উপন্যাস।। পার্পল সন্ধ্যা।। হামিম কামাল।। পর্ব দুই

পার্পল সন্ধ্যা- হামিম কামাল

অধ্যায় এর সংক্ষেপ : সমস্ত যোগসূত্র ছিন্ন হওয়ার ছয় বছর পর, সূক্ষ্মজগৎ অভ্রে গিয়ে মৃত জীবনসঙ্গী মিরাইকে দেখার অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা হয় রুপাইয়ের। বন্ধু সাহসকে সব বলা প্রয়োজন।    

অধ্যায় ২ 

খালাম্মা চলে গেলে ভেতরে ঢুকল রুপাই। চোখ দুটোয় সেই চেনা আলো। আমি অপেক্ষা করছিলাম রুপাই কখন বলতে শুরু করবে। আমি বিছানায় বসে আছি। বিছানার হেলানের কাছে বিরাট জানালা। হেলানে ওর একটা শক্ত বালিশ ঠেকিয়ে আমি পা তুলে বসলাম। রুপাইয়ের আরো কী কাজ যেন বাকি। ঘরের কোণে তাকাচ্ছে। ওখানে একটা টেবিল, তার ওপর ল্যাপটপটার ডালা খোলা। কালো এ’সার, তিন বছর আগে আমিসহ আইডিবি ভবনে গিয়ে কিনেছিলাম। রুপাই তার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ খুটখাট করল। কী করল বুঝতে পারলাম না। টেবিলটার সামনে একটা কাঁঠাল কাঠের টুল ছিল, সোনালি বার্নিশ করা। বার্নিশের সোনারং পাতল হয়ে এসেছে। রুপাই টুলটা এনে বিছানার পাশে রাখল।

ওর চুল থেকে তখনো পানি পড়ছে। মাথাটা মোছানো দরকার। ওর ঠাণ্ডার ধাত। উপরন্তু যে অবস্থা করছে শরীরের। ওষুধ বাদ দিয়েছে। চোখের নিচে কালো। তবে এ মুহূর্তে ওর মুখ হাসি হাসি। ঘরে বাইশ ওয়াটের টিউবলাইট। আনাচ কানাচ আলোকিত। সাদা দেয়ালের উচ্ছ্বাসটা অনেকদিনপর ওর চোখে মুখে প্রতিফলিত হতে দেখছি।

ঢোকার মুখে দরজার পাশেই একটা খাটো মেইলিং স্টোন ফ্রিজ। তার সবুজ ডালা খুলে রুপাই একটা সাদা কাচের বোতল বের করল। এর ইঙ্গিতই দিয়েছিল খালাম্মাকে। বিফ-ইটার। ভেতরে স্বচ্ছ তরল টলটল করছে। তরলগুলো আমার কাছে রুপালি পারদের মতো লাগল। কাচের বোতলটা রুপাই টক করে রাখল টুলটার ওপর। বোতলের ওপর লন্ডন টাওয়ারের বিফইটার প্রহরির ছবি। লাল ওভারকোট, হাতে বল্লম, ডান পা-টা সামনে বাড়িয়ে রেখেছে। এখন পর্যন্ত তিন আউন্সের মতো খাওয়া হয়েছে ওখান থেকে। বোতলটার পাশে রুপাই নামিয়ে রাখল দুটো অ্যালুমিনিয়ামের গ্লাস। খুবই আবহপ্রিয় মানুষ রুপাই। এতোদিন নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো উপলক্ষ্যের জন্যে এইসব জমা পড়ে ছিল। গ্লাস দুটো নতুন। ওপরে নীল হলুদ সবুজ রঙে মিনা করা ময়ূর পেখম তুলে রেখেছে। পানীয়ের জন্যে সিলভারের গ্লাসের তুলনা হয় না। বরফটা ধীরে গলে।

