের পরশ,
মুঠো মুঠো নীলে সমর্পিত হয়েছে ধূসর রাত্তির ডানা,
বসন্তের মায়াবী রঙ একেছোঁ মনের ক্যানভাসে,
ইচ্ছেটার দেরি হল তোমার নয়,
তুমি তো অপেক্ষায় ছিলে,
মিথ্যাচার ঘুনে ধরা সংসার ছেড়ে
ভালোবাসার বাস্তুভিটায় বসত নিতে,
সোনালি বুনো অর্কিডে সাজাতে ভালোবাসার বাগান,
একঘেয়ে জীবনের রোজনামচার চক্রাকার
ছেড়েস্রোতের বিপরীতে সাঁতার দিয়েছো,
দেখা অদেখার দূরত্বটা আলো জ্বলা
রোদ্দুর ছোঁয়া মায়াবতীর মায়ায় বাঁধা আজ,
আজন্ম দাঁড়িয়ে থাকা অনন্তের চৌকাঠ পেরিয়ে
তুমি সুখের সুরভি ছড়িয়ে
আছো সান্ধ্য অনুরাগে,
সমর্পিত হোক তব সব স্মৃতির অনুরণন।