নির্বাচিত ছড়া- সোমা মুৎসুদ্দী
মেঘ ডাকে আয় পাহাড়টাকে
সোমা মুৎসুদ্দী
মেঘ ডাকে আয় পাহাড়টাকে
খেলবো লুকোচুরি
নীল আকাশে মনের সুখে
খোকন উড়ায় ঘুড়ি।
চলছে খুকি মায়ের সাথে
দূরের সবুজ মাঠে
পুজো পুজো আমেজ নিয়ে
হাটুরে যায় হাটে।
নদীর বুকে উছলে পড়ে
ছলাৎ ছলাৎ জল
বিলে ঝিলে শাপলা ফুলের
হাসিটা ঝলমল।
কলমি লতার উদাস মনে
ডাঙর বেড়ে ওঠা
প্রজাপতির রঙিন ডানায়
কিশোর এ-মন ছোটা।
হাটের কথায় মাঠের কথায়
সোনার এ-দেশ জাগে
কোন বনে আজ বাজে বেণু
খুশির ছোঁয়া লাগে।
খোকা যাবে জাপান
খোকা যাবে জাপানে
কফি আর চা পানে
খুকি যাবে চীন
টিন টিন টিন।
খোকা খাবে চাউমিন
খুকি খাবে রোল
চীন আর জাপানের
কিং জ্যাং ঘোল।
খোকা আর খুকি যাবে
চীন আর জাপানে
কেউ যাবে ঘোল খেতে
কেউ কফি চা পানে।
আমাদের ছেলেবেলা
আমাদের ছেলেবেলা
শরতের ছড়া
হোকনা নতুন করে
আজ তাই পড়া।
সাদা সাদা মেঘগুলো
ভাসে নীল আকাশে
যেনো সাদা তুলো দিয়ে
খুশি রং মাখা সে।
শরতের নদী তীর
কাশফুল দুলছে
তার সাথে শিউলির
মনটাও খুলছে।
হাটে মাঠে ঘাটে আজ
শরতটা ডাকছে
খোকা রং তুলি দিয়ে
সেই ছবি আঁকছে।
মেঘের দেশে
মেঘের দেশে যাবে খোকা
মেঘের ভেলায় চড়ে
উদাস মনে তাইতো খোকা
ভাবছে বসে ঘরে।
মেঘ বালিকা পাঠায় চিঠি
মেঘের খামে আজ
চিঠি পড়ে নতুন জামায়
করলো খোকা সাজ।
মেঘের দেশে মেঘের ঘরে
থাকবে খোকা সুখে
মেঘের মেয়ে মিষ্টি সেমাই
দেবে খোকার মুখে।
খাবার খেয়ে খোকনসোনা
দেবে সুখেই ঘুম
মেঘ পরীটা এসে খোকার
কপালে দেয় চুম।
খুকুমনি খোকামনি
খুকুমনি খোকামনি
উঠে বই পড়
চিন্তা ও ভাবনায়
দেশটাকে গড়।
তোমরা এগিয়ে নেবে
এই দেশটাকে
তোমাদের দেশ প্রেম
সেই ছবি আঁকে।
ফুলপাখি লতাপাতা
নদী ও পাহাড়
তোমাদের হাতে ভার
দেশ, সাজাবার।
উঠলো ফুটে মাতাল হাওয়ায়
উঠলো ফুটে মাতাল হাওয়ায়
গোলাপ বেলী গাঁদা
নীল আকাশে ভেসেই চলে
শরৎ মেঘও সাদা।
বইছে নদী,ডাকছে পাখি
গাছের ডালে সারি
মনটা বলে তিস্তা বাঁকে
হলেই আমার বাড়ি।
সেই বাড়িতে সাঁঝের বেলা
অপেক্ষাতে মা
মনটা বলে স্মৃতির ভিড়ে
তিস্তা পাড়েই যা।
হারাধন পরান
হারাধন পরানের দুটি ছেলে আছে
এক ছেলে বই পড়ে অন্যটা গাছে।
এক ছেলে মাছ খায় অন্যটা ডিম
এক ছেলে লাউ খায় অন্যটা সিম।
এক ছেলে বিকেলের মাঠে গিয়ে খেলে
অন্যটা মার সাথে আটা রুটি বেলে।
এক ছেলে ছড়া পড়ে অন্যটা গায়
একছেলে কৌতুকে ভারি মজা পায়।
এক ছেলে বল খেলে অন্যটা বসে
মাঝে মাঝে একসাথে অঙ্কও কষে।
এক ছেলে ছবি আঁকে অন্যটা নাচে
হারাধন পরানের দুটি ছেলে আছে।
ফুল পাখিদের মিলনমেলা
ফুল পাখিদের মিলনমেলা আমার বাংলাদেশে
বাউরি বাতাস দোল খেয়ে যায় মাঠের পরে হেসে।
নদীর জলে কিশোর ছেলে কাটছে সাঁতার সুখে
ছোট্ট খোকা নির্ভরতায় ঘুমায় মায়ের বুকে।
বিলে ঝিলে শাপলা হাসে সুখসারিদের বাস
পাহাড় যেথা সবুজ মায়ায় ডাকছে বারোমাস।
সাগর তীরে গাংচিলেরা কিচিরমিচির ডাকে
বাংলাদেশের রূপের মায়ায় মধুর ছবি আঁকে।
নদীর উপর নৌকাগুলো চলছে সারি সারি
নদীর কাছেই সবুজ গ্রামে আমার মাটির বাড়ি।
আমার বাড়ি গাছগাছালির ছায়ায় মায়ায় ঘেরা
সন্ধ্যা হলেই খেলা ফেলে বাড়ির টানে ফেরা।
এই বাড়িতেই উঠছি বেড়ে মায়ের স্নেহ পেয়ে
তারই সাথে বাউল এ-মন উঠছে সুখে গেয়ে।
মেঘের ফাঁকে বৃষ্টি ডাকে
মেঘের ফাঁকে বৃষ্টি ডাকে
উদাস ইশারায়
জল থৈ থৈ মনটা তখন
নদীর কিনার ধায়।
খোকার মুখে বৃষ্টি দিনের
মজার মজার ছড়া
তারই সাথে মায়ের হাতের
মজার ডা্লের বড়া।
খুকি বসে দাদীর কাছে
শোনে মজার গল্প
বৃষ্টি দিনের মিষ্টি আবেশ
মিঠে কড়া অল্প।
পাতায় পাতায়,বৃষ্টি ফোটা
দূরের পাহাড় হাসছে
রিমঝিমঝিম বৃষ্টিতে আজ
মাঠ ঘাট পথ ভাসছে।
চলরে খোকা নতুন করে
চলরে খোকা নতুন করে
সাজাই এদেশটাকে
কলমিলতার মিষ্টি হাসি
পুকুর জলের ফাঁকে।
দোয়েল শ্যামা মধুর গানে
নিত্য জাগায় প্রাণ
সবুজ পাহাড় যাচ্ছে ডেকে
নদীর কলতান।
সবুজ ফসল সবুজ মাঠে
কৃষক ফলায় ধান
বাউল ধরে মধুর সুরে
এই দেশেরি গান।
খোকন সোনা নির্ভরতায়
ঘুমায় মায়ের কোলে
দখিন বাতাস ফুরফুরিয়ে
মনের সুখে দোলে।