চঞ্চল দেবনাথের কবিতা
প্রথম প্রেমের চিঠি
কিশোরীর সুঁইয়ের আঘাতে
রুমালের বুক চিড়ে বেরিয়ে এসেছে
যুবতী ধানের শীষ।
প্রথম প্রেমের চিঠি
রুমালের কোণে আঁকা প্রজাপতি
উড়ে এসে বসলো ধানের শীষে
কেঁপে উঠলো পাকা ধানখেত
পোয়াতি বৌয়ের পেট
বেশুমার ফসল, মধ্যস্বত্বভোগী ইঁদুর
লুকিয়ে খাওয়া চুমু
তবু হেমন্ত প্রসব করে নবান্ন-শিশু
নিসর্গের বিজ্ঞাপন
নীলাভ বাতাসে ভরে গেছে বনভূমি
এ হলো শীতের রঙ
গতকাল ট্রেনের জানালায় ছিলো সবুজের বিজ্ঞাপন
দিগন্ত ছুঁয়ে আঁকা জুমখেতে দু’একটা বক
মেঘেদের পরিত্যক্ত বিকিনি
.
পরের দৃশ্য রোমাঞ্চকর –
আমি এক পুরুষ ঝর্ণা, তুমি বিবস্ত্র রমণী
ক্রমশ গলে যাচ্ছি একে অপরের স্পর্শে
সারি সারি বুদবুদে ফেটে যাচ্ছে অসংখ্য সূর্য
কেউ কেউ একেই কবিতা ভেবে নিচ্ছে
অথচ জুমখেতগুলো ছিলো
পাহাড়ি মেয়ের ভঙ্গিল শরীরে
নিসর্গের বিজ্ঞাপন
চতুর্মাত্রিক
নদীর কথাগুলো তুলে রাখি আকাশের স্লেটে
সেসব বৃষ্টির ফোঁটা
জড়ো করা হলে স্রোতে ভেসে যায়
আকাশের কথাগুলো নদী হয়ে যায়
প্রান্তরে কতো শস্যখেত
ফোঁটা ফোঁটা শব্দ, ঝরা পাতা
কুড়িয়ে তৈরি করি চতুর্মাত্রিক অবয়ব
সফেন সমুদ্র, কবিতার চোরাবালি
এ আমারই সৃষ্টি
নদীগুলো হারিয়ে যাচ্ছে ব্লাকহোলে
আর আমি প্রাণপণে ধরে আছি
তোমার শাড়ির আঁচল