উপন্যাস

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব দশ

১২

বকুলের বিয়ে রাজাপুর। তিন গ্রাম পরে। হেঁটে যেতে সময় লাগে ঘন্টা দুয়েক। সন্ধ্যা লাগার আগে চলন রওনা হবে। দুপুরের পর হতে গ্রামের মানুষ আত্মীয় স্বজন একে একে আসতে শুরু করে চলনে যাবার লক্ষ্যে।
ঘরের বারান্দায় একটি চৌকির উপর ধামা ভরা মুড়ি, পাশে একটি পাত্রে খন্ড খন্ড করে কাটা খেজুরের পাটালি আর কিছু প্লেট। চলনে যাবার আগে বরযাত্রীদের জন্য হালকা খাবারের আয়োজন। চৌকির পাশেই চেয়ারম্যান সাহেব একটি চেয়ারে বসা। সামনে টেবিলের উপর ডালায় রাখা পান-সুপারি-চুন। গ্রামের লোকজন বরযাত্রী যাবার লক্ষ্যে একে একে এসে চেয়াম্যানকে ছালাম দিয়ে কেউ নিয়ে যাচ্ছে মুড়ি গুড়, কেউ নিয়ে যাচ্ছে পান। চেয়ারম্যান সাহেবের পাশে বসে মাঝে মাঝে পান বনিয়ে দিচ্ছে বলাই।

বলাই একটু হাবা গোবা মানুষ। লেখাপড়া জানে না। কৃষি কাজ করার জন্য যে ধরণের দক্ষতা দরকার সেটাও বলাইয়ের নাই। অন্তত মরার আগে যাতে পাশে কেউ থাকে এই চিন্তায় বলাইয়ের বাবা বলাইকে পাশের গ্রামের এক ভিক্ষুকের বিধবা মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়। বলাইয়ের ঘরে কিছুদিন পর একটি ছেলে হয়। নাতির জন্মের কিছুদিন পর বলাইয়ের বাবাকে একদিন সাপে কেটে মেরে ফেলে। বলাই বেঁচে থাকার জন্য বাবার জমি বিক্রি করা শুরু করে। অল্পকিছু জমিজমা যা কিছু ছিল দুতিন বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। বেচে তাকার জন্যে সর্বশেষ বাড়িটাও তাকে বিক্রি করতে হয়। পাশের বাড়ির কাজী বাড়িটা কিনে নিলেও তাকে থাকতে দিয়েছে। কাজীর অনুগ্রহে সেখানেই ছোট একটি কুড়ে ঘর তুলে থাকে। বলাইয়ের বউ আশেপাশের প্রতিবেশীর বাড়িতে ফসল তোলা কিম্বা ধান ভানার কাজ করে সংসারের খাওয়া পড়াটা কোন মতে চালিয়ে নেয়।

দারিদ্যের কষাঘাতে জর্জরিত বলাইয়ের সামাজিক সম্মান শুন্যের কোটায়। ছোট বড় এমনকি তার ছেলের বয়সিরাও তাকে নাম ধরে ডাকে। বলাইও এটাকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়েছে। তবে মনে নিয়েছে কিনা বলা মুশকিল। কারণ কেউ যদি তাকে বলাই ভাই বলে ডাকে তখন সে খুশিতে আত্মহারা হয়ে একেবারে বুকে জড়িয়ে ধরে।
গ্রামের কোন ইদ, পুজা, অন্নপ্রাশন, খাতনা, বিয়ে, শ্রাদ্ধ বা চল্লিশাতে নিয়মিত অতিথি বলাই। রাস্তা ঘাটে কিম্বা বাজারে এ ধরনের কোন অনুষ্ঠানের কথা যদি বলাইয়ের কানে যায়, বলাই খোঁজ করে দিন তারিখ জেনে নিজে এসে নিমন্ত্রণ নিয়ে যায়। গ্রামের মানুষও যে কোন অনুষ্ঠানে বলাইকে খবর পাঠায়। তাকে নিমন্ত্রণ করতে কোন আনুষ্ঠানিকতা লাগে না। রাস্তাঘাটে বলাইকে বললে বা কারো মাধ্যমে খবর পাঠালেই সে চলে আসে। অনুষ্ঠান এলে বলাইয়ের তিন চার দিনের জন্য খাবারের চিন্তা থাকে না। সারাদিন নানা ধরণে ফুট ফরমায়েশ খাটে, নানা কাজে টুক টাক সাহায্য করে। তাতে তার তিন বেলা খাবার হয়, রাতে বাড়ি ফেরার সময় গৃহস্থরা বলাইয়ের বৌ ছেলের জন্য কিছু খাবার দিয়ে দেয়,  অনুষ্ঠান শেষে বলাইকে কেউ কেউ কিছু নগদ টাকাও বখশিশও দেয়।‌

বিয়ের বরযাত্রীতে বলাইয়ের উপস্থিতি অনিবার্য। বিয়ের উপঢৌকনের ট্রাঙ্ক বয়ে নেয়ার বিশ্বস্ত লোক বলাই। পথে ট্রাঙ্ক থেকে কিছু খোঁয়া যাবার ভয় থাকে না। বরযাত্রী যাবার সময় হ্যাজাক লাইট থাকলে সেটা মাথায় করে নেয়ার কাজটা করে বলাই। হ্যাজাক লাইট হাতে পেলে বলাইও খুব খুশি। কোন বিয়েতে হ্যাজাক লাইট দিলে সে গল্প করে বেড়ায়, ওমুকের বিয়েতে আমি বরযাত্রিদের পথ দেখায়ে নিয়ে গেছি।
শীতকাল। কারো পড়নে লুঙ্গি-পাঞ্জাবি আর চাদর। কেউ পায়জামা পাঞ্জাবি কোট, কেউ কেউ পড়েছে প্যান্ট শার্ট আর ব্লেজার। দুই একজনের গলায় লম্বা মাফলার, হাতে তিন ব্যাটারি টর্স লাইট। সবাই খোশ মেজাজে হাকডাক আর গল্প গুজবে ব্যস্ত। সমাজ সংসারের সব দায় ঝেড়ে ফেলে সকলে এখন উৎসব মুখরিত। অপেক্ষায় আছে চলন যাত্রার।

সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে বরের সাজে মায়ের হাত ধরে ঘর থেকে বের হয়ে আসে বকুল। পড়নে সাদা পাঞ্জাবি, পাজামা, গায়ে একটি খয়েরি রঙের চাদর, মাথায় পাগড়ি, হাতে একটি সিকো ফাইভ ঘড়ি, আঙ্গুলে সোনার আংটি, পায়ে কালো রংয়ের চামড়ার জুতা। মুখে হালকা পাউডার আর চোখে সুরমা, গলায় সোনালী রঙের জড়ির মালা। জড়ির মালার নিচে ঝুলছে পানপাতা আকৃতির বড় আকারের কারুকার্যময় সোনালী রংয়ের হার্ট।
বাইরে অপেক্ষমান পালকির চারপাশে রং বেরংয়ের কাগজেল ঝুল আর ফুল কেটে সাজানো। বেহারা চারজনের পড়নে সাদা ঠেঙো ধুতি, গায়ে স্যান্ডে গেঞ্জি। বেহারা সর্দারের হাতে লম্বা লাঠি।

ঘর থেকে বের হয়ে মা বাবাকে সালাম দিয়ে পালকিতে উঠে বসে বকুল। ওঠার আগে একবার দেখে নেয়; পাঞ্জাবির পকেটে রুমালটি ঠিক আছে কিনা। চেয়ারম্যান বেহারা সর্দারকে ডেকে বলে, শোন মতিলাল সারা পথ গান গেয়ে গেয়ে যাবে। তোমাদের আমি বখশিশ দেব।
চেয়ারম্যান সাহেবের অনুমতি নিয়ে বেহারা চারজনে কাঁধে তুলে ফেলে পালকি। চেয়ারম্যান সাহেব স্লোগান দেয়, ‚নারায়ে তকবীর”, বরযাত্রীরা সকলে এক সংগে উত্তর দেয় ‚আল্লাহু আকবার”। তকবীর ধ্বনীর পর বেহারারা শুরু করে গান আর গানের ছন্দে চলা শুরু করে তাদের পা। হু হু করে এগিয়ে যায় পালকি।
বরযাত্রী দলে গ্রামবাসী, আত্মীয় বাদে আছে বকুলের দুজন কলেজ বন্ধু। হিন্দু সমাজ থেকে বরযাত্রী অবিনাশ আর তার বেয়াই তপন। সব মিলিয়ে পঞ্চাশ জনের একটি দল। বয়সের কারণে চেয়ারম্যান সাহেব এখন দুরে হেঁটে যেতে পারেন না। তাই বাবার অনুপস্থিতিতে বড় ভাই তোফাজ্জেল আজ বরকর্তা।

বরযাত্রী চলতে থাকে পালকির গতিতে আর সাথে চলে বেহারাদের চলে গান। যখন বেহারাদের গান থামে তখন বরযাত্রীরা স্লোগান দিতে থাকে, ‚নারায়ে তকবীর, আল্লাহু আকবার।“
বলাই হঠাৎ খেয়াল করে বরযাত্রী দলে মানিক নাই। বলাইয়ের যেন মাথায় বাজ পরে। দ্রুত তোফাজ্জেলের কাছে এসে বলে, ও মিয়া ভাই মানিকরে কন নাই, ও নাহলেতো ইংরেজিতে জিততে পারব না। চেয়ারম্যানের বড় ছেলে বলে গ্রামের অনেকেই তোফাজ্জেলকে মিয়া ভাই বলে ডাকে।

-কেন তোর অবিনাশ দা আছেনা। তোফাজ্জেল উত্তর দেয়।
– দাদাতো আছেই, তারপরও!

