শিশুসাহিত্য

রাইদাহ গালিবা’র জন্মদিনে বিশেষ সংখ্যা

করি তার সাথে বলো তুলনা কাহার?
রাইদাহ গালিবা সে নাম মেয়েটার।
লিখত সে গল্প যে অপরূপ সব—
মেয়েটা যে নেই আজ সকলই নীরব।…

নিসর্গ প্রকৃতি মেঘ অরণ্য-পাহাড়
জোছনার ঝিলিমিলি ঝর্ণার পাড়
তার সে লেখায় ছিল অপরূপ সব
ছিল পাখি রাঙাভোর গোলাপের টব
লেখার জাদুতে তার মায়ার আবেশ
দৈত্যরা ভয় পেয়ে ছেড়ে যায় দেশ।..

করি কার সঙ্গে যে তুলনা তাহার?
তুলনা হয় না তার গল্পকথার
মায়ামায়া চোখে ছিল স্বপ্নের রেশ
কর্মেই উজ্জ্বল করবে সে দেশ—
ফুটিয়ে তুলত সব লেখাতেও তাই
কিন্তু দুঃখ হায় মেয়েটা যে নাই।…

কানিজ পারিজাত মা-যে তাহার
প্রিয়মুখ কবি তিনি সেরা কথাকার
কত আশা ছিল মনে মেয়েটিও ঠিক
ছড়াবে সে প্রতিভায় আলোঝিকমিক।…

হঠাৎ কী-করে কী-যে হয়ে গেল হায়
চিকিৎসকের ভুলে শোক বয়ে যায়
দুদিনের জ্বরে তার সোনার কুইন
হারিয়েও রেখে যায় মমতার ঋণ!…

ছোট্ট আয়ুর সেই মায়ার পুতুল
ফুটিয়ে গিয়েছে কত সৃষ্টির ফুল।
সৃষ্টির মাঝে সেই মায়াবী মেয়ে
স্মৃতি হয়ে আসে নীল তরণী বেয়ে।

রাইদাহ নামের ছোট্ট মেয়ে
আকাশপারে শুকতারা তার কাছে
ছোট্ট একটি তারার মতন
স্বপ্নে মিশে আছে।
নদীর জলে রোদের মায়ায়
সন্ধ্যা জোনাক গাছের ছায়ায়
রাইদাহ হীরে মানিক
মরণখাতার ওপার থেকে
দাও না উঁকি খানিক।
ছোট্ট কুঁড়ি নরম কোমল
ফুটে উঠবার আগে
ঝরলো হঠাৎ,সেই বেদনা
বজ্র আঘাত লাগে,
ক্রিকেট খেলা, গল্প লিখন
ছবি আঁকবার তুলি
তোমার স্মৃতি উসকিয়ে দেয়
কেমন করে সে শূন্যতা ভুলি!

(রাইদার প্রতি)
তাকে কখনো দেখিনি আমি
গল্প পড়েছি, শুনেছি তার অন্তর্ধান
রহস্য আর বিষ্ময় দিয়ে মোড়ানো
তার হ্রস্ব জীবন
সে নাকি কথা বলত হাজার বছর
আগের রাজকন্যাদের সঙ্গে
আর চিনত দৈত্যের বাসর
চিনত সে রাক্ষসের অন্তঃপুর
প্রাণভোমরার কোঁটা

দৈত্য এলে ঢুকে পড়ত গাছের মধ্যে
বাঘ এলে লুকিয়ে পড়ত নদীর জলে
তাকে ভালোবাসত
প্রজাপতি আর পাখিরা
বিড়াল আর মাছেরা
মা আর ফুলেরা

আর গল্প পড়তে পড়তে
আমিও তাকে ভালোবেসেছি
এখন সবাই তাকে খুঁজি পাখপাখালির ভিড়ে
লুকিয়ে থাকা পরীদের হাসিতে
সব অপেক্ষাতুর মায়ের অশ্রুতে।

(অকাল প্রয়াত ক্ষুদে শিশু সাহিত্যিক রাইদাহ গালিবার জন‍্য)
এই যে হেমন্ত ভোর
তুমি ঠিকই চুরি করো
কারো কারো সুখ!

আহারে ফুটন্ত ফুল
ঝরেগেলো অবহেলা হাতে
যার যায় সেই জানে
অন‍্যকেউ বুঝবে কী তাতে

তোমার আকাশ জুড়ে
গাছ মাছ পাখি ছিলো
আরো ছিলো দৈত‍্য কিংবা
বুড়ি মার মুখ।

তোমাকে ফেললো খেয়ে
আমাদের অবহেলা
আহত অসুখ!

ফুলগুলো ঝরে গেলে
কেঁদে ওঠে প্রকৃতি ও
মানব হৃদয়।

ভুলের শহরে কাঁদে
জননী ও ভ্রাতৃকুল
গল্পপোকা মন

তুমিহীন পৃথিবীতে
সবাইতো ভালো আছে
ভালোনেই জননীর মন

অনন্ত নক্ষত্রলোকে
পৃথিবীকে দূরে রেখে
কী করো এখন!

একটি মেয়ের জীবনটা ঠিক ঘোর লাগানো,
ঘরটি কেমন! মধ্যরাতে নিমগ্ন চাঁদ
একলা একা যেমন করে নিঃশব্দতায় জোসনা বিলায়,
যেমন করে অন্ধকারে নীল জোনাকি জ্বলতে থাকে,
হঠাৎ জ্বলে হঠাৎ নেভার সেই সে খেলা রহস্যময়!

আহা আহা রহস্যময়!
মধ্যরাতে দূর আকাশের একটি তারা
একলা ফোটে একলা জ্বলে!
রাত্রিশেষে কোন সুদূরে লুকিয়ে পড়ে,
তেমন করে এই মেয়েটি জ্বলজ্বলে
এক অবাক তারা, নামটি কুইন,
গালিবা সে গল্পরানী,
গল্পগুলো জ্বলতে থাকে বুকের ভেতর!

কেমন করে গল্পগুলো তার ভাষাতে গল্প হলো
কেমন করে রূপকথা ঠিক রূপের রসে সিক্ত হলো
আহা কোথায় সেই মেয়েটি! কোথায় গেলো!
কোথায় গেলো!

একটি মেয়ের জীবন নিয়ে ভাবলে বড় বিস্মিত হই
এই মেয়েটির হৃদয়ভরা জাদুর আলো
সেই আলোতে ফুটলো কত গল্প-গোলাপ
গোলাপগুলো বইয়ের পাতায় গন্ধ বিলায়
কেমন করে এই মেয়েটি,
এই পৃথিবীর হৃদয় থেকে হারিয়ে গেলো!
হারিয়ে গেলো!

ও মেয়ে তুই আলোর পাখি, আলোর পাখা
ছড়িয়ে একা, স্বর্গ জুড়ে সমগ্রতায়
উড়তে থাকো, উড়তে থাকো!

সে-কোন অতীত, যখন তুমি আমার ছিলে?
তোমার ঝাঁকড়া চুল— বাবুই পাখির বাসা
নিপুণ বুননে নিখুঁত শিল্পসাজ;
তোমার চোখের তারা—
সপ্তর্ষি আর ধ্রুবতারা
বিজয় তিলক ঝকমকিয়ে ওঠে;
সে-কোন অতীত, যখন তুমি আমার ছিলে?
তোমার হাসি— মুক্তো ঝলমল,
পান্না চুনি জহরতের মহান সমাহার
কণ্ঠ তোমার— মোহন বাঁশি
শব্দমালায়— সরোদ সুর
এখন তুমি কোথায় আছো?
কত দূরে?
কতগুলো আলোকবর্ষ পাড়ি দিলে
প্রজ্ঞায়নে তোমার দেখা মেলে?
তোমার দেশে কি বরফ জমে?
শাদা শাদা বরফ—
তুষার কণারা জমে চোখের পাতায়?
শীতের শেষে গ্রীষ্ম আসে তোমার দেশে?
রাজহাঁসেরা ডানা মেলে নতুন রোদে?
মেঘেরা কি খেলে আলো-ছায়ার খেলা?
ফুলেরা রং ছড়ায়?
পাখিরা গান গায়?
হরিণেরা তাকায় মায়া চোখে?
মহাকালের ওপারে তোমার ভিন্ন
এক দেশ—
নাম জানি না, ঠিকানা জানি না
নকশা কাটা জ্যামিতিক পথ—
তাও জানি না…
শুধু জানি, কোনো এক অতীতে
তুমি আমার ছিলে—
সত্যিই আমার ছিলে তুমি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *