যশোরের আঞ্চলিক ভাষার ছড়া- শচীন্দ্র নাথ গাইন

দাবি

বুহির মদ্যি কষ্ট চাপি, পাইনে তোরে পাশে,
মোনের পাতায় সারাডা দিন তোর ছবিডা ভাসে।
ছবির সাতে কতা কইয়ে সুমায়ডারে কাটাই,
জমাই রাহা খবরগুলো তার কাছেতে পাঠাই।

মাঝে মাঝে কীসব ভাইবে এট্টুসখানি থামি,
তুই ছাড়া আর আমার কাছে খিডা অ্যামোন দামি?
এট্টু দেইহে সাধ মেটে না যায় আশাডা বাইড়ে,
তোর মুকডা বারে বারে মোনডারে নে কাইড়ে।

অনেক কতাই তুলে রাহি যায় না কওয়া ভাষায়,
আবার কবে দেহা হবে থাহি যে সেই আশায়।
তোর কাছেতে রাইহে দিলাম ভালোবাসার চাবি,
মোনের কুণায় জাগা দিবি এইডে শুধো দাবি।

লেহাপড়া

লেহাপড়া শিঁহেয় তুলে কোয়ানে বেড়াস ঘুরে?
কানের মদ্যি কী তারতোর রাহিস দেহি পুরে।
ওই যন্তর চালাতি তোর টাহাও লাগে ম্যালা,
হাতির খোরাক যুগাই আমি ট্যার পাসনে ঠ্যালা।

বই পড়তি কলি তোরে জ্বলতি থাহিস রাগে,
ভাইডেরে তুই মারতি আসিস পালি হাতের বাগে।
মা’র পরে তুই গরম দিয়ে ঘাটতি লাগিস ছবি,
চিন্তা অ্যাইরে কূল পাইনে কী পরে তুই হবি?

ইস্কুলফিস্কুল খুলে দিলি কুমতো বোধায় জ্বালা,
নালিশ শুনে আর পারিনে,কান বানাইচি কালা।
খাতি ডাহালি দিসনে সাড়া,টান নেই তোর ভাতে,
খিটিরমিটির করতি থাহিস দাঁত রাইহে তোর দাঁতে।

বইপত্তর বাদ দিসনে, নে টাইনে সব কাছে,
সুমায় হলি বুঝদি পারবি পড়ায় মজা আছে।
চাহারি অ্যারে টাহা আইনে থাকপি পরম সুহি,
সুংসারে তোর আসপে খুশি,ফোঁটপে হাসি মুহি।

আইলসে

আতরের ছোটো খালু বেকায়দা কুড়ে
সারাদিন শুইয়ে থাহে হাতনেডা জুড়ে।
আলসের বাদশা সে সগ্গলের জানা
তবু কোনো লাভ নেই করে তারে মানা।

থাল ভরে ভাত নিয়ে খায় আর থামে
তাড়াতাড়ি খালি নাহি গতরডা ঘামে।
কোনোদিন দেহিনি তো মাঠে যাইয়ে হাঁটে
ঝুলকালি ঘরে তার রাতদিন কাটে।

চিৎ হয়ে শুইয়ে শুইয়ে মুশামাছি গোনে
বড়োলোক হতি চাইয়ে আশা শুধো বোনে।
বউ দিলি গালাগালি শোনে আর হাসে
হাত দিয়ে ডাইহে তারে বসায় ডাইন পাশে।

কাজকাম এহেবারে করে না সে মোটে
সুংসার চলে তার জমি বেচা নোটে।
ছল-মাইয়ে দুডো তার মা’র পাছে ঘোরে
ভাব দেইহে বউ তার কাইন্দে ওঠে জোরে।

হলদে শাড়ি

কদুর জালি বেচে আমি টাহা আনিচি বাড়ি
সেই টাহাতে কুলোয়নি তাই কিনিনি তার শাড়ি।
বউরি যতই বুজোতি চাই শুনতি চায় না কানে
রাগ অ্যাইরে সে বারে বারে আগের কতা টানে।

বিয়ের সুমায় কইচি নাহি টাহাপয়সা ম্যালা
সেই কতা সে কইয়ে দেহি মারতি থায়ে ঠ্যালা।
ফ্যান কান্না শুনতি আমার ভাল্লাগে না মোটে
কিরাম অ্যাইরে গালোয় দ্যাহো ফালতো রাগের চোটে।

কিযে অ্যারি পাইনে ভাইবে মেজাজ থাহে কড়া
চোহের দিহি তাগালি তার যায় না ভয়ে নড়া।
আদর অ্যারে কতি থাহি ‘আর মাইরে না ঝাড়ি
সামনের হাটে আইনে দিবানে আচে টাহার কাঁড়ি।’

গোলির গোরু বিক্কির অ্যারে যাই গিরামের হাটে
হলদে শাড়ি দিলি বিটি ঘুরতি থায়ে ডাটে।
বউ সাজাইয়ে রানির মোতোন ফহির হলাম আমি
সারাডাদিন পরে বেড়াই এট্টা ছিঁড়া থামি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.