তোফাজ্জেলের মনে হয় উত্তরটা বলাইয়ের পছন্দ হলো না। সে বলাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে, শোন বকুলের দুজন বন্ধু আছে। ওরা ইংরেজিতে পাকা। তোর ভয় নাই, আমরা জিতে যাবে।
মানিক ছাড়া বলাইয়ের মন উঠছে না। বলাইয়ের সোজা সাপটা উত্তর, ধুর ওনারা তো ভদ্রলোকের ইংরেজি বলবে। কখনো কখনো মানিকের ইংরেজি দরকার হয়। যখন মেয়ে পক্ষ ঠ্যটা তর্ক করে তখন মানিক হলে ভালো হয়।

– মানিক না এলে কি আর করবো। তোফজ্জেল জিজ্ঞাসা করে।
– আপনি বললে মানিক না এসে পারে।
-না এলে কি হবে বল।
-কি আর হবে, মেয়ে পক্ষকে হারাতে পারবো না।

মানিক বরযাত্রী যাচ্ছেনা দেখে বলাইয়ের সব আনন্দ যেন মাটি হয়ে যায়। ওর মনের ভাব বুঝতে পেরে তোফাজ্জেল ডাক দিয়ে ওকে সত্যি কথাটা বলে দেয়, শোন ভয় নাই, তোর মানিককে বলেছি! চলন যখন ওর বাড়ির পাশ দিয়ে যাবে। ও তখন চলনে যোগ দেবে।
বলাই মহাখুশি হয়ে উত্তর দেয়, আগে বলবেনতো, মিয়া ভাই বললে মানিক না এসে পারে। তার পর হ্যাজাক লাইট নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। সমান তালে হাঁটতে থাকে বেহারাদের সাথে।
চলন যখন মানিকের বাড়ির সামনে গিয়ে পৌঁছে তখন “চুয়াং ভাও, চুয়াং ভাও” বলে চলনে যোগ দেয় মানিক। মানিককে দেখে মহাখুশি বলাই! এইবার তাদের আর বিয়ের গেটে ঠকতে হবেনা। আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলাই পালকির গানের মাঝেই ধ্বনি দিয়ে ওঠে ‚নারায়ে তকবীর”।

১২

পাঠক এ পর্বে মানিকের সাথে আপনার পরিচয় করিয়ে দেই। ছিপছিপে গড়নের মানিক লম্বায় প্রায় ছয় ফুট। চেহারা দেখলে মনে হয় জোড়ে বাতাস এলে মাটিতে পড়ে যাবে। চলার সময় তার গতি দেখলে মনে হয় বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গায়ের জামা খুলে ফেললে বুকের সবগুলো হাড় গোনা যায় দশ হাত দুর থেকে।  এলাকায় এক সময়ে তার পরিচয় ছিল ফাত্রা মানিক। কিশোর বয়সে কথায় কথায় অশ্লীল ভাষা আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা ছিল তার মুদ্রাদোষ। এজন্য গ্রামের মানুষ তার নামের আগে ফাত্রা শব্দটি বসিয়ে দেয়। মানিকের ফাত্রামি এতটাই সহ্যের বাইরে চলে গিয়েছিল যে এক সময় তার বাবা জুলমত খাঁ মানিককে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বাড়ি থেকে বের করে দেবার পর নিরুদ্দেশ হয়ে যায় কিশোর মানিক।

মানিক জূলমত খাঁর একমাত্র ছেলে। ছেলের পর দুটি মেয়ে। বড় মেয়েটি বোবা এবং মানিকের চেয়ে দুই বছরের ছোট। কথা বলতে পারে না। মানিক বাড়ি থেকে চলে যাবার পর জুলমত খা মনমরা হয়ে এ গ্রাম ও গ্রাম ঘুরে ছেলেকে খুঁজতে থাকে। ছেলেকে খুজে না পেয়ে এক সময়ে মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরে জুলমত খাঁ। রাস্তাঘাটে যার সাথে দেখা হয় তাকেই জিজ্ঞাসা করতে থাকে, আমার মানিককে দেখেছ। কিছুদিন পর একেরাতে হঠাৎ করে ঘুমের মধ্যে মারা যায় সে।
ছেলে নিরুদ্দেশ, স্বামী মারা গেছে, এ অবস্থায় দুই মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পরে মানিকের মা। বেঁচে থাকার গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করা শুরু করে। বাড়িতে একখানা ছনের ঘর ছিল মেরামতের অভাবে সে ঘরও একদিন ভেঙে পরে। দুই মেয়েকে নিয়ে মানিকের মা আশ্রয় নেয় কাজী বাড়ির বারান্দায়। কিছুদিন পর বোবা মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পরে। কি সমস্যা হয়েছে বলতে পারে না। কদিন অসুস্থ থেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় মেয়েটি।

তিন চার বছর পর মানিক ফিরে এসে উঠে ধোপাডাঙ্গা গ্রামে তার দুর সম্পর্কের এক মামার বাড়িতে। মা খবর পায় মানিক ফিরে এসেছে। সে গিয়ে দেখা করে আসে ছেলের সাথে। একদিন মানিক হঠাৎ করে সেই মামার এক মেয়েকে বিয়ে করে ফিরে আসে শুন্য ‍ভিটেয়। ফিরে এসে ভিটেয় নতুন করে ঘর তুলে মা আর ছোট বোনটিকে নিয়ে আসে বাড়িতে।
নিরুদ্দেশ থাকার সময়ে মানিক একটি বিশেষ ভাষায় কথা বলা শিখে ফেলেছে। এটা মানিকের ভাষায় ইংরেজি। কিন্তু লক্ষ্য করলে বোঝা যায় এর কোনটিই ইংরেজি শব্দনা। কোন কোন শব্দ ইংরেজি শব্দের মত শোনা গেলেও মানিক যে অর্থ বলে তার সাথে শব্দটির বাংলা অর্থ মিলে না। এ এক নতুন ভাষা। সমবয়েসি কিম্বা ছোটদের সংগে মানিক এখন এ ভাষায় কথা বলে।

মানিককে কেও যদি জিজ্ঞেস করে,মানিক কেমন আছিস?
মানিক তার উত্তর দেয়,ইয়া-ভু।  মানিকের ভায়ায় নাকি এর অর্থ ভালো আছি।
যখন কেউ প্রশ্ন করে, মানিক কোথায় যাচ্ছিস ?
মানিক উত্তর দেয়, হুন হান হাব অর্থ হাটে যাচ্ছি।
দুপুরে মাঠের কাজ করতে করতে হয়তো গাছের নিচে মানিক তার সহকর্মীদের নিয়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছে।  এমন সময় কেউ ধরল, মানিক ভাই একটু তোমার ইংরেজি শোনাও।
মানিক উত্তর দেয়, ফটা ভুচআন,ভাইতু ফারা। এর মানে হলো,এখন কাজের সময়, গল্প করার সময় নাই।
আড্ডায় মানিক এখন প্রিয় মানুষ। সবাই শুনতে চায় মানিকের ইংরেজি। রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে মানিক একা একা এভাষায় কথা বলতে থাকে আর হাঁটতে থাকে। পথের পাশে বাড়ি থেকে শোনা যায় সেই ভাষা। লোকে বুঝতে পারে মানিক যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে। চর্চা করতে করতে মানিক এমন দক্ষতা অর্জন করেছে যে সে অনর্গল এভাবে কথা বলে যেতে পারে। আড্ডায় মানিকের ইংরেজি শুনতে শুনতে কোথা দিয়ে এক-দুই ঘন্টা পার হয়ে যায় বোঝা যায়না।‌ মানিকের এই ইংরেজি বলার দক্ষতায় তার নামের আগে ফাত্রা শব্দটা উঠে যায় এক সময়। এখন তাকে গ্রামের সবাই বলে ইংলিশ মানিক।

বিয়ের গেটে যখন কোন ভাবেই প্রতিপক্ষকে থামানো যায়না, তখন মানিকের ইংরেজি বলা শুরু হয়। মানিক সামনে এসে দুহাত তুলে বলা শুরু করে, ‌প্যাং প্যাং প্যাং। মানে থামো! থামো।
যদি প্রতিপক্ষের কোন বক্তা বলে উঠে কি বললেন?
তাহলে মানিকের পক্ষ হৈহৈ করে উঠে। ইংরেজি বোঝে না! ইংরেজি বোঝেনা! রব তুলে দেয়। আর হয়তো এখানেই সমাপ্তি হয়ে যায় গেটের বচসা।
আর যদি কেউ বুঝতে পারে মানিক যেটা বলছে, সেটা ইংরেজি নয়। তখন মানিক ননস্টপ এই ভাষায় কথা বলতে থাকে। মনে হয় যেন রচনা মুখস্ত বলে যাচ্ছে। প্রতিপক্ষ ননস্টপ এই ভাষা শুনে থেমে যায় এক সময়। যখন মানিক বুঝতে পারে প্রতিপক্ষ থ মেরে শুনছে, তখন মানিকও থেমে যায়। মানিকের পক্ষ এক সংগে হৈহৈ করে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে।

Series Navigation<< উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব নয়উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব এগারো >>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *