মাসুদ হাসান-এর কবিতা
একদিন মূর্খ হবে ভেবে
একদিন মূর্খ হবে ভেবে কোকিলের কাছে কাক যায় পাঠ নিতে। অসহায় কোকিল।
তখন আসেনি ফাগুন, ফোটেনি ফুল ডাকেওনি সে। গাছের ডালে একাকী বসে ভাবলেই পেয়ে যায় পাঠের যাবতীয় উপকরণ।
হঠাৎ গেয়ে ওঠে কুহুকুহু করে গান। আর কাক তখন আপন সীমানা ভুলে গেয়ে ওঠে কা-কুউ-কুউ।
একদিন মূর্খ হবে ভেবে পাঠ নিতে গেলে অন্ধকারের কোলে। নিলেও পাঠ অন্ধকারে কোকিলের মতো। তবে তুমিও বদলাতে চাও কাকের মতো যুগের ঠিকানা।
সব শূন্যতা
আলো নিভে যাবে জেনেও কেন আলো জ্বালো? ছলনা করে রাত-বিরেতে মিথ্যা সিঁদুর আঁকো। আঁধার হলে ডেকে দিয়ো চুলের অন্ধকার, দেখবে যন্ত্রণার সবটুকু রঙ চুষে খেয়েছে তখন। মিছে আর বাঁধতে হবে না বেণির বাঁধন।
কী আর হবে এমন যদি পত্রে না থাকে কোন আল্পনা কিংবা বাঁকা সিঁথিতে সিঁদুর।
যদি নূপুর খুলে পড়েই যায়, যাক না, তবুও মিছে আর নয় অভিনয়।
আমি তো বাঁধতে শিখি, উড়তে জানি শূন্যতার সব বিরানভূমি। এবেলা না হয় হারানো গীতে কাটুক সন্ধ্যা আমার। তবুও মিছে হাসিটুকু পড়ে থাক পথের ধুলোয়। ফের এলে যেন দেখি গাঁথা মালায় খেয়ে ফেললে সব শূন্যতা।
কৃষ্টিবিলাস
যাত্রী গন্তব্যের কাছে এলে বিশ্রাম জানে আর নারী পুড়তে পুড়তে স্বপ্নে গন্তব্য খোঁজে চোখনিঃসৃত জলে। সে জানে না পথ কতটা দূরত্ব নিয়ে বেড়ে উঠেছে। কাছে গেলে ভাবে এই তো স্মৃতি শেষ -সাদা মেঘের মতো খুব কাছে স্মৃতিরা হেঁটে চলে রমণীয় সম্ভারে।
পথিক পথেই পোড়ে অভিমানে, আশ্চর্য সব রঙে গোধূলির কান্নায় পাখিরাও জানে রাত্রি আঁচলে গিট বাঁধে সিন্দুকের চাবি। বেহালা বাজায় সন্ধ্যার বাতাস
পুরোহিতের ঘন্টায়। এই বুঝি এল প্রেম অনাহারী চাতালে।
না, প্রেম আসে না, যাত্রী প্রেম খোঁজে – নারীর আঁচলে কষ্ট হয়ে ঝরে শিশিরের কান্না। কাঁদছে পৃথিবী ধুলোমাখা আস্তরে। থাক গিঁট বাঁধা আঁচলে কষ্টের চাবি। ফের এসে তুলে নেব সব রমণীয় কিংবা আমার যা চাই। স্বার্থপরতার আড়ালে ডেকে দেব গন্তব্যের সব কৃষ্টিবিলাস।
সবকিছুই পেতে চাই
আজ সবকিছুই পেতে চাই, আড়াল না করে মুক্ত হতে দিয়ো – ভালোবাসো, ভালোবাসো, দু’হাত বাড়িয়ে কাছে নিয়ো।
আমাদের মাঝে আর কী এমন বাকি যা লুকাতে কীর্তনে আঁচল ঢাকো, ফুলটি রেখো অযত্নে-অবহেলায়। তা-ই যদি হয় ধূপকাঠিতে পুজো দিয়ো, অগ্নিতে মুখ জ্যোৎস্না নিয়ো
আজ সবকিছুই পেতে চাই সখি, আড়াল না করে মুক্ত হতে দিয়ো পাপড়ির ফুল, যা গন্ধ বিলাবে- ভুলে যাবে না, ভুলে যাবে না অনন্তের ফুল-বকুল।
প্রতিটি কবিতাই আমাকে মুগ্ধ করেছে। কবির জন্য শুভ কামনা রইলো।