বরফের কাছে পৌঁছে গেছে রুপাই। ফ্রিজের ডালায় বরফের চেম্বার। সেখানে আঠার-বিশটার মতো বরফের কিউব জমাট হয়ে আছে। রুপার চামচ আছে একটা। চাড় দিয়ে আলগা করতে চেষ্টা করল। অভ্যাসমতো বললাম, “আমাকে দাও।” দিলো না। শীতক চেম্বার থেকে এবার বেরিয়ে এলো শেষ উপকরণ, লেবেল তোলা কোকের বোতলে রাথা ঘরে তৈরি ঘন লেমোনেড। জিনের সঙ্গে লেমনেড সেরা। বেশ। এয়ারকন্ডিশনার এখন কক্ষতাপমাত্রায়। পঁচিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সাতাত্তর ডিগ্রি ফারেনহাইট। তবু বোতলগুলোর ওপর বাষ্পের স্তর পড়েছে।

জানি, এবার আবহ তৈরি করা হবে। রুপাই বাতি নিভিয়ে দিলো। ল্যাপটটের পর্দার আলো ছাড়া, প্রায় অন্ধকার ঘর। রুপাই ল্যাপটপটা আড়াল করে দাঁড়িয়েছে। ওর ভঙ্গি গতকালের চেয়ে দৃঢ়। ওকে লম্বা লাগছে। ইউটিউবের অ্যাড্রেসবারে টাইপ করতে থাকল। চিরকাল রুপাই যখনই বিশেষ কিছু বলতে যায়, আবহ তৈরি করে। পান করার পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। ওকে পরিবেশ তৈরি করে দেয় সুর। কখনো ইয়ান্নি ক্রিসোমালিস, কখনো তাবুন সূত্রধর। কখনো গিওর্গে জাম্ফির, কখনো আনন্দ শংকর। শুধু চারটা নাম বললেও সংখ্যা চারে সীমাবদ্ধ তো নয়। অনুচ্চারিত নামগুলো এই উচ্চারিত শিল্পীদের গুরু, নয় শিষ্য। জেন লাইফ রিল্যাক্স নামে এক চ্যানেলে গেল রুপাই। চালু করল “ওপেন থার্ড আই”। একটা সলফেজিও ফ্রিকোয়েন্সি। সলফেজিও ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ে ওর অন্যরকম মোহগ্রস্ততা আছে।

ল্যাপটপের পর্দায় নীল চোখের পাতা, কালো মণি নিয়ে এক পরাবাস্তব চোখ ভেসে উঠল। একটা শান্ত সুর বেরিয়ে ধীরে ধীরে লতা-পাতা-ফুলে আচ্ছন্ন করে ফেলতে থাকল সারা ঘর। ৯৬৩ হার্জ সলফেজিও ফ্রিকোয়েন্সি। পশ্চিমা সুর। এর ধরন সম্বন্ধে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে একটা আঠাল আচ্ছন্নতায় যে আমার পায়ের পাতা আটকে যাচ্ছে তা বুঝতে পারছি। লতার কর্ষিকা আমার ঘাড়ের ওপর দিয়ে আসছে যাচ্ছে। ঢেকে ফেলছে আমার বাহু, বুক, হাতে ধরা গ্লাস। কানের পাশ তারারা পরস্পর ঘষে ঘষে যেন স্বপ্নের ওপর গুঁড়া ফেলছে।

“কেমন লাগতেসে সাহস?”

“ভালো লাগছে।”

নিঃশব্দে গ্লাসে নিখুঁত দেড় আউন্ড জিন ঢালল রুপাই। এবার লেমোনেড। তারপর চার টুকরো বরফ। গ্লাসটা মুঠো করে ধরে তার ভরটা অনুমান করল। এগিয়ে দিলো আমার দিকে। আমি পানীয়ের ঘ্রাণ বুক ভরে নিলাম। শীতলতার আশীর্বাদে ভেতরটা ভরে উঠল। জিন স্পিরিট ধাঁচের পানীয়। অপরদিকে স্পিরিট- আত্মা। লক্ষ্য করলাম সলফেজিও সুরটা থেকে দুটো ধারা বের হচ্ছে। একটা ধারা একভাবে ৯৬৩ হার্জ ছড়াচ্ছে। আরেকটা ধারা ধীর ওঠা নামা করে একটা সুরেলা আবেশ তৈরি করছে হৃদয়ে। জিনের আত্মা সেই আবেশে আমার আত্মার ভাঁজে বসে গেল। তরঙ্গিত হতে থাকল একই তালে, একই লয়ে।

আজকের মেঘের লাল আগুন আর তার কালচে ছাইয়ের রহস্যময় ভুবন আমার চোখে ভাসতে থাকল।  চোখের নিচে মরা কাশফুল। চোখে পড়ছে না তবু চোখ জুড়ে আছে। ওপরে লাল আকাশ, আর মাটি জুড়ে নীল কুয়াশা। যখনই ভাবছিলাম ওপর থেকে যদি কেউ নিচে তাকায়, হয়ত নিচটা দেখতে পাবে নীল। আর আমরা যারা নীলের ভেতর ডুবে ওপরে আকাশটা দেখছি লাল, তারা ঠিক কতটা লালের ভেতর আছে? তখনই রুপাই আমাকে ডাকল, “সাহস!” “কী ব্যাপার রুপাই?” আমি ঝটিতে পেছন ফিরলাম। “মিরাই…” রুপাই বলল। ওর কণ্ঠ কাঁপছে। একটা কালচে সবুজ শামুক ওর হাতে ধরা। শামুকটার খোলস ফেটে গেছে।

এ মুহূর্তে সামনে বিছানার ওপর পা তুলে আসনপিড়ি হয়ে বসা রুপাইয়ের সঙ্গে সেই রূপাইয়ের মিল নেই। ওই মুহূর্তের পর থেকে ওর চোখে একটা আলো জমতে শুরু করে। যেটা সারাপথে বেড়েছে একটু একটু। এবং বাড়িতে ফিরে ফ্রেশ হয়ে আমাকে নতুন কিছুর মুখোমুখি করার প্রস্তুতি নিতে নিতে হয়ে উঠছে আরো উজ্জ্বল। ওর মুখের ডান পাশটা আলো হয়ে আছে। রুপালি পাত্রে এবার নিজেরটুকু ঢালল রুপাই। নিখুঁত দেড় আউন্স। তারপর টরটর শব্দে লেমোনেড, আর টকাটক-টুনটুন বরফের চারটা টুকরো। হাতে তুলে ভর আন্দাজ করল গ্লাসের। সন্তুষ্ট হয়েছে। চুমুকের জায়গায় নাক ঠেকিয়ে বড় করে ঘ্রাণ নিলো আমারই মতন। ওর গালের ডানপাশে বর্ণালি খেলছে। কিছু একটা বলবে ও, শরীরের ভাষায় তার আভাস। 

“সাহস। অভ্র দেখে এলাম।”

যা আঁচ করছিলাম। “কখন?”

“সেই কাশবনের ভিতর। তুমি যখন একটু এগিয়ে গেলে, পেছন থেকে ডাকলাম। তার আগে।”

যখন আমি তাকালাম, ও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে একটা খোলসফাটা শামুক, কালচে সবুজ।

অভ্র শব্দটা এক যুগ পেছনে নিয়ে গেল আমাকে, যখন এর সঙ্গে প্রথম পরিচয়।

শরীর তিনটি ভাগের সমন্বয়। সূক্ষ্মশরীর, কারণশরীর, স্থূলশরীর। অভ্রে পৌঁছানোর ক্রশিয়াল শর্ত ছিল সূক্ষ্মশরীর। চেতনা যখন শরীরে সূক্ষ্মস্তরটা যাপন করতে থাকে, তখন তৃতীয় চোখ পাতা মেলে। সেই চোখে যে জগত আলো ফেলে তা আমার বা মাশার চেনা জগৎ থেকে আলাদা। সে জগত যে আছে, সাক্ষী রুপাই আর মিরাই। সাক্ষী। আমি দেখিনি, দেখার ক্ষমতা প্রকৃতি দেয়নি আমাকে। আমি কখনো দেখতে পাবও না হয়ত। আমার গাছের গোপন ভুবন দেখে আশীর্বাদ আনিনি, রুপাই যেমন এনেছে। আমার মা বেরিয়ে আসেনি পনের শতকের কোনো ছবি থেকে, মিরাইয়ের মায়ের মতন। সূক্ষ্ম জগতের মাটি, হাওয়া, দৃশ্যবদল, তার অধিবাসী, গাছপালা, ঝোপঝাড়, ঝড়সহ যত নন্দতরঙ্গ- আমরা বিশ্বাস করেছি ওদের মুখে শুনে। ওরা মানে রুপাই-মিরাই। আর আমরা বলতে, আমি আর মাশা।

প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে বেড়াতাম। বসতাম শিখা চিরন্তনের সামনে। কাচের ঘেরাওয়ের ভেতর দাউ দাউ করত আগুনের শিখা। তার সোনালি লতা এক হাত ওপরের কিছু একটা খুব করে ছুঁতে চাইতো, অক্ষম। যেদিন সঙ্গতি মিলত, আমি আর মাশা মিলে মিরাই আর রুপাইকে উস্কে দিতাম। কারণ অভ্রের ভুবনের অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা শোনার লোভ আমরাও কি পারতাম সামলাতে? কিন্তু সব বৃহস্পতিবার ওরা ওদের তৃতীয় চোখ মেলতে পারত না। ভীষণ স্ট্রেসের ব্যাপার ছিল। একেকবারের ধকল সামলাতে দিন পনের লেগে যেত গড়ে। ওরা যখন অভ্র দেখতে পেত, ওদের সূক্ষ্মশরীর যখন অভ্রের ভুবনে অভিযানে ছুটছে, আমরা দুপাশ থেকে ওদের জড়িয়ে রাখতাম।

অভ্রের স্থানকালের সমীকরণ ভিন্ন। সেখানে সময়ের গতি ধীর। অভ্রের উত্তরপূর্ব দিকে একটা পর্বত আছে লাল পর্বত, উত্তর পশ্চিমে আছে নীল। লাল থেকে নীল পর্বতের যে ভূখণ্ড, সেখানে টানা হেঁটে পৌঁছুতে প্রায় বারো ঘণ্টা লেগে যায়। কিন্তু আমার হাতঘড়িতে তখন কখনো দুই কখনো তিন মিনিট পার হয়েছে। সময়টা নির্দিষ্ট নয়, তবে তিন মিনিটের বেশি নয়। পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে অভ্রে যেসব জায়গায় বাতাসের ঘূর্ণি দুর্ভেদ্য চক্রবেড়ি তৈরি করেছে, সেসব জায়গায় গড়ে উঠেছে মেঘের স্তূপপর্বত। লাল-নীল পর্বত দুটো স্তূপপর্বতের উদাহরণ। আরেক পর্বতশ্রেণি আছে দক্ষিণে, ওটা ভঙ্গিলপর্বত। অংশবিশেষের আলাদা আলাদা নাম থাকলেও গোটাটাকে একসঙ্গে ডাকা হয় ইন্দ্র পর্বতশ্রেণি। পৃথিবীতে যেমন হিমালয়, অভ্রে তেমন ইন্দ্র।

মিরাই আর রুপাই ইন্দ্রের এক হাজার মাইলের ভেতর গেলেও এর পরের সীমা অতিক্রম করেনি। ওদের সূক্ষ্মশরীরের সাধ্যের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে। ওদের তৃতীয় চোখের আলো ধারণের সীমাবদ্ধতাও আরেকটা কারণ। পদার্থজগতের আমরা অধিপদার্থের জগতের যে বর্ণচ্ছটা কল্পনাও করতে পারি না। কারণ আমাদের কল্পনা বাস্তবে যা দেখেছি তার কোলাজে সীমাবদ্ধ। রুপাইরা বলত, যখন সূর্য ডোবে, আমাদের দেখা সাত রঙের বাইরে সাতের সহস্র গুণিতক বর্ণালি তৈরি হয় ইন্দ্রের পর্বতসারির আলাদা আলাদা পর্বতচূড়ায়। বৃষ্টিভেজা রাস্তার ওপর যখন জ্বালানি তেলের ফোঁটা পড়ে, তখন যেমন বর্ণালি তৈরি হয়, তার বিচিত্রতাকে যদি অন্তত সাড়ে সাতশগুণ বাড়িয়ে দেখা যেত, ইন্দ্রের বর্ণবিক্ষেপ অর্ধেকটা কল্পনা করা যেত। রংটাকে মিরাই বলত ঐশ্বরিক ময়ূরকণ্ঠি। স্থূলচোখ সেই সৌন্দর্য যদি দেখতে পেত, তার দৃষ্টি নিভে যেত। শুনে বলতাম,  “তোমাদের ওই সূক্ষ্মচোখকে অভিশাপ দেবো না আশীর্বাদ, বুঝতে পারছি না।”

ছয় সরোবরের গল্প করত ওরা। দ্রৌপদি, গুড্রুন, আইসিস, অ্যাটালান্টি, ওশুন, ইনান্না। ওদের অস্থির আধিভৌতিক রেখায়িত ঢেউ আর সাদা, সোনালি, পার্পল, সায়ন, লাল, ফিরোজা রঙ ঘুমের ঘোরে আমার বুকের ওপর চাপ ফেলত। বৃহস্পতিবারের পরদিন শুক্রবার পড়ে, ছুটির দিন, তাই আচ্ছামতো দেরি করে বাড়ি ফেরা যেত। তখনো ক্যাম্পাসজীবন শেষ হয়নি কারো, সংসারের গাঁটছড়া বাঁধেনি মিরাই-রুপাই, আর নিজের সম্পর্কটা নির্ণয় করতে পারিনি তখনো আমি আর মাশা। আড্ডা শেষে মিরাই ধানমণ্ডি চলে যেত, ধানমণ্ডি সাতে, রুশ কালচারাল সেন্টারের উল্টো দিকে ওর বাড়ি। আমি, মাশা, রুপাই একসঙ্গে মিরপুরের পথে যেতাম। আমি দশ নম্বরে নেমে যেতাম। মাশা পূরবীতে। আর মিরপুর বারোতে রুপাই। কোনো কোনোদিন দশ নম্বরে নামতাম না আমি, পূরবীতে নামতাম মাশার সঙ্গে। রুপাই খুব সহজ মুখ করে বিদায় জানাত, কিন্ত নামতে না নামতেই শুনতাম ও ঠা ঠা করে হাসছে। দুষ্টের একশেষ। আমি আর মাশা আমাদের প্রিয় একটা রাস্তা ধরে হেঁটে যেতাম এরপর। যে রাস্তাটাকে এক অন্ধকার রাতে দুজন একসঙ্গে ভালোবেসেছিলাম।

বদ্ধ ঘরে প্রিয় পানীয় হাতে বসে সলফেজিও অতীত জাগানিয়া সুর শুনতে শুনতে কত বিস্তর বেড়িয়ে আসছি। ওদিকে যার কথা শুনব বলে এসেছি, সে তো কোথায় হারিয়ে গেছে। রুপাইয়ের দৃষ্টি আমার পেছনের জানালা পেরিয়ে বাইরের অন্ধকারে, ওখানে টুকরো টুকরো কোয়ান্টামলোক। রুপাই তাদের এক শব্দে বাঁধতে চাচ্ছে। অভ্রে ও গেল কী করে তা এখনো আমার প্রশ্ন। দুটো প্রাথমিক শর্তের অন্তত একটা পূরণ হতে হয়। এক সঙ্গী, দুই আহ্বায়ক। সঙ্গী নেই, গোলাপি কাঠগোলাপ আজ ছয় বছর হলো মিরাইয়ের কবরে সুবাস ছড়াচ্ছে। বাকি থাকে আহ্বানকারী। কে আহ্বান করবে ওকে? যতদূর জানি সেই বিপর্যয়ের পর আহ্বানকারীর সঙ্গেও ওর সূত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ইচ্ছে হলো ওকে আঘাত করি।

“কী করে গেলে অভ্রে? মুখ রেখেছ যাওয়ার? মিরাইকে দেখলেই যদি, কেন ওকে না নিয়ে ফিরলে।”

“বলছি!”

Series Navigation<< উপন্যাস// পার্পল সন্ধ্যা// হামিম কামাল// পর্ব একউপন্যাস।।পার্পল সন্ধ্যা।। হামিম কামাল।। পর্ব তিন >>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *