ছোটগল্প ।। জাপানের চিঠি।। শামছুন নাহার

রিনা সেদিন  হঠাৎ করেই দুপুরে  ঘুমিয়ে পরেছিল,  কারন আকাশ মেঘে ছেয়ে আসলো, তার সাথে ঠান্ডা  বাসাত বইতে শুরু  করলো,  তার সাথে  বৃষ্টি !  ঘুম ভাঙ্গলো  তখন সন্ধা নামে নামে। রিনা দেখে এক যুবক ভদ্রলোক  তাদের বাড়িতে। সে গতকাল  তাকে স্কুলে দেখেছে, সবাই বলছিলো বড় বিদ্যান তিনি নাকি এম এস সি পাস! তা এখানে কি করছে। তার ছোট ভাই   সাদ কে জিজ্ঞস করলো, স্কুলের  মাষ্টার  এখানে
কি করছে! সাদ বললো স্কুল বোডিং  এ আপাতত ছিট নাই তাই কিছুদিন  এখানে থাকবে, স্কুল কমিটির তাই সিদ্ধান্ত। স্কুলে  সবাই রায়ান স্যার বলে কথা বলছিলো, সে ফিজিক্স  এ এমএস সি করেছে রাজশাহী  ইউনিভার্সিটি  থেকে। তাইনাকি! এই স্যারটা এখন আমাদের  বাড়ি থাকবে, হু আপু  স্যার কিছুদিন  থাকবে।শুনেছি এই নতুন  স্যারটা অংকের শিক্ষক।

রিনা রা ৬ ভাইবোন! রিনা সবার বড়, রিনা দেখতে  শ্যামলা, চুল বড়বড় ঘন কালো, তারা সচ্ছল পরিবার।  তাদের  বাড়ি  স্কুল  থেকে কোয়াটার  মাইল  দুরে। রিনা র ক্লাসে আজ  রায়ান , স্যার  আসছিলো, ভাল অঙ্ক
করায়,। রায়ান দেখতে   সুন্দর,  শ্যামলা,  প্রসস্ত  কপাল, উন্নত নাসিকা, দেখতে বেশ লম্বা, তাছাড়া  তার বড় ডিগ্রি আছে এটাই  তার বড় সম্পদ। রিনা দের আঙ্গিনায়  গোলাপ  গাছে আজ গোলাপ  ফুটেছে সেই  গোলাপটা রিনা নুতন স্যারকে দিয়ে বললো স্যার আপনিও প্রথম গোলাপও প্রথম ফুটেছে , যখন সে অঙ্ক, করতে গিয়েছিল  তার কাছে।

আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে একটা আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। এখন তারা স্কুলে  একসাথে  য়ায়, একসাথে  আসে।রিনার বাড়ির সবাই রিনাকে রায়ানের পাশে দেখতে পছন্দ করে,তারা ভাবে রায়ান তাদের মেয়ের সাথে বেশ মানাবে, রায়ান বিয়ের পাত্র হিসেবে চমৎকার। রিনা বাড়ির  আস্কারা পেয়ে আরো মনযোগী  হয়ে স্যারকে আগ্রহ সৃষ্টি  করত  লেগে যায়। রায়ান একটা ঘোরের মধ্যে  থেকে পরে  অবশেষে,  বিয়ে  করে ফেলে রিনাকে। এখানে তাদের  মধ্যে  কতটুকু  প্রেম ভালবাসা  হয়ে ছিল বলা যায় না, তবে কাছাকাছি  আসতে পেরেছিল তারা, কারন একই বাড়ীতে থাকার কারনে।
কিছুদিন পর রায়ানকে  পি এইসব ডি করতে জাপান  যেতে হচ্ছে কারন সে স্কলারশিপ পেয়েছে। তখন রিনা প্রেগনেন্ট, বললো পরে রিনাকে নিয়ে যাবো। রায়ান  একাই জাপান চলে গেল।

অনেকদিন  আর তার  কোন খবর নাই, কালে ভদ্রে একটা চিঠি আসে, মাঝে দুই-একবার  এসেছে, তার একটা মেয়ে  হয়েছে,  সেও এখন বেশ বড়,হয়েছে। মেয়েকে ও নিয়মিত  টাকা পয়সা দেয় না, খোঁজ খবর নেয় না তেমন,, 

অনেকদিন পর দেশে এসেছে, সাথে জাপানি মেয়ে বিয়ে করে এনে ঢাকায় একটি অভিজাত হোটেলে উঠেছে। রিনা খবর পেয়ে কিছু মিষ্টি  ও রান্না করে দেখা করতে আসছে। রিনা মিষ্টি  খাইয়ে  বরণ করার চেষ্টা  করছিলো, কারন সে অসহায় এতদিন বাবার বাড়িতে  আছে, কোন মতে মেট্রিক পাশ করে।

যেই মিষ্টি  খাওয়াতে গেছে  ঠাস করে রিনাকে  চড়ে মেরেছে, হাতের পানির  গ্লাসটা  ফেলে দিয়ে ভেঙ্গে ফেললো সেই জাপানি  মেম। তখন রিনা ফিরে আসলো রিনা এতদিনে বুঝতে পেরেছে তার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য লেখা পড়া করা দরকার। আবার পড়ালেখা শুরু করবে বলে মনোস্থির করলো। এর মধ্যে রিনা শশুড় বাড়ি গেছে, তারা রিনাকে  ভালবাসে, যদিও তার স্বামী  এখনো জাপানে থাকে। রিনা যখন শশুড় বাড়ি,  তখন রিনার বাবার বাড়ি  একখানা জাপান থেকে চিঠি  এসেছে। রিনার ভাই রিনাকে  নিয়ে  আসলো শশুর বাড়ী থেকে, তারপর চিঠি দেখালো, চিঠির সাথে রিনার ডিভোর্স লেটার। রিনা তখন অসহায়, তার স্বামী  এতটা করতে পারে ঘুনাক্ষরেও ভাবে নাই। দুইদিন খাওয়া দাওয়া কথাবার্তা বন্ধ করে ঘরে চুপ করে বসে থাকলো, তারপর ধীরে ধীরে নিজেকে সামলিয়ে, মনে মনে স্থির করলো, আবার পড়ালেখা করতেই হবে।

রিনা আরো লেখা পড়ায় মন দিল। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে এমে পাশ করে,  এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষকহয়ে  সেখানেই চাকরী করে। রিনার  একমেয়ে, ও তার ছাত্রছাত্রী তাদের নিয়ে তার দিন কাটে এখন।

.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *