সৈয়দ শাহনুর আহমেদ-এর কবিতা

সেই স্বর্ণীল রজনী

প্রেমের বাঁধনে আবদ্ধ প্রাণ
অর্ধ মুদিত ভাবুক আঁখি
বিচলিত নয়নে যখন করি ধ্যান
সম্মুখ চেয়ে তোমাকেই দেখি।

অন্তর আত্মার অনন্ত প্রেমে
আমি আমাকে খুঁজি হরদম
তোমার প্রতিচ্ছবি দেয় দোলা
নিজেকেও দেখি, তবে খুব-কম।

অপারগ আমি ভুলতে তোমার
অনন্য মনোরম বর্ণিল স্মৃতি।
আমার মধ্যে নেই আমি আর
এ কেমন হৃদয়াঙ্গম কেমন প্রীতি?

তোমার কুসুম-সম বর্তুল মুখখানি
একজোড়া অশ্রুভরা চোখের চাহনি
ইঙ্গিতে দিতো প্রাণ-ছোঁয়া হাতছানি
সেই স্বর্ণীল রজনী আজো ভুলিনি।

এসো না ভুলে যাই,ভ্রান্তিগুলো
অতীত মিশ্রিত ভিন্ন রাশিফল
দুটি দেহকে মিলিয়ে দেই তাদের
অভিন্ন আত্মার lকোমল মিলন।

প্রেমের ভাষা টেলিপ্যাথিক প্রণয়
তুমিতো বুঝো আমার চেয়ে ভালো
চাঁদের ও কালো অধ্যায় আছে
ভালোবাসার ডাকে ফিরে যাই চলো।

শিশুর আর্তনাদ

লক্ষ লক্ষ্ পথ্-শিশুর জন্ম, শিশুদের কি অপরাধ?
অতীব গর্হিত অপরাধী আসলে কি শিশু?
অপরাধ তাদের জন্মদাতার।

পাষণ্ড,পাপিষ্ট, ও কর্তব্য বিমূঢ় ধর্মান্ধদের কুকীর্তির ফসল
লক্ষাধিক অনাথ শিশুর বিচরণে
কুলুষীত আজ বাংলার সীমাতল।

নিপিরণ-ঘণ্ মরনের দ্বন্দ্বে লুণ্ঠিত আজ অধিকার
রাস্তায় জন্ম ফুটপাত ই যেনো
তাদের বাড়ি
কে শোনে এতিমের হাহাকার।

ক্লান্ত বাহু আশাহোত মন অশ্রুসিক্ত চোখে, ঘুরে দুয়ারে দুয়ারে।
পায়না কিঞ্চিত মমতা, উধাও আজ মানবতা,
পথে পথে এই হতভাগা শিশুরা মরে।

মানুষ রুপি বন্যরা হন্য হয়ে ঘুরে সম্পদের নেশায়,
হিংস্রতায় উম্মাদরা নিত্য উপনীত, আসক্ত হয়ে আছে জল্লাদের ভূমিকায়।

রেশমি বস্ত্র, বড় স্বপ্ন, গাড়ি-বাড়ি,
নাই লালচ নাই কোনো অভিপ্রায়,
আকুল আকুতি মাথা গুজানুর ঠাঁই আর ভরপেট একটু অন্য চাই।

করি মিনতি, করি আকুতি
পৈশাচারেরা সবে শোনো
নশ্বর জীবনে করছি যাপন
দিওনা কারো আর অযাচিত জনম!

শুভ্র সুভাস, শ্রেষ্ঠ বাতাস উত্তম পরিবেশে তোমরা থাকো,
মানবের দেশে মানুষ হিসাবে
এই পথশিশুদের একটু দেখো।—-…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *