উপন্যাস ।। আমি আঁধারে থাকি।। সাদিয়া সুলতানা।। পর্ব এক
- উপন্যাস ।। আমি আঁধারে থাকি।। সাদিয়া সুলতানা।। পর্ব এক
- উপন্যাস ।। আমি আঁধারে থাকি।। সাদিয়া সুলতানা।। পর্ব দুই
- উপন্যাস ।। আমি আঁধারে থাকি।। সাদিয়া সুলতানা।। পর্ব তিন
১.
অনেকক্ষণ ধরে লোকটা আমাকে আড়চোখে দেখছে। অব্যক্ত এই চাহনি পরখেই বোঝা যায় এই দৃষ্টিতে কৌতূহল ভিন্ন আর কিছু নেই। লোকটার বয়স পঞ্চাশের বেশি হবে। পরনে আধময়লা খয়েরি রঙা ফতুয়া, রঙচটা নীল-সাদা লুঙ্গি, গলায় নতুন লাল-সবুজ চেক গামছা জড়ানো। মাথার তেল চুবান সিঁথিটানা চুলের বেশিরভাগই সাদা। ভঙ্গুর শরীর। চোখে-মুখে অসীম মায়ার ছাপ। আমার দিকে তাকিয়ে সে ফতুয়ার বুকপকেট থেকে দিয়াশলাই বের করে বিড়ি ধরায়। বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে পুনরায় আমার দিকে তাকায়। ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ধরে যায় বোধহয়, খানিকক্ষণ পায়চারি করে। হাতের পেটমোটা বাজারের ব্যাগটা কোথাও রেখে স্বস্তি পাচ্ছে না দেখে হাতেই টেনে চলে। শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলাতে না পেরে কৌতূহলী চোখে-মুখে আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। হাতের বিড়ির শেষ মাথাটুকু নিচে ফেলে স্যান্ডেলসমেত পা দিয়ে বারকয়েক ঘষে চোখে চোখ রেখে পরিচিত ভঙ্গিতে হাসে।
−কোনটে যাবু বেটি?
বাড়ির রাস্তা চিনি না বলে রেলস্টেশন ছাড়তে উসখুস করছি ভেবে হয়তো তার এই সহজাত প্রশ্ন। উত্তর দেওয়ার আগেই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি হয়।
−কোনটে যাবু বেটি? কোন গেরামত যাবু?
−বাড়ির আস্তা দূরে নয় চাচা। বৃষ্টি থামুক। যামো আলায়।
−এই বিষটি থামব্যার নয়। আষাঢ়ি বিষটি। যাবু কোন গেরামত? কার বাড়িত যাবু? কার ছোল?’
−সোনারা গ্রাম। হামার বাপের বাড়ি।
বুকের ভেতর কেমন একটা আলোড়ন হয়। কত সহজেই বললাম আজ, হামার বাপের বাড়ি!
−বেটি, ম্যালাদিন পরে আচ্ছিস মনে হয়।
−হ।
−চিনব্যার পাই নাই। সোনারা গেরামত বেটার বিয়া দিছম। মেম্বরের বেটি। শাগাইবাড়ি যাওয়া নাগে, কিন্তু গেরামের শিক্ষিত বেটাবেটি চিনব্যার পাই নাই।
−চেনার মতো মুই কেউ নম চাচা।
অনেক অনেক দিন পর গ্রামীণ সারল্যের সাহচর্য পেয়ে অচেনা মানুষটাকে আমি অনায়াসেই চাচা ডাকি। আমার কথা শুনে মুখের খোঁচা খোঁচা দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে পান খাওয়া দাঁত ছড়িয়ে লোকটা হাসে।
−বেটিছোলক আজক্যাল কেউ ঠেকাবার পাবা নয়! বিষটি তো কোন ছার!
শাড়ির কুচি জড়িয়ে বেকায়দাভাবে পায়ের সাথে আটকে আছে। কুচি ঠিক করতে করতে আমি হাসি।
−খাঁটি কতা চাচা।
আজ সারাদিন পথে পথে কেটেছে। সকাল সাড়ে ছ’টায় তিতুমীর এক্সপ্রেসে রাজশাহী থেকে সান্তাহার, তারপর সান্তাহার থেকে লোকাল ট্রেনে বামনডাঙা পৌঁছাতে প্রায় বিকেল হয়ে এল। বৃষ্টি না ধরলে বাড়ি পৌঁছাতে সন্ধ্যে হবে। এভাবে রেলস্টেশনে একা দাঁড়িয়ে থাকাটা অস্বস্তিকর। হঠাৎ করে হৈ-হট্টগোল শুরু হয়। রেলস্টেশন এমনিতেই হট্টগোলের জায়গা। বাহারি ফলের ফেরিওয়ালা, পান-বিড়ি-সিগারেট, পানি-বাদামের খুচরো বিক্রেতাদের হাঁকডাক বাদ দিলেও বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রীদের আসা-যাওয়ার হুল্লোড় তো লেগেই আছে। এই যে মাত্র লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা সান্তাহারগামী একটা লোকাল ট্রেন রেলস্টেশনে থামতেই চারপাশের চেহারা বদলে গেল। বামনডাঙা রেলস্টেশনের ঝিমিয়ে পড়া ক্ষুদ্র পরিসর ব্যস্ততায় পাল্টে যেতেই একজন কায়দা করে কনুই বাঁকা দিয়ে আমাকে ধাক্কা মেরে আমার ওপর বিরক্তি ঝাড়তে ঝাড়তে বলল, ‘চোখের মাথা খাইছে।’ চোখ আছে চোখের কাছে, দেখার দৃষ্টিই শুধু অনির্ধারিত। আমার ট্রেন থেমেছে আধাঘন্টা হলো। বৃষ্টির কারণে এখনও রেলস্টেশন ছাড়ার সুযোগ পাইনি। হট্টগোল, ভাঙাভাঙা কোলাহল ডিঙিয়ে স্টেশনের বহির্গমন গেটের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছি। এখনও বৃষ্টি ঝরছে, রাত জাগা অচিন দীর্ঘশ্বাসের মতো থেমে থেমে। সামনে এগোই। বৃষ্টিভেজা রাস্তায় পা রাখতেই অচেনা এক আবেগে আমার শরীর ঝমঝম করে ওঠে।
ঐ যে…সামনে বাড়ির পথ! আমার গ্রামের বাড়ি! যেখানে আমার নাড়ী পোঁতা! আমার শৈশব সোনারা গ্রামে কাটেনি তবু জন্মের পর এই গ্রামেরই রূপসী এক কদম গাছের তলায় স্বজনেরা আমার নাড়ী পুঁতে রেখেছিল। যেই গাছ আমার জন্মকালের অশ্রুসিক্ত সময়ের সাক্ষী। আমি বাড়ি থাকতে প্রতি বর্ষায় কদম গাছটা ফুলে ফুলে ছেয়ে যেত। কী ভালো যে লাগত কমলা বর্ণের ফুলের দানা দানা পাঁপড়ি গালে ছোঁয়াতে! মাটির ভেজা ভেজা গন্ধের সাথে কদমের সুগন্ধ বিবশ করে রাখত। ফুপুজি বলত, কখনও বাড়ি ছাড়লে, এই গাছই আমাকে টেনে আনবে। একেই বলে নাড়ীর টান! আমি শেষবার যখন বাড়ি আসি তখন গাছটা ছিল মৃতপ্রায়। এখন হয়তো আর বেঁচে নেই। তবু সেই গাছের স্মৃতি অতৃপ্ত আত্মার মতো এখনও আমার মাথায় ভর করে থাকে। খানিকটা এগোতেই বৃষ্টি বাড়ে। বৃষ্টিজালে জড়িয়ে আমি উদভ্রান্তের মতো রাস্তার ডানপাশের টঙঘরের দিকে দৌড়ে যাই। আশেপাশে দুচারটা দোকানঘর আছে। ছুটে জায়গাবদল করলে ভিজে যাবো। টঙঘরের ছোটো চালার নিচে ব্যাগ হাতে আমার মতো দু’চারজন দাঁড়িয়ে আছে। এখানে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করলে বৃষ্টিভেজা হতেই হবে। তার চেয়ে গন্তব্য লক্ষ্য করে এগোনোই ভালো। একটা রিকশা টুংটাং শব্দে পাশে এসে দাঁড়ায়। আমি আর না ভেবে আধভেজা কাপড়ে রিকশায় উঠে বলি,
−সোনারা গ্রামত যামো।
রিকশার পর্দা টেনে নিয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসেছি। চেনা পথঘাট সব অচেনা লাগছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাবো। এখন কী আর ফুপুজির মতো কেউ আমার জন্য আয়োজন করে বসে আছে? ফুপুজি ছাড়া কেউ তো কোনোকালেই এই নূরের জন্য আয়োজনের বাহুল্য করেনি। ঝুপঝুপ বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে চোখের পানিও টুকরো টুকরো হয়ে ঝরতে থাকে। কত কী মনে পড়ে! আহা! এই আষাঢ়ে বৃষ্টিজল যেন স্মৃতি মনে করানোর সকল কৌশল জানে! ঐ যে আমার বাড়ি! স্মৃতিসমুদ্রে সাঁতার কাটতে কাটতে আমি বাড়ি পৌঁছে গেছি। ঐ তো রেহনুমাকে দেখা যাচ্ছে! ওকে কি বলে সম্বোধন করি আমি? মানুষের মন কী অদ্ভুত! মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক আরও অদ্ভুত। এই যে রেহনুমাকে আমি কেমন সম্বোধনহীন ডেকে চলেছি! সকাল থেকে কেবল এসবই ভাবছি। ভাবনা ছাড়া এই বাড়িতে এখন আমার বিশেষ কোনো কাজ নেই। মালার কুশলাদি জানতে জানতে একটা বড় বাটিতে চানাচুর-মুড়ি মাখিয়ে এনে রেহনুমা টেবিলে রাখে। রেহনুমার শরীর ভারি হয়ে গেছে। মাড়হীন নরম সুতির শাড়ির ঘোমটার আড়াল থেকেও মুখটা ফোলা ফোলা দেখাচ্ছে। গতকাল ওকে দেখে প্রথমে চমকে উঠেছিলাম, এত পরিবর্তন হয়ে গেছে! কেমন বয়স্ক দেখাচ্ছে! রেহনুমা বলেছিল ওর শরীরে কোনো এক অজানা কারণে পানি আসে। চেপে চেপে দেখিয়েছিল হাত, পায়ের মাংসে কেমন করে আঙুল বসে যায়। মুড়ির বাটিটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে রেহনুমা প্রশ্ন করে, ‘নাল চা খাবু? না দুধ দিয়া বানে দেম? বাসি দুধের সর চা। সেংক্যা স্বাদ!’
−দুধ চা খাবা নম। আদা দিয়া নাল চা খাম।
রেহনুমার আদরের ধরন পাল্টায়নি। আমি মুড়ি মাখানো খেতে খেতে ওর দিকে তাকাই। বাবা বাড়িতে আছে কি না, একবার এ প্রশ্ন করতে গিয়ে থমকে যাই। উত্তর পাওয়ার দরকার নেই। এই মানুষ এখন ঘরে না থাকারই সামিল। গতকাল যখন বাড়িতে ঢুকছিলাম তখন জামরুল গাছের নিচে বাবা জবুথবু হয়ে বসেছিল। বাবার পরনের জামা ছিল আধভেজা, মাথার চুল ছিল উসকোখুসকো। রেহনুমা বলছিল, অনেক দিন হলো আশেপাশের কাউকে বাবা চিনতে পারে না। কেউ কিছু বললেই আকাশের দিকে আঙুল তুলে কীসব দেখায় আর বিড়বিড় করে। রেহনুমা চলে গেলে জানালার পাশে দাঁড়াই। বাইরে ধোঁয়া ধোঁয়া বৃষ্টি। ভেজা পুকুর পাড়ের বিষণ্নতা ভেতরটা ছুঁয়ে যায়। সেই একই দৃশ্যপট! শুধু সময়টা আলাদা। অনেক দিন বাদে আমার মন অতীতের জন্য কেমন বিনিয়ে ওঠে। যেই ঘরে আমি ছিলাম, আমার মা ছিল সেই ঘরে ঢুকি, আমার শরীর কেঁপে কেঁপে ওঠে। এই সেই ঘর। এই ঘরে সবসময় মায়ের ভেজা শরীরের মনোরম গন্ধ পেতাম। এখনও পাচ্ছি। সবার কাছে যেই গন্ধ উৎকট আর দুর্গন্ধযুক্ত বলে মনে হতো সেই গন্ধ আজও আমার ইন্দ্রিয়ের কাছে ফুলের সৌরভ হয়ে ভেসে বেড়ায়। বৃষ্টির তোড় বাড়ে। আকাশ ভেঙে অনন্তকালের স্রোতের মতো বৃষ্টি নামে। নিজের ভেতরে ছটফটানি টের পাই। টের পাই বৃষ্টিমুখর দিনটা ক্রমশ স্মৃতিমুখর হয়ে উঠতে চাচ্ছে। সেই সঙ্গে নিজের ভেতরে নিজেকে গুটিয়ে রাখার ক্লান্তি বৃষ্টির মতো ঝেড়ে ফেলতেও সাধ জাগছে। বাবা পুকুর পাড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টিভেজা পুকুর ঘাটের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আকাশপানে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে বাবা অদৃশ্য কারও প্রতি তর্জনী উঁচিয়ে কিছু বলছে। বৃষ্টির তোড়ে তার পরনের শার্ট-লুঙ্গি ভিজে যাচ্ছে। রেহনুমা ছুটে এসে হাত ধরে টানাটানি করে বাবাকে বৃষ্টিতে ভিজতে নিষেধ করে। কিন্তু সরে আসার বদলে বাবা আরও গাঁট হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। রেহনুমা ব্যর্থ হয়ে দৌড়ে রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকে যায়।
আমার কি বাবার কাছে যাওয়া উচিত? মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষটার সাথে কি নতুনভাবে কোনো মানসিক নৈকট্য তৈরি করা উচিত? বুঝতে পারছি না। হয়তো ঠিক এই মুহূর্তে এই দূরত্ব ঘোচাতে মন সায় দিচ্ছে না। অথচ কী অদ্ভূত বিষয়, বাবার অসুস্থতার খবর পেয়েই বাড়িতে ছুটে এসেছি। এ কি শুধু পিতৃদায় শোধের জন্য করেছি? না কি কদমগাছের নিচে পোঁতা সেই নাড়ীর টানে ছুটে এসেছি? কিন্তু সেই কদমগাছটাও তো আর নেই! কোনো কোনো মানুষের চলে যাবার মতো গাছটার দাঁড়িয়ে থাকার জায়গাতে এখন অসীম শূন্যতা। তাহলে কেন এসেছি? সম্পর্কের দৃশ্যমান টানের চেয়ে অদৃশ্য সুতোতেই নেচেছি এতটা কাল। তাই দৌড়ে ‘বাবা’ বলে ঐ মানুষটাকে জড়িয়ে ধরতে আজও কোথায় যেন বাঁধছে। আসলে কারও কাছে গিয়ে কখনও নিজেকে নিবেদন করতে পারি না আমি। নিজেকে কারও সামনে মেলে ধরতেও শিখিনি কোনোকালে। তাই নিজের কথাগুলো কাউকে বলা হয় না। শুধু নিজের সঙ্গে নিজের চলে নিরন্তর কথোপকথন। একসময় সব কথা এলোমেলো হয়ে যায়। সময়ের ফাঁক-ফোঁকর গলে শব্দেরা হারিয়ে যায়। তবু বলতে পারি না। বলা হয় না। শুধু শুনি। মানুষকে শুনি, অমানুষকে শুনি। বাতাসকে শুনি। আলোকে শুনি। পানিকে শুনি। স্রোতকে শুনি। তবু কোনো জরুরি ফেরতবাক্য বলা হয় না, একান্ত অনুভূতি প্রকাশ করা হয় না। নিজের ভেতরে জমতে থাকা গল্পগুলো পৃথিবীকে জানানো হয় না। অন্তরমহলে লুকিয়ে থাকা অস্থির কথামালা বুকের ভেতর ক্রমশ পাহাড় আকৃতির হয়ে ওঠে। তখন প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়। আর আমি মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাই। কিন্তু আমি মৃত্যুকে ভয় পাই। আমার কাছে মৃত্যু মানে অন্ধকার। আমি অন্ধকারকে ভয় পাই। আবার অন্ধকারেই বসত আমার। অন্ধকারে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছি। তাই আজ আমি অন্ধকার আর আলোর ব্যবধান কমাতে চাই। আমি আলোতে যেতে চাই। আমি মিতালি পাতাতে চাই, মানুষের সাথে। বাতাস, পানি, মেঘ, নদী-স্রোতের সাথে। গ্রামে বেড়ে ওঠা আমার শৈশব জুড়ে পানির প্রভাব ছিল বলে অবশ্যম্ভাবীভাবে আমার কথা হয় জলমুখর। নদীর সাথে আমার চিরকালের সন্ধি। আজ আমি নদীর স্রোতের মতো হতে চাইছি। আমার কথাগুলো বলতে চাইছি। আমার গল্পগুলো শোনাতে চাইছি। কী এক অজানা কারণে আজ ভেতরের কথামালা বৃষ্টির মতো প্রবল হয়ে উঠতে চাইছে। গল্প শোনানোর জন্য এই বৃষ্টিবন্দি দিনের চেয়ে ভালো কোনো দিন আর আছে! পুকুর ঘাটে বাবা নেই। কখন যেন ঘরে ঢুকে গেছে। বৃষ্টির ছাঁট জানলার ফাঁক গলে এসে আমাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। এই মুহূর্তে আমার খুব ভালো লাগছে। একটা অমলিন স্নিগ্ধতা আছে বৃষ্টির পানিতে। ইচ্ছে করছে, আমিও বাবার মতো বৃষ্টিতে ভিজি। কী যেন কী হয় আমার, এক দৌড়ে ঘরের বাইরে চলে যাই।
