আরিফা রহমান-এর কবিতা

অন্তর্নিহিত প্রেম

আমি তাকে নিয়ে তো চর্চা করিই না।
ভাবিও না-
কোথায় আছে? কেমন আছে?
বেঁচে আছে না মরে গেছে?
খুঁজিও না। মোট কথা।
তার অনুসন্ধান হয়ে পৃথিবী দেখি না।

খুঁজি না তার বিশালতা কিংবা সংকীর্ণতা।
হৃদপিন্ডের লম্বচ্ছেদ অঙ্কন করে
খুঁজি না তার উদারতা
তার গুন গান গাইনা।
তারমধ্যে লুকাবার চেষ্টাও করি না।
খুঁজি না তার অক্ষরবৃত্তে প্রেমের প্রলাপ।
বুঝিনা খুঁজি না জানিনা। তাকে
তবুও-
আমার হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠনে
ট্যাটু-উল্কি সবই
চিত্র অঙ্কন করা আছে
তার হৃদপিন্ডের কলাকৌশল।
ভুলে যাই কিভাবে?

বিশ্বাস রেখো মনে

কেমন করে ভাবলে
তোমার সুখের প্রদীপ
আমার চোখের জলে নিভে যাবে।
হয়তো বা কিছুদিন
আমার মনের পাখি
তোমার বিরহে
তোমাকে খুঁজে খুঁজে কাঁদবে
তবুও শুধু এইটুকু ভেবোনা
তোমার সুখের ঘর
আমার জন্য ভাঙবে।
হয়তোবা কোন দোষ ছিল না তোমার
হয়তোবা লিখা ছিল ভাগ্যে আমার
যতদিন রাখবে এ পৃথিবী আমাকে
ততদিন ভাঙা বুকে
স্মৃতিগুলো হাহাকার করে কাঁদবে
তোমার জন্য
তবুও ভেবোনা তোমার ঘর ভাঙবে
আমার জন্য।
কি চাইতে গিয়ে কি পেলাম
শুধু শুধু নিজেকে কষ্ট দিলাম
হয়তো কোনদিন আমার কথা ভেবে
তোমার দুচোখ জলে ভরবে
তবুও ভেবোনা-
তোমার সুখের ঘর
আমার চোখের জলে ভাসবে।

প্রতারক প্রেমিক

ভাগ্যিস সেদিন তুই ফিরিয়ে দিয়েছিল
তাই স্বপ্ন দেখতে আজ ভয় পাইনা।
তুই জানিস প্রেমিক ?
যে আমি একদিন
পৃথিবী অন্ধকার দেখতাম তোকে ছাড়া –
মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতাম
তোকে ছাড়া-
হূদযন্ত্রের রক্তসংবহনতন্ত্র
সর্বদা ধড়ফড় করতো
তোকে হারানোর ভয়ে
সেই হৃদপিন্ডের ইমিউনিটি
আজ রক্ষা করে তোরই
দেয়া প্রতারণার ট্যাবলেট।
মনে পড়ে? প্রতারক প্রেমিক-
তোকে পাবার আশায়
আমার যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য
কতনা আকুতি মিনতি করেছি
তোর পিছু পিছু-
আজ সেই যোগ্যতায়
আমি উঁচুতলার উচ্চ চেয়ারটায় বসে।
আমাকে সালাম দিতেও আজ
অনেকেই ভয় পায়।
যে লাবণ্যতা দোহাই দিয়ে ছেড়ে
গিয়েছিলে কেউ আজ সেই লাবণ্য খুঁজে না,
আজ আমাকে হারানোর ভয়ে
হৃদপিণ্ডের সিস্টোল ডায়াস্টোল
শুরু হয় কারো কারো।
জানিস আমার খুব হাসি পায়
ভালোবাসা এই ব্যালেন্স দেখে।
জানিস প্রেমিক-
আজ আমার নিজের এনালাইসিস
আমাকে লজ্জা দেয়-
একদিন তোর জন্য মরতে গিয়েছিলাম।
বিশ্বাস কর প্রেমিক।
আমি তোর কাছে কৃতজ্ঞ।
তুই ফিরিয়ে না দিলে
বাস্তবতার এই সাধ উপভোগ
করতে পারতাম না
জানা হতোনা রমনার শিমুলতলায়
ঝরে যাওয়া পাতাগুলোর গল্পের কথা।
বাইশ তলা ভবনের চারশ চৌরাশি-টি
সিঁড়ি ও গুনা হতো না।
শক্ত হতো না –
হৃদপিন্ডের রক্ত সংবহন পদ্ধতি।
জানিস প্রেমিক
আজ অল্পতেই চোখের জল পড়ে না
কৃতিত্ব সম্পূর্ণ তোরই।
তোর প্রতারণার ট্যাবলেট আমার
পাকস্থলীতে না পৌঁছালে-
আজ স্টার জলসার শ্রীময়ী গল্পের
“চির সুখী গৃহকোণ সবাইকে ভালোবেসে”
গানের কৃতিত্ব নিয়ে জীবন উপভোগ করতে হতো
তোর প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই আমার।
তাই একদিন কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম
তুই ভালো থাকিস
আজ হাসতে হাসতে বলি
হে প্রতারক প্রেমিক
তুই ভালো থাক।
আমার মতো হাজার নারীকে প্রতারিত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.