সৈয়দ আনোয়ার রেজা’র কবিতা

অহর্নিশ ভালবাসা

তুমি যদি রজনী হও আমি দিন হয়ে তোমার গভীরতায় প্রবেশ করব।
সমস্ত ক্লান্তি ভুলে অস্তমিত সূর্যের সাথে পুলকিত করব আকাশ।
ভালোবাসার তুলিতে রঙ মাখাব তোমার গোধূলি।
আমি ঝাপ দিয়ে তোমার রঙিন রাতে প্রবেশ করবো,
অনুভূতিগুলো তারারা উপলব্ধি করবে দূর থেকে।
তুমি ঘনিভূত হবে আমার নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে।
তুমি চন্দ্রকে বলবে ম্রিয়মাণ আলোয় ভরিয়ে দিতে
আমার বক্ষ যেখানে আলিঙ্গন করবে সারারাত।
ঝিঁঝিঁ পোকা তার মনের আনন্দে অদ্ভুত এক
ধ্বনিতে মনোরঞ্জন করবে আমাদের।
তোমার গহীনতা আর নির্ঘুম সরলতায় আমি মোটেও শঙ্কিত হব না,
বরং নিরবে আলিঙ্গনে মেতে থাকব মৃদু সূর্যালোক ছড়িয়ে পড়া পর্য্যন্ত।
বুকে জড়িয়ে রাখব ভোরের স্নিগ্ধতায়।
আমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও চলে যাব আমার কর্ম ব্যস্ততায়।
তুমি প্রতীক্ষায় থাকবে জবাফুলের মত তারাদের নিয়ে
কপালে চাঁদ মাখা টিপ পড়ে।

ভালোবাসি পবিত্রতায়

ভালোবাসা মানে চোখ টলমল
ভালোবাসা মানে হৃদয়ে অপূর্ণতা
ভালোবাসা মানে অজস্র নোনা জল
ভালোবাসা মানে যন্ত্রণার গভীরতা।

ভালোবাসা মানে ভাল্লাগেনা শহর
ভালোবাসা মানে পুরনো স্মৃতি
ভালোবাসা মানে প্রতীক্ষায় প্রহর
ভালোবাসা মানে অব্যক্ত প্রীতি।

কিছু ভালোবাসা ছলনায়, ধর্ষণ করে জালিম
কিছু ভালোবাসা ললনায়, ব্যাবসায় নিয়ে তালিম
কিছু ভালোবাসা সম্পদ, টাকায় গড়েছে পাহাড়
কিছু ভালোবাসা লম্পট, গরীবের কাড়ে আহার।

কিছু ভালোবাসা স্বর্গীয়, বিশ্বাসে হয় খাঁটি
কিছু ভালোবাসা রক্তের, স্রষ্টার বানানো মাটি
কিছু ভালোবাসা অমর, কবিতায় উপন্যাসে
কিছু ভালোবাসা সমর, শহীদের ন্যায় ভাসে।

এসো ভালোবাসি পবিত্রতায় হৃদয় উজাড় করে
এসো ভালোবাসি উদারতায় মনের আকাশ জুড়ে।

দুষ্টু ময়না

আমার এক ময়না আছে
থাকে সে মায়ের কাছে,
সকাল আর রাত দুপুরে
গায় গান চায় সুদূরে।

পাশে ঐ দাদী আছে না
জুড়ে যে কাশি কাশে না
ময়নাটা করছে নকল
তা দেখে হাসে সকল।

দাদি ভাই ভীষণ গরম
পা থেকে খুলল খড়ম,
ভয়াতুর ঘরের সবাই
আমি তো দৌড়ে পালাই।

দেখে দৌড় ময়না বলে
নাস্তা করে যাও ইস্কুলে,
জানালায় তাকায় চাচি
হাতে এক লম্বা কাঁচি।

কিরে বাপ কি হল তোর-
দৌড়াস যে কোথা’ কি চোর?
পরে বলি যাচ্ছে বেলা
সাথি সব করছে খেলা ।

উত্তম হবে দৃষ্টি

কাকের ইচ্ছে ময়না হবে
শালিক ভীষণ খুশি
কা কা করা ছেড়ে দিয়ে
বাজায় যদি বাঁশি।

মাছরাঙাটার সুচালো ঠোঁট
মৎস্য ধ্যানে ব্যস্ত
রঙের পালক ঝলমলে তার
শিকার করে আস্ত।

গাছের ডালে জোড়ার আশে
সুরের কোকিল ডাকে
ফুলবনেতে দোয়েল শালিক
কানা বক ঐ বাঁকে।

হাতির গল্প জানো কি ভাই?
আল-কোরানে আছে
শক্তি তাহার দেয়নি কাজে
পালালো কোন্ লাজে?

ঠোঁটে পাথর বহন করে
ছুড়ছিলো ঢিল গুলি
আবাবিলের গতির কাছে
শত্রু হারায় ঝুলি।

কিছু মানুষ কাকের মত
ঘ্যানর-ঘ্যানর করে
কথা বুঝার আগে যেন
পরের কথা ধরে।

আমরা মানব,নই যে দানব
জগৎ সেরা সৃষ্টি,
চালচলনে সহম হব
উত্তম হবে দৃষ্টি।

ঘরকন্না

পারিনি হতে তোর দারোয়ান
সর্বস্ব করেও বিলিন,
মায়ার বাঁধন, সৌম্য স্মৃতি
স্বপ্ন হয়েছে মলিন।

পারিনি হতে উত্তম রাখাল
রোদেলা বৃষ্টি ঝড়ে,
ত্বরা বেগ, চলনে আমার
সবকিছু ভেঙে যে পড়ে।

রাজ আসনে আজকে যারা
গাইছে সাম্যের গান,
জোয়ার ভাটা পড়লে মনে
কাঁদে ক্ষতবিক্ষত এ প্রাণ।

কাঁটার দাগ শুকিয়ে গেছে
ভাদ্র আশ্বিন মাসে,
ব্যথায় ভরা জীবন তরী
শুকনো পথে ভাসে।

ইন্দ্রজালে খোঁজে কি লাভ?
হিরে, মতি ও পান্না,
আজব মানুষ উড়ায় ফানুশ
রেখে যাওয়া ঘরকন্না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *