কবিতা— আহমেদ সৈয়দ শাহনুর
কাঙ্ক্ষিত উন্নতি
কাঁটার মৃণালে ফুটেছিল লাল গোলাপ সেই কবে-
গোলাপের নামকরণ হয়েছিল বাংলাদেশ এই ভবে।
বিধির বিধানে বিচিত্র তুলির হয়েছিল চিত্র আঁকা
তবুও গজায়নি এখনো সেই শান্ত মৌ‘য়ের পাখা।
দেখেছি আমি এই ধরার বহু প্রান্তপথ ঘুরে
ব্যাথিত জগতেও এসেছে শান্তি পুরাতন ব্যথা ফুঁড়ে।
হিমালয় জানে গগনের ঘন মেঘের সেই তীব্রতা
কে শুনে ঝর্ণা’র আহাজারি আর পান্নার নিরবতা।
রাত শেষে আর কতো শোনবো এই একই আকুতি
বাংলাদেশ নামক গোলাপটির কবে হবে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি।
সমাজের অসুখ
অধরা মন, চোখ কে বলে- চল, ইশারায় কিছু কথা হোক।
মুখোশ পরা মুখ আর জোড়া চরণ চলে, তিলে- তিলে সম্মোখ।
আজিকার দিন দিকেদিকে রঙিন- খুঁজি সুখটা গেল যে কোনখানে,
যেন সূর্যালোও বড় অগোছালো, কোথায় যে মুখ গুঁজে আছে, কে জানে!
আনকোরা ধোঁয়া, বিঁভুই মন ছোঁয়া, খেটে খাওয়া গরিবের বুক,
কে ভাববে তাদের নিয়ে, যাদের ভাবার কথা, নেতা, নিজেই সমাজের অসুখ।
পথহারা সেই অসৎ, কথায় কথায় সত্যবাদীকে দেয় খোঁটা,
এরা গিরগিটির মত রক্তচোষা, ভালো‘কে বলে বর্ণচ্ছটা।
কালে নেওয়া কর্ণ শোনে না ভালো, সবটাতেই বুঝে অনিয়ম,
জুঁই পুঁই যতই ফুটুক সুগন্ধির সুভাষ, পায় সে খুবই কম।
ক্ষণিকের জগত
চিরদিন রবেনা সুদিন, ভাবেনা জালিমরা কেহ
গুলিস্তায় হয়েছে দলিত, কতো গোলাপের দেহ।
কতো মর্দিত,পিষ্ট, দমিতরা হয়েছে পূণ‘স্বাধীন
জোয়ার ভাঁটার পৃথিবী চলে, তার নিয়মাদিন।
পাহাড় ধ্বসে হয় সাগর, সাগরেও উঠে চর
পৃথিবী ক্ষণিকের জগত, থাকেনি কোন বরবর।
লা‘ত, ওজ্জা, মানাতের পুজো হতো আগে যে ঘরে
সে ঘরের জিয়ারত করে এখন মুসলিম প্রাণভরে।
কিঞ্চিৎ অজুহাতে প্রজা যায় জেলে তবু-
রাজারা শতো দোষে হয়না রাজদ্রোহী কভু।
নিরীহের ভীরুতায় যে রাজা হয় উগ্র আরো
ভুলে যায় সে নিয়তির কলম বড় নির্মম‘তর।
জীবন‘ত আশ্বিনের শিশিরের মতো ভোরের প্রহর
দুপুরের আগেই হয় উদাও, এ‘তো স্বপ্নের নহর,
তবে মরণের পরেও বাঁচে মুষ্টিমেয় নারী পুরুষ
ভোগী নয়,তারা ত্যাগী জনকল্যাণে থাকে খুশ।
চিনি তোমারে
কে তুমি বসে আছ হৃদয়ের পারে
কেন মনে হয় চিনি তোমারে।
তারাবীহ এই সন্ধ্যায়
রজনীগন্ধার সঘন বেলায়
অনুভুতির আঁধারে কাঁদে চারিধার,
এ তহু হৃদয়ে বারিধারে।
আজই কেন এই সূর্যাস্তের আলো
মোহ হীন মারুদা হৃদয রাঙালো।
তবে কী তোমার ছায়ায়
ছায়াবিত কেহ, তরী বায়-
মৃত নদ‘তীরে মম নম্রতার ধারে
কেন মনে হয় আমি চিনি-
খুব চিনি তোমারে।
